‘এত তাড়াতাড়ি বিশ্বকাপ খেলার কথা ভাবিনি’

Send
রবিউল ইসলাম
প্রকাশিত : ২১:১১, এপ্রিল ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১১, এপ্রিল ১৬, ২০১৯

পাঁচটি টেস্ট ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেললেও এখনও ওয়ানডে খেলা হয়নি। তাই বিশ্বকাপ দল ঘোষণার আগে আবু জায়েদ রাহীকে নিয়ে তেমন আলোচনা ছিল না। অথচ বিস্ময়ের জন্ম দিয়ে তিনি আজ বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে। ইংল্যান্ডের টিকিট হাতে পেয়ে রাহী নিজেও অবাক! স্বপ্নপূরণের দিনে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে প্রাণখোলা আড্ডায় মেতে উঠলেন ২৫ বছর বয়সী এই পেসার।

বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়ে রাহী নিজেই অবাকবাংলা ট্রিবিউন: ওয়ানডে না খেলেই বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়ে অবাক হয়েছেন?

আবু জায়েদ রাহী: (হাসি) কিছুটা অবাক তো হয়েছিই। আসলে অনেক জায়গা থেকে শুনছিলাম দলে থাকতে পারি। ধারণা ছিল, ২০ জনের দলে থাকবো। তবে ১৫ জনের দলে থাকার কথা কল্পনাই করিনি।

বাংলা ট্রিবিউন: কখন জানতে পারলেন আপনি বিশ্বকাপ দলে আছেন?

রাহী: দল ঘোষণার আগে নিশ্চিত হতে পারিনি। অনেকেই বলছিল, আমি বিশ্বকাপ দলে আছি। কিন্তু তাদের কথা বিশ্বাস হয়নি। যদিও গতকাল (সোমবার) মাশরাফি ভাইয়ের কথায় মনে হচ্ছিল আমি দলে থাকতে পারি। তবু অনিশ্চয়তা ছিল। আজ দল ঘোষণার পর নিশ্চিত হয়েছি।

বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন তো সবারই থাকে। দলে সুযোগ পেয়ে আপনার অনুভূতি কী?

রাহী: প্রত্যেক ক্রিকেটারেরই বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে খেলার স্বপ্ন থাকে। আমিও সেই স্বপ্ন বুকে নিয়ে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিলাম। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি যে স্বপ্নপূরণ হবে, তা ভাবতেই পারিনি। অবশ্য এখনই স্বপ্নপূরণের কথা বলা যাবে না। কারণ বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে খেলা আছে। সেখানে ভালো খেলতে পারলেই বিশ্বকাপ দলে স্থায়ী হতে পারবো। এমনিতে খুব ভালো লাগছে। এই ভালো লাগা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবে আমি স্থির থাকতে চাই, নিজেকে মেলে ধরতে চাই।

ইংলিশ কন্ডিশনে সুইং বল দিয়ে সাফল্য পেতে আত্মবিশ্বাসী রাহীবাংলা ট্রিবিউন:  সুখবরটা শুনে আপনার পরিবারের কে সবচেয়ে খুশি?

রাহী: মা সবচেয়ে খুশি হয়েছেন। দলে সুযোগ পাওয়ার পর মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। আসলে পরিবারের সবাই খুব খুশি হয়েছে। তাদের খুশি দেখে আমারও খুব ভালো লাগছে।

বাংলা ট্রিবিউন: দল ঘোষণার পর মাশরাফি কিংবা নির্বাচকদের সঙ্গে কথা হয়েছে?

রাহী: সব সময়ই তো কথা হয়। তবে আজকে কথা হয়নি। তারা আমার ওপরে আস্থা রেখেছেন, সেজন্য ধন্যবাদ। সুযোগ পেলে তাদের আস্থার প্রতিদান দিতে চাই।

বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্বকাপের মতো বিশাল মঞ্চে আপনার লক্ষ্য কী?

রাহী: বিশ্বকাপ অনেক বড় মঞ্চ। এই টুর্নামেন্টে ভালো করা মানে লাইম লাইটে চলে আসা। অবশ্যই বিশ্বকাপে ভালো করতে চাই, তবে তার আগে আয়ারল্যান্ডে ভালো করতে হবে। আপাতত আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজ নিয়ে ভাবছি।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার বোলিংয়ের অন্যতম অস্ত্র সুইং, আর বলে সুইং করানোর দক্ষতার জন্যই আপনি বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন। এই অস্ত্র কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ডে সাফল্য পাবেন?

রাহী: আমি জানি, বলে সুইং করাতে পারি বলেই আমাকে নেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ডের উইকেটগুলো সুইং করানোর জন্য আদর্শ। আমি আত্মবিশ্বাসী, ইংলিশ কন্ডিশনে নিজের অস্ত্র ব্যবহার করে সাফল্য পাবো।

নিউজিল্যান্ড সফরের অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপে কাজে লাগাতে চান তিনিবাংলা ট্রিবিউন: সামনের কঠিন চ্যালেঞ্জের জন্য আপনি কতটা প্রস্তুত?

রাহী: ক্রিকেট খেলায় চ্যালেঞ্জ সবচেয়ে বেশি, আর এই চ্যালেঞ্জ জিততে আমি প্রস্তুত। আমি জানি, আমার দায়িত্বটা কী। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে সুযোগ পেলে নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করবো। আয়ারল্যান্ডের কন্ডিশন অনেকটা ইংল্যান্ডের মতো। তাই বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডেই প্রস্তুতিটা সেরে নিতে পারবো।

বাংলা ট্রিবিউন: নিউজিল্যান্ডে দুটি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা কতটা কাজে আসবে?

রাহী: নিউজিল্যান্ড সফরের অভিজ্ঞতা অবশ্যই কাজে আসবে। ওখানে ঠাণ্ডা আর বাতাস দুটোই ছিল। এই দুটোর সঙ্গে লড়াই করে আমাকে বল করতে হয়েছে। আর এটা তো সবারই জানা যে নিউজিল্যান্ড আর ইংল্যান্ডের উইকেট ও কন্ডিশনের মধ্যে অনেক মিল।

/আরআই/এএআর/

লাইভ

টপ