লিপুর বিশ্বকাপ দলে নেই তাসকিন-ইমরুল

Send
রবিউল ইসলাম
প্রকাশিত : ১৯:৫৯, এপ্রিল ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২৫, এপ্রিল ১৪, ২০১৯

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে কোন ১৫ জন সুযোগ পাবেন? ক্রিকেট মহলে এটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। ১৮ এপ্রিল দল ঘোষণার কথা। বিশ্বকাপ দল নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের বিশেষ আয়োজনে আজ থাকছে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর বিশ্লেষণ।

সাবেক এই ক্রিকেটার ১৯৯৭ সালে ছিলেন আইসিসি ট্রফি বিজয়ী বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজার, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল কেমন হওয়া উচিত, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন তিনি। তার দলে অবশ্য আলোচিত চার ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ, শফিউল ইসলাম, ইমরুল কায়েস ও ইয়াসির আলী রাব্বি নেই।

ঠিক কী চিন্তা থেকে তার এই বিশ্বকাপ দল- এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনকে, ‘পাবলিক সেন্টিমেন্ট কিংবা পারফরম্যান্স বিবেচনা করে অনেক সময় বিশ্বকাপ দল নির্বাচন করা হয়ে থাকে। অতীতে এমন অনেক কিছুই আমরা দেখেছি। তবে এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খুব বেশি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে না। সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলা দলটির বেশিরভাগ ক্রিকেটারই থাকবেন বলে মনে হচ্ছে। নির্বাচকরা খুব কাছ থেকে ক্রিকেটারদের খেলা দেখে দল নির্বাচন করেন। আমার সেই সুযোগ নেই। তবুও বিগত দিনের পারফরম্যান্স ও আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি দলটি নির্বাচন করেছি।’

সাবেক অধিনায়ক লিপু টপ অর্ডার কিংবা মিডল অর্ডার কোথাও অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েসকে রাখেননি। যথারীতি টপ অর্ডারে তামিম ইকবাল ও লিটন দাসকে রেখেছেন। ওপেনিংয়ে সৌম্যকে রেখেছেন ব্যাকআপ হিসেবে। মিডল অর্ডারে সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মোহাম্মদ মিঠুনকে রেখেছেন।

ইমরুলকে বাদ দেওয়া এবং সৌম্যকে বিশ্বকাপ দলে রাখার ব্যাখ্যায় গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেছেন, ‘গত বিশ্বকাপে এনামুলের বাদ পড়ার পর সৌম্য টপ অর্ডারে সুযোগ পায়। কিন্তু ২০১৫ সালের দেশের মাটিতে পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলা সেই সৌম্যকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে কই? বিশ্বকাপের আগে হট সিটে কোনওভাবেই তিনি নেই। তবুও ব্যাকআপ হিসেবে সৌম্যকে আমি বিশ্বকাপ দলে রাখবো। ইমরুলকে আমি রাখতে পারছি না। কারণ দীর্ঘদিন ধরে খেলেও নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। বাউন্স ও পেসের কারণে তাই সৌম্য টিকে গেছে।’

সাবেক এই অধিনায়ক ৭/৮ নম্বরে রেখেছেন সাব্বির রহমানকে। এছাড়া সাব্বিরের বিকল্প হিসেবে রেখেছেন মোসাদ্দেককে। মোসাদ্দেকের অফস্পিন করার দক্ষতাই তাকে দলে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে, ‘মোসাদ্দেককেও ৭/৮ নম্বরে রেখেছি। ওর বোলিংটা ওকে এগিয়ে রেখেছে। এছাড়া সাব্বির খারাপ করলে বিকল্প হিসেবে মোসাদ্দেককে ব্যবহার করতে পারবে মাশরাফি। পাশাপাশি বাংলাদেশ যদি চারজন পেসার নিয়ে খেলতে চায়, সেক্ষেত্রে সাকিবের পাশাপাশি মোসাদ্দেক ও মাহমুদউল্লাহর স্পিন বোলিংটা কাজে লাগানো যাবে।’

কিছু খেলোয়াড়কে অবশ্য বাড়তি রাখার আলাদা উপযোগিতা আছে। যেমন মোসাদ্দেক হোসেন। কারণ নিকট অতীতে তেমন পারফরম্যান্স নেই তার। গাজী আশরাফ হোসেন লিপু সেই কথা তুলে ধরে জানালেন, ‘মোসাদ্দেক সম্প্রতি অসাধারণ কোন পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারেননি। তারপরও ভবিষ্যতের জন্য কিছু খেলোয়াড়কে এগিয়ে নিতে এমন কিছু পদক্ষেপ নিতেই হবে।’

এদিকে অলরাউন্ডার হিসেবে লিপুর বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। লিপু মনে করেন চার পেসার নিয়ে কম্বিনেশন সাজানোর ক্ষেত্রে সাইফউদ্দিন হতে পারেন মাশরাফি অন্যতম অস্ত্র। তার সঙ্গে সাইফউদ্দিনের ব্যাটিংটা ৮/৯ নম্বরে দলের জন্য কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।

পেস বোলিং বিভাগে লিপুর পছন্দ চারজন। ইংলিশ কন্ডিশনে খেলতে হবে বলেই কিনা স্পিনার কম নিয়ে দলে একজন অতিরিক্ত পেসার খেলানোর পক্ষে তিনি। আর সেই তিনজন হিসেবে তিনি দলে নিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন ও আবু হায়দার রনিকে। জায়গা পাননি তাসকিন আহমেদ কিংবা শফিউল ইসলামের কেউ। এ ব্যাপারে সাবেক এই অধিনায়কের ব্যাখ্যা, ‘ইংল্যান্ডের মতো কন্ডিশনে পেসারদের ওপর ধকল সবচেয়ে বেশি যাবে। মাশরাফি, রুবেল ও মোস্তাফিজের পর চতুর্থ পেসার হিসেবে আমি আবু হায়দার রনিকে চিন্তা করবো। দারুণ উদ্দীপ্ত, ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে অন্তত উজ্জ্বল। তবে তাসকিনকে আমি রাখতে পারছি না।’

তাসকিনকে না রাখার কারণ হিসেবে তিনি জানান, ‘বিপিএলে হয়তো ভালো করেছে। কিন্তু ইনজুরিতে থেকে ফেরার পর এমন অবস্থায় বিশ্বকাপের মতো আসরে তাকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এখানে আবেগের বশবর্তী হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। বাস্তববাদী হয়ে দল নির্বাচন করতে হবে।’

২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ছিলো স্মরণীয়। কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিলো। এরপর ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনালে বাদ পড়ে জন্ম দেয় আরেকটি হতাশা। তাই এবার আগামী মে থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশিদের স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়া। সাবেক ক্রিকেটার লিপুও মনে করেন তেমনটা। সেক্ষেত্রে দলের অভিজ্ঞ ৫ ক্রিকেটারকেই সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে, ‘বিশ্বকাপে ভালো করতে হলে আমাদের অভিজ্ঞ পাঁচ জনের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে। কেননা গত ৫ বছর আগে যারা সুযোগ পেয়েছে, তারা দলে থাকলেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারেনি। এই বিশ্বকাপেও পঞ্চপাণ্ডবকে আসল ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিগত ৫ বছরে তাসকিন-এনামুল-মোসাদ্দেক-সৌম্য-লিটন-তাইজুল-শফিউল কেউই কিন্তু দলে স্থায়ী হতে পারেননি। এটা কিছুটা শঙ্কার। এই শঙ্কা দূর করতে হলে অভিজ্ঞদের পারফরম্যান্সের বিকল্প নেই।’ 

নিজের গড়া দল নিয়ে ব্যাখ্যাটা আরও স্পষ্ট করেছেন লিপু। জানালেন কীসের ভিত্তিতে তার এই দল গড়া, ‘আমি আবেগে নয়, বাস্তবতার নিরিখেই এই দল গড়েছি। আরেকটা বিষয় মনে রাখতে হবে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের সঙ্গে এবারের ২০১৯ সালের বিশ্বকাপকে মেলালে চলবে না। এবার গরমের সময়ে খেলা। উইকেট খানিকটা ভিন্ন থাকবে। ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বটা সবচেয়ে বেশি থাকবে।’

বিসিবি কিংবা নির্বাচকরা তার মতকে কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছে, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত।

লিপুর বিশ্বকাপ দল

টপ অর্ডার: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন দাস

মিডল অর্ডার: মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ মিঠুন

লেট অর্ডার: সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন

অলরাউন্ডার: সাকিব আল হাসান, সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ

পেসার: মাশরাফি বিন মুর্তজা, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ও আবু হায়দার রনি।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ