অধরা পার্টনারশিপে স্বপ্ন ভঙ্গ হলো

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১০:০২, জুলাই ০৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১৫, জুলাই ০৩, ২০১৯

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।ক্রিকেট খেলায় পার্টনারশিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেটা সবাই জানেন। কাল আমাদের হেরে যাওয়ার পেছনে মুখ্য কারণ ছিল যথাসময়ে কোনও পরিপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে না ওঠা। আমরা পার্টনারশিপের দেখা পেয়েছিলাম প্রায় ৫টি। তার মাঝে সাব্বির ও সাইফউদ্দিনের ৬৬ রানের পার্টনারশিপটা যথেষ্টই হতো, যদি ওপরের দিকে গড়া ওঠা ছোট ছোট পার্টনারশিপের মাঝ থেকে অন্তত একটি পার্টনারশিপও শতরানের মুখ দেখতো। সেটা অর্জন করার সামর্থ্য আমাদের নিঃসন্দেহে আছে, কিন্তু হলো না।

প্রয়োজনের দিনে ব্যাটসম্যানরা তাদের সামর্থ্যের সেরাটা দিতে পারলেন না। তবে ভারতের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে এতগুলি পার্টনারশিপ গড়ে তোলার জন্য কৃতিত্ব আমাদের ব্যাটসম্যানরা পেতে পারেন অবশ্যই। তারা অনেকেই ম্যাচ জেতার প্রদীপ জ্বালিয়েছিলেন। তবে তা ম্যাচ জেতার জন্য পর্যাপ্ত আলো ছড়ানোর আগেই দুর্ভাগ্যক্রমে নিভে যায়।

পক্ষান্তরে উদ্বোধনী জুটির এক দারুণ পার্টনারশিপের ওপর ভর করেই ভারতের ইনিংসের ভিত গড়ে ওঠে। বল হাতে এই ভিত নাড়ানোর কাজটি মোস্তাফিজ করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু দুর্বল ক্যাচিং সব পণ্ড করে দেয়। প্রাথমিক দিকে পেস বোলিং কিছুটা লক্ষ্যচ্যুত হলেও পরবর্তী পর্যায়ে মোস্তাফিজের নেতৃত্বে আবার কক্ষপথে ফিরে আসে।

মোস্তাফিজ দারুণ বল করেছেন শেষ প্রান্তে এসে। এটি একাধিকবার ম্যাচের শুরুর দিকে করতে পারলে দল অনেক বেশি উপকৃত হতো। তবে এটাও ঠিক, দলের ফিল্ডিং বোলারদের মোটেও যোগ্য সমর্থন দেয়নি।

সাকিব কালও অসাধারণ বল ও ব্যাটিং করলেন। তবে নিজেকে ও দলকে খুশি করার মতো মনভরে ব্যাটিং কাল হয়নি। তিনি পারতেন নিজের সেঞ্চুরি পূরণ সহ তার ইনিংসটাকে ম্যাচ উইনিং ইনিংসে রূপান্তরিত করতে।

তামিম-সৌম্যর বা মোসাদ্দেকের পা ব্যবহার না করার দুর্বলতা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে ভারতের বোলাররা। সাব্বির চেষ্টা করেছেন, তারপরও রিয়াদকে মিস করেছেন সবাই। রোহিত শর্মা সেঞ্চুরি করেছেন, সাকিবও দারুণভাবে ৬৬ রান করলেন। তার মাঝেও দিনের সেরা ও ঝকঝকে ইনিংস খেলেছেন সাইফউদ্দিন। ইনিংসটি ছোট হলেও ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরা দারুণ এক সঙ্গীবিহীন লড়াকু ইনিংস। তার ব্যাটিং মেধার প্রতি আরেকটু সম্মান দেখিয়ে দলের প্রথম একাদশে যথার্থ পরিবর্তন আনার সুযোগ আছে।

আমাদের স্পেশালাইজ বোলাররা তাদের ১০ ওভারের কোটা পূর্ণ করতে পারেন না। স্পিনে ২ জন বোলার প্রায় নিয়মিতভাবেই এই টুর্নামেন্টে ভালো করেছে। কাল সাকিব আবারও করলেন, কিন্তু ৪ জন বিশেষজ্ঞ পেস বোলারের মাঝে একমাত্র মোস্তাফিজ কোটা পুরণ করলেন। কিন্তু যে কারণে একজন পেস বোলার দলে বাড়ানো হয়েছিল তা যথার্থভাবে কার্যকর হলো না। সৌম্য সরকার এসে ব্রেক থ্রু দিলেন, একই সঙ্গে গোটা পেস বোলিং ইউনিটকে উদ্ধার করলেন। এই ব্যর্থতাগুলি যদি যথার্থভাবে নজরে আনা যায় তবে দলের উন্নয়নের গ্রাফকে আরও ওপরে তোলা সম্ভব হবে। দল সেমিফাইনালে না পৌঁছাতে পারলেও যে লড়াইটুকু করেছে তাতে তারা বাহবা নিশ্চয়ই পাবে।   

/এফআইআর/

লাইভ

টপ