বাংলাদেশের আলোকিত ব্যাটিংয়ে জমে উঠলো বিশ্বকাপ

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১২:২০, জুন ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১৩, জুন ১৮, ২০১৯

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।দিনের শুরু থেকে বাংলাদেশের দুর্দান্ত গ্রাউন্ড ফিল্ডিং জানান দিচ্ছিল এই ম্যাচ জেতার জন্য বাংলাদেশ কতটা বদ্ধপরিকর। ইনার ও আউটার সার্কেল মিলে প্রায় ৩০টিরও বেশি রান বাঁচিয়েছে তারা, যা বোলিং বিভাগকে উৎসাহিত করেছে আরও ভালো করার জন্য। এরপরও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগৃহীত ৩২১ রান একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বাংলাদেশের জন্য।

এই ম্যাচকে ঘিরে খেলা শুরুর আগে থেকেই একটা চাপা উত্তেজনা বাংলাদেশের সমর্থক সহ আমাকেও উদ্বেলিত রেখেছিল। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাটিং শুরুর আগে আশঙ্কা ছিল- নতুন বলটি বাংলাদেশ কত দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবেলা করে, সাকিব কি তার ব্যাটিং ফর্মটি এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও অব্যাহত রাখতে পারবে? রান তাড়া করতে গিয়ে বাংলাদেশ যে এমন আলোকিত ক্রিকেট খেলবে তা কি কেউ কল্পনা করেছিল? ৮.৩ ওভার আগে ৭ উইকেটের এক অসাধারণ জয় পাবো এটা আমিও সেই সময় ভাবিনি।

বাংলাদেশের আলোকিত ব্যাটিং উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে বিশ্বকাপে সেমির চতুর্থ স্থান নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ এনে জমিয়ে তুললো বিশ্বকাপ। একটা নতুন সমীকরণ নিয়েও আলোচনা হতে পারে যে প্রথম ব্যাট করলে দলীয় রান কত করলে তা নিরাপদ হতে পারে।

দলের ব্যাটিংটা বিগত ম্যাচগুলিতে অনেকটা সাকিব নির্ভর হয়ে গিয়েছিল। সেখানে একজনের পক্ষে এককভাবে বড় রান তাড়া করে ম্যাচ জেতানো মুশকিল। কাল ব্যাটিংয়ে দলের উদ্বোধনী জুটি ভিতটা গড়ে দিলো। মিডল অর্ডার শেষ করলো স্মরণকালের সেরা ইনিংস খেলে।

কাল মুশফিক আউট হওয়ার পরও পিচের আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল এই ম্যাচ আমরাই জিতবো। তবে ৭ উইকেটে ৪১.৩ ওভারে জিতবো? তা ছিল সারা ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়া এক পারফরম্যান্স।

সাকিব তার ব্যাটিং কারিশমার সেরা সময় পার করছেন নিঃসন্দেহে। তার জন্য এই বিশ্বকাপকে বেছে নেওয়ার চেয়ে ভালো সময় আর কী হতে পারে? লিটন দাস যে কত প্রতিভাবান একজন খেলোয়াড়; শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে তার পর পর ৩টি ছক্কার মার ও সারা ইনিংসে তার দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিং সেই কথাই বলে। ইনফর্ম সাকিবের সঙ্গে ব্যাটিং করার সময় তাকেও যথেষ্ট উজ্জ্বল মনে হয়েছে। ওপেনিংয়ের পরিবর্তে তার ওপর অর্পিত ৫ নম্বরে ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব ও পারফরম্যান্সের দাবি তিনি প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি মিটিয়েছেন। তবে তাকে নিয়েই যদি ওপেনিং ও মিডল অর্ডারের পরিকল্পনা নির্বাচক বা টিম ম্যানেজমেন্টের থেকে থাকে তাহলে সাব্বিরের জায়গায় তারা একজন বাঁহাতি স্পিনার দলে রাখতে পারতেন।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে তামিমের রান আউট নিয়ে একমাত্র আফসোস থাকতে পারে। হাতে গোনা দুই একটি গ্রাউন্ড ফিল্ডিং বাদে বাংলাদেশের কালকের ফিল্ডিং সবাইকে তৃপ্ত করেছে। মাশরাফি একটা গুরুত্বপূর্ণ টস জিতেছিলেন। পিচে যতটুকু প্রাণ ছিল বোলারদের জন্য তার সদ্ব্যবহারে প্রথম দিকে কম খরুচে বোলিংয়ে বাংলাদেশ কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিল। দুই প্রান্ত থেকে দুজন নতুন বলে বল করায় তাদের মাঝে ভালো লাইন লেন্থে বল করার একটা ভালো প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। তবে মাশরাফির প্রথম স্পেলে ৪/৫ ওভারেই নিজেকে সরিয়ে নিতে পারতেন। মোসাদ্দেকের জায়গায় রুবেল হোসেনও এই ম্যাচে খেলতে পারতেন। কাল সাইফউদ্দিন বাদে কোন বোলারই ১০ ওভার বল করেননি।

বোলিং বিভাগের এখনও ভালো করার সুযোগ আছে। গেইল ও রাসেলের শূন্য রানে বিদায়ের পরও ৩২১ রান ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য ভালো সংগ্রহ ছিল। তবে প্রথম ২৫ ওভারে তারা যথেষ্ট ভালো ব্যাট করেনি। আসলে ৩২১ রান করেও যে এমন করুণভাবে হারতে হবে তা তাদের জন্য ছিল একটা বড় ধাক্কা। স্পিনারহীন ও ৫ জন পেসারকে নিয়ে বোলিং আক্রমণের পরিকল্পনাটাও ভালো ছিল না। সর্বোপরি অসাধারণ ক্রিকেট খেলে ক্রিকেট বোদ্ধাদের নতুন এক বার্তা দিয়ে বিশ্বকাপকে জমিয়ে তুললো বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ