সপ্তম ফাইনালে কাটবে বাংলাদেশের শিরোপা খরা?

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১০:৫৫, মে ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৫, মে ১৭, ২০১৯

e47061c9eee8494f7ad93682b90d7882-5cd8fa62c452aফাইনাল সবসময় পিঠ দেখিয়েছে বাংলাদেশকে! একটি-দুটি নয়, ছয়টি ফাইনাল খেলেও প্রত্যেকবার প্রতিপক্ষের হাতে ট্রফি উঠতে দেখেছে তারা। ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপার লড়াইয়ে শুক্রবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হচ্ছে তারা, সপ্তম ফাইনালে। ‘লাকি সেভেন’ হয়েই কি ধরা দিবে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল!

জবাব পাওয়া যাবে মধ্যরাতের আগেই। বিকাল পৌনে চারটায় ডাবলিনে সিরিজে তৃতীয়বার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ক্যারিবিয়ানরা। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, গাজী টেলিভিশন ও মাছরাঙা টিভি। এছাড়া র‌্যাবিটহোল স্পোর্টস এর ইউটিউব চ্যানেল ও র‌্যাবিটহোল এন্টারটেইনমেন্ট এর ইউটিউব চ্যানেলে ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রথম শিরোপা জয়ে বাধা ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ত্রিদেশীয় সিরিজে ‍দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ দল আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে দুটি ম্যাচ হেরে কিছুটা কোণঠাসা ক্যারিবিয়ানরা। লিগ পর্বের চার ম্যাচের একটি বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও বাকি তিনটি ম্যাচেই প্রভাব বিস্তার করেছ জিতেছে মাশরাফিরা।

এই ফাইনালটি দুই দলের জন্যই অন্যরকম গুরুত্ব পাচ্ছে। বহুজাতিক সিরিজে বাংলাদেশ যেমন এখন অব্দি কোনও ট্রফি জিততে পারেনি। দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরাও তেমনই গত এক দশকে কোনও ট্রফি জিততে পারেনি। সবশেষ তারা জিতেছে ২০০৮ সালে, কানাডায়। আইসিসির পূর্ণ সদস্যেদের সঙ্গে জেতে তারও আগে, ২০০৪ সালে। এবার দুই দলের সামনেই সুযোগ আক্ষেপ দূর করার।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অবশ্য বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সর্বশেষ ৮ ওয়ানডের ৬টিতেই হারিয়েছে তারা। ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দুই ওয়ানডেতে হারিয়েছে। একটিতে ৮ উইকেটে, আরেকটিতে ৫ উইকেটে জিতেছে। তাতেই বোঝা যাচ্ছে, সিরিজে বাংলাদেশ কতটা শক্তিশালী দল। ফাইনালে ক্যারিবিয়ানদের সুবিধামতো পেলে এবার লাল-সবুজ জার্সিধারীদের শিরোপা খরা কাটানো সময়ের ব্যাপার মাত্র!

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ এরই মধ্যে তাদের শক্তির জানান দিয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে প্রমাণ দিয়েছে, বোলিং ও ব্যাটিং লাইন তাদের সেরাটা দিয়ে খেলছে।

যদিও আগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ হারের অভিজ্ঞতা থেকে অধিনায়ক মাশরাফি বিন্দুমাত্র এই ফাইনাল নিয়ে ভাবতে চাইছেন না। ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘প্রতিটি ম্যাচই খেলতে নামি জয়ের জন্য। আর ফাইনালে তো বাড়তি প্রত্যাশা সবার থাকেই। আমরা কখনও ফাইনাল জিতিনি, সেই ব্যাপারও আছে। কিন্তু এ রকম করে করে বেশ কয়েকটা ফাইনাল হেরেছি। আমরা যেটা চেয়েছি, এই ফাইনাল নিয়ে আলোচনা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছি।’

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে উইনিং কম্বিনেশন ভেঙে বাংলাদেশের সেরা একাদশে খেলানো হয় লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন, রুবেল হোসেন ও সাইফউদ্দিনকে। এ চারজনকে জায়গা দিতে বিশ্রাম দেওয়া হয় আগের দুই ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করা সৌম্য সরকার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা পেসার মোস্তফিজুর রহমানকে। এছাড়া মোহাম্মদ মিঠুন ও মেহেদী হাসান মিরাজকে বিশ্রামে রাখা হয়। ফাইনালে দলে ফিরতে পারেন এ চার তারকাই। মোস্তাফিজ ফেরায় বাদ পড়ছেন শেষ ম্যাচে ৫টি উইকেট তুলে নেওয়া আবু জায়েদ রাহী।

বাংলাদেশের জন্য কিছুটা দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে সাকিবের সাইড স্ট্রেইনের ইনজুরি। এই টুর্নামেন্টে ব্যাটিংয়েও দারুণ করেছেন সাকিব। তিন ম্যাচে ৬১, ২৯ ও ৫০ রানে এসেছে তার ব্যাট থেকে। যদিও চোট নিয়ে সাকিবের ফাইনালে খেলা ঘিরেই শঙ্কার মেঘ। সর্বশেষ এশিয়া কাপেও চোটে পড়ে ফাইনাল খেলা হয়নি সাকিবের। এবার হবে কিনা এখনও নিশ্চিত নয়। যদিও অধিনায়ক মাশরাফি খেলার সিদ্ধান্তটি সাকিবের কোর্টেই ঠেলে দিয়েছেন, ‘খেলার ব্যাপারে সিদ্ধান্তটা সাকিবের নিজের উপরই থাকছে। ম্যাচের দিন সকাল পর্যন্ত সাকিবের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’

শেষ পর্যন্ত সাকিব না খেলতে পারলেও বাড়তি একজন ব্যাটসম্যান নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৬ রানের ইনিংস খেলা লিটনকে দেখা যেতে পারে তিন নম্বরে। সেক্ষেত্রে মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির ও সৌম্যকে বল হাতে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যেতে পারে।

টিম ম্যানেজমেন্ট সেরা কম্বিনেশন সাজিয়েই মাঠে নামাবে। ট্রফি জেতার সপ্তম সুযোগটা হেলায় হারাতে চাইবেন না মাশরাফিরা। সেই সঙ্গে দলের পঞ্চপাণ্ডবের একসঙ্গে শেষ কোনও ত্রিদেশীয় সিরিজ। এমন একটি সিরিজকে অবশ্যই রাঙিয়ে রাখতে চাইবেন তারা। হয়তো মাশরাফির ও ক্রিকেটাপ্রেমীদের শিরোপার আক্ষেপ আজই মিটে যাবে!

/আরআই/এফএইচএম/

লাইভ

টপ