ব্যক্তিগত ব্যাটিং নৈপুণ্যই শুধু আলো ছড়ালো

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৭:১০, মার্চ ০৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৩, মার্চ ০৩, ২০১৯

dc54f779d3fa90658de21a2173bdd285-5c7a4e5caa626দুই দলের প্রথম ইনিংসের ফারাকটাই ম্যাচে ফলাফলের সমীকরণ টেনে দিয়েছিল। এত বিশাল রানে পিছিয়ে ম্যাচে ফেরত আসার রাস্তাটা এককথায় প্রায় অসম্ভবই ছিল। প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর তৃতীয় দিন শেষে একই অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি দেখে অর্থাৎ চমৎকার সূচনার পর ৪ উইকেট হারানো দেখে হতাশাটা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। সংশয় ছিল চতুর্থ দিনে আমরা উইকেটে কতটুকু দখল নিতে পারবো। জুটি হলো এবং দুজনই সেঞ্চুরির দেখা পেলেন এবং বড় ব্যবধানে হারার পরও তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ ও সৌম্য সরকারের সেঞ্চুরির কল্যাণে দল পরের ম্যাচে লড়াই করার প্রেরণাটুকু অর্জন করলো।

সঙ্গীর অভাবে দলনায়ক মাহমুদউল্লাহ তার ইনিংসটি মনের মতো করে খেলতে পারলেন না। একটা সময় আমার মনে আশা ছিল, সৌম্য ও তার পার্টনারশিপটা আরও বড় হবে এবং একজন অন্তত দুইশ রানের ফলক স্পর্শ করবেন। সৌম্য আজ তাদের বাউন্সার দিয়ে ধরাশায়ী করার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছেন দারুণ কাউন্টার অ্যাটাক ও বল ছেড়ে দেওয়ার সমন্বয়ের মাধ্যমে। কিন্তু এমন সেট ব্যাটসম্যানের এমন বলে আউট বেদনাদায়ক লেগেছে। ১৫০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করার জন্যই সম্ভবত আড়াআড়িভাবে সৌম্যর ব্যাটটা নেমেছিল ১ রানের খোঁজে, নইলে ব্যাট সোজা রাখলে এই বল মাঝ ব্যাটেই লাগতো। সাইকোলজিক্যাল ব্যাটলে নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞ বোলার ট্রেন্ট বোল্ট সঠিক লেন্থ ও লাইনে বল ফেলে দারুণ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। সৌম্যর কিছু এক্সট্রা কাভার ড্রাইভ এই ইনিংসে ছিল দেখার মতো।

মাহমুদউল্লাহর ইনিংসটি ছিল অনেক দায়িত্বশীল। কোনও ঝুঁকি ছাড়া চোখ ধাঁধানো কিছু ব্যাকফুট কাভার ড্রাইভ আর সঠিক সময়ে পুল শট সৌন্দর্যের উপরে স্থান পেয়েছে। সৌম্য ও মাহমুদউল্লাহ দুজনই লম্বা হওয়ায় পুল, হুক ও ব্যাকফুট ডিফেন্সের পুরো সুবিধা নিতে পেরেছেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বলে টেস্ট মেজাজে রুখে দিয়েছেন এবং বাড়তি লোভ সম্বরণ করে বাইরের বল ছাড়ার ব্যাপারে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

এই টেস্টে দুই ইনিংসেই দারুণ দক্ষতার সাথে এক দিনের মেজাজে তামিম ব্যাট করেছেন, দ্বিতীয়ত শাসন করেছেন নিউজিল্যান্ড বোলারদের। শুধু টেস্টের ব্যাটিং আর টেম্পারমেন্টের সংযোজন এবং বাউন্সার ছাড়ার কৌশলে জনসংযোগটা পরবর্তী ম্যাচে বাড়াতে হবে। আমাদের ব্যাটসম্যানরা নিউজিল্যান্ডের অনেক অভিজ্ঞ বোলারদের বিপক্ষে নেহাৎ মন্দ ব্যাট করেননি। দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ে ছিল উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। তবে দুর্বল ক্যাচিং আমাদের এই টেস্টে পিছিয়ে দিয়েছে। অনভিজ্ঞ পেস বোলিংকে খুব বেশি দায়ী করা যাবে না, কারণ পিচটি ছিল অসাধারণ ব্যাটিং বান্ধব এবং তারা সবাই জীবনে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডে তাদের জাতীয় দলের বিপক্ষে খেলছে। তবে এই ম্যাচে খেলা সবাই নিজের বোলিংয়ের উন্নতির ক্ষেত্রগুলো যদি অনুধাবন করতে পারে এবং প্রতিপক্ষের বোলিংয়ের কৌশল থেকে মস্তিষ্কে কিছু ধারণ করতে পারে, তবে দল নিশ্চয়ই ভবিষ্যতে উপকৃত হবে।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ