ইতিহাস গড়া ইরানি বক্সার দেশে ফিরলেই গ্রেফতার!

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:১০, এপ্রিল ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫২, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

ইরানি বক্সার সাদাফ খাদেমভেবেছিলেন দেশে ফিরে বড় কোনও সংবর্ধনা পাবেন। জয়ের উল্লাসটা তাই একটু বেশিই ছিল সাদাফ খাদেমের। ইরানের প্রথম মহিলা হিসেবে অফিসিয়াল কোনও বক্সিং ম্যাচ জেতা বলে কথা। কিন্তু না, দেখলেন মুদ্রার উল্টো পিঠ। সংবর্ধনা তো দূরে থাক, দেশে ফিরলেই গ্রেফতার হবেন সাদাফ!

শনিবার পশ্চিম ফ্রান্সের রয়ো শহরে অ্যামেচার বক্সিং ম্যাচে স্থানীয় অ্যান শ্যঁভার বিপক্ষে নেমেছিলেন সাদাফ। ম্যাচটি জিতেওছেন তিনি। ইচ্ছা ছিল জয়ের খুশি দেশে ছড়িয়ে দিতে তার ইরানিয়ান বংশোদ্ভূত কোচকে সঙ্গে করে ফিরবেন তেহরানে। টিকিটও কাটা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ইরানের জাতীয় পতাকার সঙ্গে মিলিয়ে বানানো হাতাকাটা গেঞ্জি ও হাফ প্যান্ট পরে বক্সিং রিংয়ে নামায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফরাতি পরোয়ানা জারি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাদাফ। তাই দেশে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন এই বক্সার।

এ ব্যাপারে ইরান থেকে কোনও মন্তব্য আসেনি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’। তবে ইরান বক্সিং ফেডারেশনের প্রধান হোসেন সুরি গ্রেফতারের খবর উড়িয়ে দিয়েছেন। ইরানিয়ান এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘সাদাফ (ইরান) বক্সিং ফেডারেশনের সদস্য নন। যে কারণে বক্সিং বিষয়ে যে কোনও কার্যক্রম সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।’

বক্সিং প্রতিযোগিতায় রেফারি ও বিচারকদের চাহিদা অনুযায়ী হাতকাটা গেঞ্জি ও হাফ প্যান্ট পরে নামতে হয়েছিল ২৪ বছর বয়সী সাদাফকে। এর ওপর আবার তার মাথায় ছিল না হিজাব। সেটাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানে নামলেই গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কায় এখন ফ্রান্সেই থেকে যাচ্ছেন তিনি।

দেশে ফিরে কোথায় ভেবেছিলেন বীরোচিত সংবর্ধনা পাবেন, তা নয়, প্রথম মেয়ে হিসেবে ইতিহাস লেখার পরও জন্মভূমিতে ফিরতে পারছেন না সাদাফ। তাই আক্ষেপ করে ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’কে এই বক্সার বলেছেন, ‘ফ্রান্সে অফিসিয়াল ম্যাচে লড়াই করেছি। আমি যে শর্টস ও টি-শার্ট পরে খেলেছি, সেটা বিশ্বের সব দেশের নজরেই স্বাভাবিক। আমি আমার দেশের আইনে হতবাক।’ সঙ্গে তার প্রশ্ন, ‘আমি হিজাব পরে খেলেছি, আমার কোচ একজন পুরুষ- এটাই কি আমার দোষ?’

ইরানের আইন অনুযায়ী, ৯ বছর ঊর্ধ্ব মেয়েদের হিজাব পরে বাইরে বেরোনো বাধ্যতামূলক। আইন না মানলে সেই মেয়ের ১০ দিন থেকে দুই মাসের জেলের শাস্তি কিংবা আর্থিক জরিমানা দিতে হতে পারে। আর খেলার মাঠে নিয়মটা আরও কঠিন। ইরানিয়ান মহিলা ক্রীড়াবিদকে অবশ্যই চুল, ঘাড়, বাহু ও পা সম্পূর্ণ রূপে ঢেকে খেলতে হবে।

কোচ মাহিয়ার মনশিপুরের সঙ্গে সাদাফ খাদেমখেলার মাঠের এই নিয়ম নিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সঙ্গে কম বাদানুবাদ হয়নি ইরানের। অলিম্পক কর্তৃপক্ষ অন্য সবার মতো, তাদের মেয়েদেরও একইভাবে মাঠে পারফর্ম করার পক্ষে রায় দিয়েছিল। যদিও ইরানের যুক্তির সামনে হিজাব পরেই খেলার অনুমতি দিতে বাধ্য হয় অলিম্পিক কমিটি। ফুটবল মাঠে মেয়েদের দর্শকের ভূমিকা থাকা নিয়েও ছিল ইরানের ঘোর আপত্তি। তবে সেই নিয়ম শিথিল করে ৩৫ বছর পর ফুটবল মাঠে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন ইরানের মেয়েরা।

সেই ক্রীড়াঙ্গন নিয়েই আরেকবার শিরোনামে ইরান। এবার এক বক্সারের ছোট কাপড় পরার কারণে। যাকে নিয়ে আলোচনা, সেই সাদাফের জন্য ম্যাচটি আয়োজন করেছিলেন তার কোচ মাহিয়ার মনশিপুর। ইরানের হয়ে বিশ্ব লাইটওয়েট ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়নও হয়েছেন যিনি। এখন প্যারিসেই থাকেন মাহিয়ার। অ্যামেচার প্রতিযোগিতাটি জেতার পর শিষ্যের সঙ্গে তারও যাওয়ার কথা ছিল ইরানে। কিন্তু এখন তিনি গ্রেফতার আতঙ্কে, ‘সাদাফ ভেবেছিল এই অর্জনে দেশে ফিরে বড় সম্মান পাবে। অথচ এখন আমাদের দুজনের বিরুদ্ধেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।’

প্যারিসের ইরানিয়ান অ্যাম্বাসির এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানে ফিরে গেলে খাদেম গ্রেফতার হবেন নাকি হবেন না, সে ব্যাপারে তিনি কোনও মন্তব্য করতে পারবেন না।

এই অবস্থায় দেশে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন সাদাফ। তাই প্যারিসেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইতিহাস গড়া এই বক্সার। বিসিবি, টেলিগ্রাফ

/কেআর/

লাইভ

টপ