ইংল্যান্ডের ব্যাটিংই ব্যবধানটা গড়ে দিলো

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১১:৫৭, জুন ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৪০, জুন ০৯, ২০১৯

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।মাশরাফি টস জেতার পর সবাই উৎফুল্ল হয়েছিলাম, ম্যাচ শুরুর প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ধরে কম বেশি বৃষ্টির খবর জেনে নিশ্চিতই ছিলাম বোলিংটাই আগে প্রয়োজন। তবে প্রথম একাদশে রুবেল হোসেনকে না দেখে হতাশ হয়েছি। আমাদের পেস বোলিং ইউনিট বল করলেও সেই আক্রমণ কোন দেশের ব্যাটসম্যানদের আউট করে ব্রেুক থ্রু করতে পারছে না। তারা ভালো লেন্থ ও লাইনে বল করে রানও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না। পাশাপাশি আমাদের একটি অতিরিক্ত ব্যাটসম্যান থেকে না আসছে ফলপ্রসু কোন ফল।

ওভালের মন্থর পিচে রুবেলকে না খেলানোর যুক্তি থাকলেও গতকাল কার্ডিফে তাকে খেলানো উচিত ছিলো। কারণ এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের যে কোন ভেন্যুতে হলেও ইংল্যান্ড বর্তমান ফর্মের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে ফেভারিট। তাই এই ছোট পরীক্ষা করাটাই সমীচিন ছিলো পরবর্তী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে মাঠে নামার আগে।

কাল টস জেতায় ভেবেছিলাম দুই প্রান্ত থেকে একটু স্যাঁতস্যাঁতে উইকেটে দুজন পেস বোলারই নতুন বলে সূচনা করবেন। তাতে অন্তত পরখ করা যেত এক প্রান্ত থেকে পেস আক্রমণ শাণিত হলে নতুন বলে কে সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচেও নতুন আরেক কম্বিনেশনে বল করতে দেখলাম। যেখানে বোলিং ইউনিট আমাদের দুর্বল সেখানে একটা সেরা পেয়ার নির্বাচন করা উচিত ছিলো। কিন্তু প্রতিপক্ষের ডান ও বাম হাতের ব্যাটসম্যানদের কথা হিসাব করে আমরা আমাদের সেরাটা নিয়ে শুরু করছি না দেখে কষ্ট লাগে। যখন নাকি নিজের সামর্থ্যবান বোলার মেহেদী মিরাজ শুরুর দিকে উপেক্ষিত থাকেন। তিনি পাঁচ নম্বর বোলার হিসেবে ১৭ ওভারে যখন বল করতে আসলেন তখন দুই ব্যাটসম্যানই সেট। বোলিং শেষে সবচেয়ে কম খরুচে বোলার। ইনিংসের শুরু থেকে বল করতে পারলে তার রান হয়তো ৫০ এর কোঠায় থাকতো। কারণ দিনের শুরুতে প্রথম ৭-৮ ওভার ইংল্যান্ডের দুজন ব্যাটসম্যান নিজেদের সেটেল করার জন্য সময় নিয়েছে, সতর্কতার সঙ্গে ব্যাট করেছে। পিচ থেকে বোলাররাও কিছু বাড়তি সহায়তা পেয়েছে।    

আমাদের বোলাররা কার্যকর লেন্থে বল না করায় অনায়াসে ইংল্যান্ডের বড় পার্টনারশিপ হয়েছে। তার পাশাপাশি দুর্বল গ্রাউন্ড ফিল্ডিং দলের মনোবল কমিয়ে দিয়েছে। শুরু থেকেই সাকিবকে দিয়ে মাশরাফির টানা ৭ ওভার বল করানোটা খুব বেমানান ছিলো।

জেসন রয় ও জস বাটলার অসাধারণ ব্যাট করেছেন এবং শেষ ১৭ বলে ওকস ও প্লাঙ্কেটের ৪৫ রান থেকে সর্বমোট ৩৮৬ রান আমাদের খেলা থেকে ছিটকে দেয়। এত বড় রান তাড়া করার জন্য যে চমৎকার একটা শুরুর প্রয়োজন ছিলো তা দুর্ভাগ্যক্রমে ধরা দেয়নি। তামিমকেও তার স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের এই পিচে প্রথম ৬-৭ ওভারে পেস বোলিং যে ত্রাসের সৃষ্টি করেছিলো বিশেষ করে জোফরা আর্চার, তা বলে দেয় প্রথমে তারা বল করলে আরও কতখানি ভয়ানক হতেন।

সাকিব ও মুশফিকের পার্টনারশিপ ছিলো উল্লেখযোগ্য এবং সাকিবের অসাধারণ ব্যাটিং ফর্ম অব্যাহত থাকাটা ছিলো আমাদের বড় সম্পদ ও বিশ্বকাপেরও গর্ব করার মতো আলোচিত একটি বিষয়।

সাকিবের ধারাবাহিক চমৎকার ব্যাটিং আমাদের শক্তিশালী ব্যাটিং বিভাগের দীনতা ফুটে উঠতে দেয়নি। তার সঙ্গে একমাত্র মুশফিককেই আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে। বড় ইনিংসে ভালো স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করাটা অতি জরুরি এবং এর বাস্তবায়ন পরবর্তী ম্যাচেই আমাদের করতে হবে। কারণ ম্যাচটি শ্রীলঙ্কার সঙ্গে, যা আমাদের অবশ্যই জিততে হবে।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ