ফুটবলের জন্য নাম ‘বিসর্জন’

Send
তানজীম আহমেদ
প্রকাশিত : ১৯:৪৭, মার্চ ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৬, মার্চ ১৪, ২০১৯

নাম বিভ্রাটের কারণে মাঝে মাঝে ঝামেলায় পড়তে হয় সুফিলকে

ফুটবলাঙ্গনে তার নাম মাহবুবুর রহমান সুফিল। জাতীয় দলে এই নামেই খেলেন তিনি, পাসপোর্ট নামও তা-ই। অথচ তার পারিবারিক নাম আলাদা। জাতীয় দলের ফরোয়ার্ডের পারিবারিক নাম আবু সুফিয়ান সুফিল। নাম বিভ্রাটের কারণে মাঝে মাঝে ঝামেলাতেও পড়তে হয় তাকে।

সুফিলের এই রূপান্তরের নেপথ্য ঘটনা বেশ নাটকীয়। বছর পাঁচেক আগে এয়ারটেল রাইজিং স্টার প্রোগ্রাম নামে একটি প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয়েছিল সুফিল সহ ১২ জনকে। এই ১২ জন ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছিলেন।

সিলেটের শ্রীমঙ্গল একাডেমিতে অনুশীলন করে উঠে আসা সুফিলকে অবশ্য শুরুতে ভালোই সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। আবু সুফিয়ান সুফিল নামে প্রথমে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন রাইজিং স্টার প্রোগ্রামে। এরপর নাম পরিবর্তন করে মাহবুবুর রহমান সুফিল হন তিনি, আর এই নামেই সেরা ১২ জনে ঠাঁই পেয়ে চলে যান ম্যানচেস্টারে। আর তারপরই বদলে যায় তার জীবন।
এ মৌসুমে শক্তিশালী বসুন্ধরা কিংসের একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন সুফিল, খেলছেন জাতীয় দলেও। গত সপ্তাহে কম্বোডিয়ার মাঠে বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম রূপকার তিনি। তার অ্যাসিস্টেই জয়সূচক গোল করেছেন রবিউল হাসান।

ক্লাব থেকে জাতীয় দল—সব জায়গায় তার নাম এখন মাহবুবুর রহমান সুফিল। পারিবারিক নাম হারিয়ে গেলেও তার মনে কোনও আক্ষেপ নেই। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘এয়ারটেল রাইজিং স্টার প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার জন্য পারিবারিক নাম বদল করি। তখন আসলে কিছু করার ছিল না। আমি ভালো ফুটবলার হতে চেয়েছিলাম বলেই নাম বদল করি। এখন মাহবুবুর রহমান সুফিল নামেই সবাই আমাকে চেনে।’
যদিও পরিবারের সবার কাছে তিনি এখনও আবু সুফিয়ান, ‘পাসপোর্ট সহ ফুটবলাঙ্গনে মাহবুবুর রহমান হলেও পরিবারের কাছে আমি আবু সুফিয়ান। আমার দাদী অনেক শখ করে এই নাম রেখেছিলেন। কী আর করার আছে! পাসপোর্টের নাম তো বদলে দেওয়া যায় না।’

শুধু নাম পরিবর্তন হয় নি, মাঠে পজিশনেও বদল এসেছে সুফিলের। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেললেও এ মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসে খেলছেন ডিফেন্ডার পজিশনে। ক্লাবের স্বার্থে এত বড় পরিবর্তন মেনে নিয়েছেন তিনি, ‘বসুন্ধরায় আমার পক্ষে ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলা কঠিন। কারণ দলে মতিন মিয়া সহ কয়েকজন ফরোয়ার্ড আছে। তাই কোচ অস্কার ব্রুজোন আমাকে ডিফেন্ডার পজিশনে খেলাচ্ছেন, আর আমি তা মেনেও নিয়েছি। তবে অনুশীলনে কিংবা ম্যাচে প্রায়ই ওপরে উঠে খেলার চেষ্টা করি।’

জাতীয় দলে অবশ্য ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলছেন তিনি। বাংলাদেশের কোচ জেমি ডে দলে একজন ‘বহুমুখী’ প্রতিভা পেয়ে দারুণ খুশি, ‘জাতীয় দলে আমরা একটা অলরাউন্ডার পেয়েছি। এটা দলের জন্য ইতিবাচক ব্যাপার। সুফিল যেমন প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে পারে, তেমনি আক্রমণও করতে পারে। জাতীয় দলে সুফিল ভালোই খেলছে। সে বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যত তারকা।’ 

/টিএ/এএআর/

লাইভ

টপ