ফুটবল বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশকে এখন কী করতে হবে?

Send
খালিদ রাজ
প্রকাশিত : ২২:৩৯, জুন ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২৪, জুন ১২, ২০১৯

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার আনন্দ২০২২ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের আসর বসবে কাতারে। ফুটবল মহাযজ্ঞের মূল পর্বে জায়গা পাওয়ার মিশন ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বাংলাদেশের। এশিয়া অঞ্চলের ‘প্রাক-বাছাই পর্ব’ হিসেবে পরিচিত প্রথম রাউন্ডে মঙ্গলবার ফিরতি লেগে লাওসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করলেও প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে পাওয়া ১-০ গোলের জয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা এখনও স্বপ্ন হয়েই আছে। ২০২২ সালের আসরের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন দেখাটাও বাড়াবাড়ি। তবে বাছাই পর্বে নিজেদের উন্নতি দেখানোর সুযোগ কিন্তু তৈরি হলো দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার মাধ্যমে। বলা যায়, এখান থেকেই বাছাইয়ের ‘আসল’ লড়াই শুরু হতে যাচ্ছে জামাল ভূঁইয়াদের।

এশিয়া অঞ্চলের বাছাই চারটি রাউন্ডে বিভক্ত, সঙ্গে রয়েছে প্লে অফ। দীর্ঘ বাছাই শেষে ন্যুনতম ৪টি ও সর্বোচ্চ ৫ দল সুযোগ পায় এই অঞ্চল থেকে। অর্থাৎ বিশ্বকাপে খেলতে হলে এশিয়ার সেরা ৪ কিংবা ৫ নম্বর দল হতে হবে বাংলাদেশকে। দুঃসাহস হলেও স্বপ্ন দেখতে দোষ কী! কিন্তু সেজন্য তো জানা দরকার ঠিক কোন পথে এগিয়ে যেতে হবে লাল-সবুজের দলকে। লাওস জয়ের আনন্দের মুহূর্তে দীর্ঘ এই পথটা দেখে নেওয়া যাক-

প্রথম রাউন্ড (১২ দল)

প্রথম রাউন্ডে এই অঞ্চলের ৩৫ থেকে ৪৬তম র‌্যাংকিংধারী ১২টি দল দুই লেগে খেলেছে নকআউট। সেখান থেকে ছয়টি জয়ী দল যোগ দিয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডে, যার একটি হলো বাংলাদেশ। যাতে জেমি ডে’র দলের অন্তত ৮টি ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

দ্বিতীয় রাউন্ড (৪০ দল)

বাংলাদেশ সহ প্রথম রাউন্ডের বাধা উতরে আসা মোট ৬ দল দ্বিতীয় রাউন্ডে যোগ দেবে আগে থেকেই তাদের জন্য অপেক্ষায় থাকা ১ থেকে ৩৪তম র‌্যাংকিংধারী দলগুলো। মোট ৪০ দল নিয়ে হবে দ্বিতীয় পর্বের লড়াই। এই পর্বে ৫টি করে দল ৮ গ্রুপে ভাগ হবে খেলবে হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচ। এখনও সূচি চূড়ান্ত না হওয়া এই পর্বে ৮ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের চ্যাম্পিয়ন ও চারটি সেরা রানার্স-আপ দল নিশ্চিত করবে তৃতীয় রাউন্ড। শুধু তা-ই নয়, একই সঙ্গে ২০২৩ সালের এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করবে এই ১২ দল। বিশ্বকাপের সঙ্গে এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্বের দল নির্বাচনও হবে এই পর্বে।

তৃতীয় রাউন্ড (১২ দল)

তৃতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করা ১২ দল দুই গ্রুপে ভাগ হবে। অর্থাৎ, প্রত্যেক গ্রুপে থাকা ৬ দল একে অন্যের সঙ্গে দুটি করে ম্যাচ খেলবে (হোম ও অ্যাওয়ে)। এরপর দুই গ্রুপের শীর্ষ দুই দল (মোট ৪ দল) পেয়ে যাবে কাতার বিশ্বকাপের টিকিট। সুযোগ থাকবে দুই গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দুই দলেরও। বিশ্বকাপে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে তারা মুখোমুখি হবে চতুর্থ রাউন্ডে।

চতুর্থ রাউন্ড (২ দল)

তৃতীয় রাউন্ডে দুই গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দল দুটি মুখোমুখি হবে। হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলা দুই ম্যাচের ফল পক্ষে এলেও অবশ্য বিশ্বকাপ নিশ্চিত হবে না। তবে আশা বেঁচে থাকবে। চতুর্থ রাউন্ডে জয়ী দলকে চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য আন্তঃমহাদেশীয় প্লে অফে নামতে হবে।

আন্তঃমহাদেশীয় প্লে অফ (২ দল)

চতুর্থ রাউন্ডে জয়ী দল আন্তঃমহাদেশীয় প্লে অফে উত্তর ও মধ্য আমেরিকা (কনকাকাফ) অঞ্চলের বাছাইয়ের পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ দলের মুখোমুখি হবে। দুই লেগের এই খেলায় জয়ী দল নিশ্চিত করবে বিশ্বকাপ।

এশিয়া অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপে সুযোগ পাবে কয়টি দল?

সরাসরি বিশ্বকাপে সুযোগ পাবে ৪ দল। সংখ্যাটি ৫ হতে পারে, তবে সেজন্য আন্তঃমহাদেশীয় প্লে অফ জিততে হবে। যদিও কাতার এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ায় দলের সংখ্যা ৬ হওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে।

/কেআর/

লাইভ

টপ