রূপগঞ্জকে হারিয়ে শিরোপার আশা বাঁচালো আবাহনী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:০৫, এপ্রিল ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৫, এপ্রিল ২১, ২০১৯

8L6A3373গত মৌসুমে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে হারিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আবাহনী লিমিটেড। এবার তাদের বিপক্ষে জিতে শিরোপা ধরে রাখার আশা বাঁচিয়ে রাখলো তারা। রবিবার ১০২ রানে জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচটি জিতলেই চ্যাম্পিয়ন হতে পারতো রূপগঞ্জ।

আবাহনী-রূপগঞ্জ

সৌম্য সরকারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ৩৭৭ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে আবাহনী। এর চূঁড়ায় উঠতে পারেনি রূপগঞ্জ। ৭ উইকেটে ২৭৫ রান করে শীর্ষস্থানও হারিয়েছে তারা।

১৫ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে গেছে আবাহনী। সমান পয়েন্ট নিয়েও রান রেটে পিছিয়ে থেকে দুইয়ে নেমেছে রূপগঞ্জ।

সাভারে বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ঝড় তোলে জহুরুল ইসলাম ও সৌম্যর উদ্বোধনী জুটি। দলীয় স্কোর ১৬৯ রানে রেখে বিদায় নেন সৌম্য। ৭১ বলে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের পঞ্চম সেঞ্চুরি করে আউট হন তিনি। মাত্র ৭৯ বলে ১৫ চার ও ২ ছয়ে ১০৬ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

সৌম্য ক্রিজ ছাড়ার পর জহুরুল ও মোহাম্মদ মিঠুনের হাফসেঞ্চুরিতে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করে আবাহনী। ৮৩ বলে ৬ চার ও ২ ছয়ে ৭৫ রান করেন জহুরুল। ৩৪ বলে মিঠুন করেন ৬৪ রান, ৭ চার ও দুটি ছয় মারেন তিনি।

এছাড়া ওয়াসিম জাফরের ৪৬ ও সাব্বির রহমানের ৩৩ রান দারুণ অবদান রাখে।

রূপগঞ্জের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও মোহাম্মদ শহীদ।

বিশাল লক্ষ্যে নেমে ৮৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে হোঁচট খায় রূপগঞ্জ। এই বিপর্যয় ঋষি ধাওয়ানকে নিয়ে সামলান মোহাম্মদ নাঈম, ৬১ রানের জুটিতে। ধাওয়ান ২৯ রানে আউট হওয়ার পর আরেকটি শক্ত জুটি গড়েন নাঈম, এবার সঙ্গ পান শহীদের কাছ থেকে। দুজনে যোগ করেন ৯২ রান।

শহীদকে ৫৩ রানে আউট করে এই জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। নাঈম দারুণ এক সেঞ্চুরি করলেও প্রয়োজনীয় রান রেট বাড়তে থাকে। তাতে হার মানে রূপগঞ্জ। ১৩৫ বলে ১৩ চার ও ২ ছয়ে ১২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন নাঈম। ২৫ রানে টিকে ছিলেন তাসকিন।

মেহেদী হাসান মিরাজ আবাহনীর পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। দুটি পান মাশরাফি মুর্তজা। ম্যাচসেরা হয়েছেন সৌম্য।

20190421_163657শেখ জামাল-প্রাইম দোলেশ্বর

সাইফ হাসানের ক্যারিয়ারসেরা পাফরম্যান্সে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের জয়যাত্রা থামিয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব। সুপার লিগে টানা তিন ম্যাচ জয়ের পর শেখ জামাল হেরেছে ৭ উইকেটে।

তানবীর হায়দারের ৬৯ রানের কল্যাণে ২৪৩ রান করে শেখ জামাল। ৪৯.৩ ওভারে তাদের অলআউট করতে তিনটি করে উইকেট নেন তাইবুর রহমান ও ফরহাদ রেজা। জবাবে সাইফের ১৪৮ রানের অপরাজিত ইনিংসে ৩৮.৩ ওভারে জয় নিশ্চিত করে দোলেশ্বর। ৩ উইকেটে তারা করে ২৪৪ রান।

লক্ষ্যে নেমে দোলেশ্বর ৩০ রানে ২ উইকেট হারালে সাইফকে দারুণ জুটি গড়তে সঙ্গ দেন ফরহাদ হোসেন। ১৮৮ রানের জুটি গড়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ৮০ বলে ৭৮ রানে সাজানো ছিল ফরহাদের ইনিংস। মাত্র ১১৬ বল খেলে ১০ চার ও ১১ ছয়ে সাইফ সাজান তার ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস। ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে তার হাতে।

১৫ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তিনে শেখ জামাল। সমান পয়েন্টে দোলেশ্বর চার নম্বরে।

মোহামেডান-প্রাইম ব্যাংক

সুপার লিগে প্রথম জয় পেয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ৭ উইকেটে তারা হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে।

টানা তিন হারের পর সুপার লিগে প্রথম জয়ের খোঁজে মিরপুরে নেমেছিল মোহামেডান। টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে সাকলাইন সজীব ও সোহাগ গাজীর স্পিনে প্রাইম ব্যাংককে ৪২.২ ওভারে ১৭৪ রানে অলআউট করে তারা। এরপর আব্দুল মজিদ ও রকিবুল হাসানের হাফসেঞ্চুরিতে ৩৫ ওভারে জয় তুলে নেয় মোহামেডান। ৩ উইকেটে ১৭৫ রান করে তারা।

১৫ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে প্রাইম ব্যাংক। ১৪ পয়েন্টে সবার শেষে মোহামেডান।

মাত্র ৪৯ রানে ৫ উইকেট হারায় প্রাইম ব্যাংক। অলক কাপালি ও নাহিদুল ইসলামের ৫৭ রানের জুটি ওই ধাক্কা সামাল দেয়। কাপালি ইনিংস সেরা ৪৩ রানে আউট হলে আর দাঁড়াতে পারেনি দলটি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন নাহিদুল। ২২ রান আসে মনির হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাকের ব্যাটে।

মোহামেডানের পক্ষে সাকলাইন সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন। ম্যাচসেরা হয়েছেন এই স্পিনার। তিনটি উইকেট পান সোহাগ।

মজিদের ফিফটিতে সহজ জয়ের ভিত গড়ে মোহামেডান। ৫৪ রান করেন এই ওপেনার। লিটন দাস ৩২ রানে আউট হন। রকিবুল ও তুষার ইমরানের ৫৬ রানের অপরাজিত জুটিতে জিতে যায় মোহামেডান। ৫২ রানে রকিবুল ও ২২ রানে তুষার অপরাজিত ছিলেন।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ