‘বিশ্বকাপে আমাকে শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৩১, এপ্রিল ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩৭, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

ক্রিকেটের সেরা আসর ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ৩০ মে। তার আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের লড়াই। জাতীয় ক্রিকেট দলের সামনে তাই কঠিন চ্যালেঞ্জ। মিরপুরে ক্রিকেটাররা এখন নিবিড় অনুশীলনে ব্যস্ত। বুধবার অনুশীলন শেষে সংবাদ মাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলেন তামিম ইকবাল। তিনটি বিশ্বকাপে খেলা দেশসেরা ওপেনার দীর্ঘ আলাপচারিতায় সবার কৌতূহল মেটালেন ভালোমতোই।

বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমে নিজেকে চাপে ফেলতে রাজি নন তামিমপ্রশ্ন: ইংল্যান্ডের আবহাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং?

তামিম: ইংল্যান্ডের আবহাওয়া আমাদের চেয়ে পুরোপুরি ভিন্ন। তবে এখানে আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি। রানিং-ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি জিমে ঘাম ঝরাচ্ছি।

প্রশ্ন: আপনি তো ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেননি। তাতে কি প্রস্তুতিতে কোনও সমস্যা হবে?

তামিম: না, ব্যাটিংয়ের চেয়ে ফিজিক্যাল ফিটনেস ঠিক রাখা জরুরি ছিল আমার জন্য। তাই ঢাকা লিগে না খেলার সিদ্ধান্তটা ঠিকই ছিল।

প্রশ্ন: নেটে ব্যাটিং প্র্যাকটিস কেমন হচ্ছে?

তামিম: আমি সব সময় বলি, প্রস্তুতির পুরোটাই আমার হাতে। প্রস্তুতি নিয়ে আমি যা খুশি তাই করতে পারি। কষ্ট করতে পারি, ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারি। মাঠে গিয়ে কী হবে না হবে সেটা অনেক সময় আমার হাতে থাকে না। তবে ট্রেনিংয়ে কোনও খুঁত রাখতে চাই না।

প্রশ্ন: মে মাসের শুরুতে আয়ারল্যান্ডে খেলা নিশ্চয়ই চ্যালেঞ্জিং?

তামিম:  আমার মনে হচ্ছে কন্ডিশনটা চ্যালেঞ্জিং হবে। কারণ আয়ারল্যান্ডে আমরা খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাইনি। শেষ যেবার খেলেছিলাম, তখন উইকেট তেমন সহজ ছিল না। আসলে ত্রিদেশীয় সিরিজের আগের ৭ দিন এবং প্রস্তুতি ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ কীভাবে শুরু করবো সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই টুর্নামেন্টে আমাদের প্রথম প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ খুব ভালো ফর্মে আছে।

দীর্ঘ সফরের জন্য ভালো মতোই নিজেকে প্রস্তুত করছেন দেশসেরা ওপেনারপ্রশ্ন:  আয়ারল্যান্ড সফরকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

তামিম: আমাদের হয়তো দেড় মাসের ব্যবধানে ১৩/১৪টা ম্যাচ খেলতে হবে। এটাই একমাত্র নেতিবাচক দিক। বিশ্বকাপে আমাদের সেরা ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দিতে পারবো না। তাই আয়ারল্যান্ড সবাইকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলাতে পারলে বিশ্বকাপের আগে সবাই সতেজ থাকতে পারবে।

প্রশ্ন: ঢাকা লিগের শেষ দিনে সৌম্য সরকার ২০৮ রানের রেকর্ড ইনিংস খেলেছেন। সামনের দীর্ঘ সফরে ইনিংসটা সৌম্যকে কতটা সাহায্য করবে বলে মনে হয়?

তামিম: এটা সৌম্যর জন্য অনেক বড় অর্জন। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করেছে সে। যদিও আমরা একেবারেই ভিন্ন কন্ডিশনে, ভিন্ন বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে খেলবো, তবু রান করা সব সময়ই ইতিবাচক। এটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসে মনে। সৌম্য যদি লিগের শেষ দুই ম্যাচে দুটো সেঞ্চুরি না করে ৫/১০ রান করে সফরে যেতো, তাহলে ওর মাথার মধ্যে এক পার্সেন্ট হলেও চাপ থাকতো। সেই হিসেবে সে এখন চাপমুক্ত।

প্রশ্ন:  আপনার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এখনও একজন স্থায়ী ওপেনিং পার্টনার পাননি। এটা কি আপনার মধ্যে মানসিকভাবে কোনও সমস্যা তৈরি করে?

তামিম: আসলে একজন স্থায়ী ওপেনিং পার্টনার থাকলে দু্জনের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো হয়। অনেক সময় দেখা যায়, আমার হয়তো টাইমিং ভালো হচ্ছে না। মারলেও বল চলে যাচ্ছে ফিল্ডারের কাছে। তখন আমার পার্টনার খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। আবার সে রান করতে না পারলে আমি হয়তো আক্রমণাত্মক হয়ে রান করলাম। লিটন ও সৌম্যর সঙ্গে আমার ভালো উদ্বোধনী জুটি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি চলছে ফিল্ডিং অনুশীলনপ্রশ্ন:  দু বছর আগে ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভালো খেলেছিলেন। লর্ডসে টেস্ট সেঞ্চুরিও আছে আপনার। এবার ইংল্যান্ডের মাটিতে ভালো খেলতে কতটা আত্মবিশ্বাসী?

তামিম: ইংল্যান্ডের মাটিতে আগে কী করেছি সেটা নিয়ে একটুও ভাবি না। আসলে এসব ভাবনা ভালো খেলতে সাহায্য করে না। বিশ্বকাপে সফল হতে হলে আমাকে শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপে আপনার নির্দিষ্ট কোনও লক্ষ্য আছে?

তামিম: বিশেষ কোনও লক্ষ্য নেই। কারণ আমি কোনও কিছু নিয়ে বেশি চিন্তা-ভাবনা করলে সেটা অর্জন করতে পারি না! আমি জানি, বিশ্বকাপে আমার সেঞ্চুরি নেই। কিন্তু সেঞ্চুরির লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলে অকারণে নিজের ওপরে চাপ নেওয়া হবে। আমি তা চাই না।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপে বড় রান তাড়া করা নিয়ে বাংলাদেশ দলের কোনও বিশেষ পরিকল্পনা আছে?

তামিম: আমরা ৩৪০/৩৫০ রান তাড়া করতে তেমন অভ্যস্ত নই। বিশ্বকাপে হয়তো বেশিরভাগ ম্যাচেই আমাদের ২৮০ থেকে ৩২০ রান তাড়া করতে হবে। তাই এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। প্রতিপক্ষকে ৩০০ রানের মধ্যে আটকাতে হলে আমাদের বোলারদের খুব ভালো বল করতে হবে। যদিও আমার মনে হয়, ইংল্যান্ডে ৩০০ রান তাড়া করে জেতা সম্ভব।

/আরআই/এএআর/

লাইভ

টপ