স্পিন বোলিং বাদে কোনও কিছুই পূর্ণতা পায়নি

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১১:৪৭, জুন ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩১, জুন ০৬, ২০১৯

c54ca63323076388509d326956b31e05-5bde80f06cd24একটা চিন্তা সবসময়ই মাথায় ঘুরপাক খেতো যেদিন ভালো ব্যাটিং হবে না, সেদিন আমাদের পেস বোলিং কতটুকু একটা ইউনিট হিসেবে জ্বলে উঠবে তা নিয়ে একটা দুশ্চিন্তা বরাবরই ছিল। কাল আমাদের ব্যাটিং মোটেই ভালো হয়নি, এই ব্যর্থতার জন্য উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব নিউজিল্যান্ড বোলারদের আছে বলে আমার নজর কাড়েনি। চমৎকার একটা শুরু আমাদের তামিম ও সৌম্য এনে দিয়েছিল এবং আমাদের প্রায় সব ব্যাটসম্যানই ২০ এর ঘরে গিয়ে আউট হয়েছে। এতে প্রয়োজনীয় বল সেট হবার জন্য খেলে রানের গতি বাড়ানোর সময়টা যখন এলো, তখনই আউট হয়ে গেছে।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ায় একটা চাপ বরাবরই আমাদের মিডল অর্ডারের ওপর ছিল। সেই অবস্থায় সাকিব যদি তার ইনিংসটিকে শতরানে নিয়ে যেতে পারতেন তবে দুই প্রান্ত থেকে উইকেট পড়াটা ঠেকানো যেত এবং ৩০ থেকে ৪০ ওভারের এই সময়টায় নিউজিল্যান্ড সবচেয়ে মিতব্যয়ি ছিল ও ম্যাচে তারা জোরালোভাবে যে প্রাধান্য বিস্তার করেছিল সেটা থামানো যেত।

তবে এই ম্যাচে হারার পেছনে অন্যতম দুটি কারণ ছিল মুশফিকের রান আউট হওয়া এবং রান আউট করতে না পারা। ক্রিকেট জিততে হলে আমাদের মতো দলের জন্য ভাগ্যের সহায়তার হাতটি ধরতে না পারলে ম্যাচ জেতাটা ভালো দলগুলোর সঙ্গে সহজ নয়। কাল একাধিকবার আমরা রান আউটের সুযোগ থেকে বাঁচলেও আমাদের ইনফর্ম ব্যাটসম্যান মুশফিক এভাবে রান আউট হওয়ায় বিরাট ধাক্কা খায় বাংলাদেশ এবং পরে সাকিবের আউটে অন্তত ২৮০ রানের লক্ষ্য থেকে পথ হারায় বাংলাদেশ। তবে মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে মাহমুদউল্লাহর জুটির কাছ থেকে কোনও বাউন্ডারি না পাওয়া এবং উপর্যুপরি ডট বলের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ২৬০ রানের সেকেন্ডারি লক্ষ্যও আলোর মুখ দেখেনি।

প্রতিদিন ধারাবাহিক ভালো ব্যাট করা হয়তো সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় দিনে দল বোলিং ইউনিটের দিকে তাকিয়ে থাকে। প্রথম সেশনে বল না করা পর্যন্ত সার্বিকভাবে এই ইউনিটের গভীরতার পরীক্ষায় তারা অবতীর্ণ হয়েছে বলা যাবে না। তবে কাল লড়াই করার মতো একটা নূন্যতম পুঁজি ছিল, সেখানে পেস বোলিংয়ে যদি বাইট থাকতো ও নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়ার কাজে তারা যদি সময়মতো সমর্থনটুকু দিতে পারতেন তবে আমাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা ম্যাচের প্রথমার্ধেই ধরা দিতো এবং চাপটা নিউজিল্যান্ড অনেক আগে থেকে অনুভব করতে পারতো। বরঞ্চ ঘটনা উল্টো হয়েছে, পেস বোলারদের আড়াল করতে গিয়ে দলের ৪০ ওভারের মধ্যেই মূল স্পিনাররা তাদের কোটা প্রায় শেষ করেছেন, দলের একাদশে একজন বিশেষজ্ঞ স্পিনারের অভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে কিন্তু রিজার্ভ বেঞ্চেও যে তিনি নেই।

অতি উত্তেজনা থেকে মুশফিক রান আউটের সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি, এমন ভুল হয়ে যায় এবং বিরাট মূল্য দলকে চুকাতে হয়। পরে জিমি নিশামের রান আউটটি অল্পের জন্য মিস হয়। নিউজিল্যান্ডের দলের টেইল এন্ডারকে আউট করার মতো ধারও আমাদের পেস বোলিং ইউনিটের ছিল না। এই জায়গায় পরবর্তী ম্যাচগুলোতে উন্নতি করতে না পারলে আমাদের শিবিরেও কালো মেঘের ঘনঘটা দেখা দেবে। পরের ম্যাচে দলে রুবেলের অন্তর্ভুক্তির আশা করছি।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ