কিউইদের হারিয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখলো পাকিস্তান

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:২৯, জুন ২৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:০২, জুন ২৭, ২০১৯

বাবর আজমের সেঞ্চুরি উদযাপনহারলে সেমিফাইনালের স্বপ্ন একরকম শেষ হয়ে যেত পাকিস্তানের। এবারের বিশ্বকাপের অজেয় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল তাই বাঁচা-মরার। বাবর আজমের সেঞ্চুরিতে সেই চ্যালেঞ্জটা কী চমৎকারভাবেই না টপকে গেল পাকিস্তান। নিউজিল্যান্ডকে প্রথম হারের তিক্ততা দিয়ে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলো সরফরাজ আহমেদরা ৬ উইকেটের জয়ে।

বুধবার এজবাস্টনে নিউজিল্যান্ডের ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে করা ২৩৭ রান সহজেই পেরিয়ে গেছে পাকিস্তান। বাবরের অপরাজিত ১০১ রানের সঙ্গে হারিস সোহেলের ৬৮ রানের ইনিংসে ৫ বল আগে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। এই জয়ে ৭ খেলায় ৭ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে তারা। যাতে সেমিফাইনালে খেলার আশাও টিকে থাকলো তাদের। অন্যদিকে সমান ম্যাচে আগের ১১ পয়েন্ট নিয়ে অপেক্ষায় থাকতে হলো কিউইদের।

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি ঘটলো এজবাস্টনে। সেবারের আসরেরও অজেয় নিউজিল্যান্ড প্রথম হারের মুখ দেখেছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে। ইমরান খানের দলের ‍পর একই কাজ করে দেখালো সরফরাজের দল।

২৩৮ রানের লক্ষ্যে পাকিস্তান শুরুতেই ধাক্কা খায় ফখর জামানকে (৯) হারিয়ে। আরেক ওপেনার ইমাম-উল-হকও (১৯) বেশিদূর যেতে পারেননি। ৪৪ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর দলের হাল ধরেন বাবর ও অভিজ্ঞ মোহাম্মদ হাফিজ। তৃতীয় উইকেটে তাদের ৬৬ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে পাকিস্তান। দারুণ শুরুর পর হাফিজ ৩২ রানে ফিরলেও চমৎকার ব্যাটিংয়ে জয়ের ভিত গড়তে থাকেন বারব।

সঙ্গী হিসেবে পান হারিস সোহেলকে। দলীয় রান বাড়ানোর সঙ্গে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরিও তুলে নেন বাবর। চতুর্থ উইকেটে ২৪ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানের সঙ্গে হারিসের গড়া ১২৬ রানে জুটিই মূলত জয়ের পথে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। পাকিস্তান যখন জয় থেকে মাত্র ২ রান দূরে, তখন ৬৮ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন হারিস। ৭৬ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ৫ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায়।

বাবর অবশ্য দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন। চমৎকার ব্যাটিংয়ে ১০১ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ১২৭ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ১১ বাউন্ডারিতে। আর চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করা অধিনায়ক সরফরাজ অপরাজিত থাকেন ৫ রানে।

পাকিস্তানের  চমৎকার ব্যাটিংয়ের সামনে কিউই কোনও বোলারই সুবিধা করতে পারেননি। একটি করে উইকেট পেয়েছেন ট্রেন্ট বোল্ট, কেন উইলিয়ামসন ও লকি ফার্গুসন।

এর আগে ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা সহজ করে রেখেছিলেন পাকিস্তানের বোলাররা। শাহীন আফ্রিদির তোপে এলোমেলো হয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডার। যদিও জিমি নিশাম বীরত্বে লড়াই করার মতো স্কোর দাঁড় করায় কিউইরা। তার সেঞ্চুরি ছুঁইছুঁই ইনিংসের সঙ্গে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের কার্যকরী হাফসেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে কিউইরা ৬ উইকেটে করে ২৩৭ রান।

এজবাস্টনের আউটফিল্ড ভেজা থাকায় নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টাখানেক পর শুরু হয় ম্যাচ। কিউইদের বিপক্ষে বাঁচা-মরার এই লড়াইয়ে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নামা পাকিস্তান শুরুতেই ঝড় তোলে বোলিংয়ে। শুরুটা করেছিলেন এবারের আসরে ফর্মের তুঙ্গে থাকা মোহাম্মদ আমির। এরপর শাহীন আফ্রিদি আরও ভয়ঙ্কর রূপে হাজির হলে মাত্র ৮৩ রানে কিউইরা হারায় টপ অর্ডারের পাঁচ ব্যাটসম্যানকে।

ওই জায়গা থেকে নিউজিল্যান্ডকে লড়াই করার মতো স্কোর এনে দেয় নিশাম-ডি গ্র্যান্ডহোমের ষষ্ঠ উইকেটে গড়া ১৩২ রানের জুটি। ডি গ্র্যান্ডহোম ৭১ বলে ৬ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৬৪ রানে আউট হলেও নিশাম থাকেন অপরাজিত। একটুর জন্য সেঞ্চুরি করতে পারেননি এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তবে ১১২ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় সাজানো তার হার নামা ৯৭ রানের ইনিংসটির গুরুত্ব নিঃসন্দেহে সেঞ্চুরির চেয়েও বেশি।

নিশামের ইনিংসটি এসেছে কিউইদের টপ অর্ডার পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার পর। আমিরের শিকার হয়ে মাত্র ৫ রান করে মার্টিন গাপটিলের আউটের পর শাহীনের তোপে দাঁড়াতেই পারেননি কলিন মুনরো (১২), রস টেলর (৩) ও টম ল্যাথাম (১)।

বিপর্যয়ের মুহূর্তে দলের হাল ধরার চেষ্টা করলেও শাদাব খানের বলে উইকেটরক্ষক সরফরাজ আহমেদের গ্লাভসে ধরা পড়ে কেন উইলিয়ামসনকে ফিরতে হয় ৪১ রানে। ৮৩ রানে ৫ উইকেট হারানোর পরই শুরু নিশাম-ডি গ্র্যান্ডহোমের প্রতিরোধ।

নিউজিল্যান্ডকে অল্পতে আটকে রাখার পথে শাহীন আফ্রিদি ১০ ওভারে মাত্র ২৮ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন আমির ও শাদাব।

/কেআর/

লাইভ

টপ