আজিজুল-শামীমের বিশ্বকাপ অভিযান

Send
রবিউল ইসলাম, লন্ডন থেকে
প্রকাশিত : ১৮:১১, জুলাই ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:১৪, জুলাই ১৪, ২০১৯

বাঁ থেকে শামীম হাসান রুমি ও আজিজুলবাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের কেউ নেই ফাইনালে। তবু লর্ডসের আশেপাশে উপমহাদেশের বহু মানুষের ভিড়। কেউ এসেছেন খেলা দেখতে, কেউ বা টিকিট পাওয়ার আশায় স্টেডিয়ামের চারপাশে ঘুরছেন। প্রিয় দলকে ফাইনালে দেখার আশায় টিকিট কিনে রেখেছিলেন উপমহাদেশের অনেকে। ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ফাইনালে মুখোমুখি হলেও তারা আজ লর্ডসের গ্যালারিতে।

ঢাকা থেকে বিশ্বকাপ দেখতে এসেছেন আজিজুল। বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ মাঠে বসে দেখেছেন তিনি। ফাইনাল দেখারও ইচ্ছে ছিল, কিন্তু ‘নকল’ টিকিট কিনে তিনি বিব্রত। আসল টিকিটের আশায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন স্টেডিয়াম এলাকায়।

বাংলাদেশকে শেষ চারে দেখতে না পেয়ে ভীষণ হতাশ আজিজুল। লর্ডসের মূল গেইটের সামনে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, ‘শেষ দুটি ম্যাচে বাংলাদেশ যেভাবে খেললো, সত্যিই হতাশাজনক। ক্রিকেট ভালোবাসি, তাই বাংলাদেশ থেকে এসেছি দলকে সমর্থন জানাতে। স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশ একদিন ফাইনাল খেলবে। এবার সুযোগ ছিল। হয়তো আগামী কয়েক বছরে এমন সুযোগ আর আসবে না। তবু বাংলাদেশকে সাপোর্ট করে যাবো। লর্ডসে আজকে বাংলাদেশের জন্য গলা ফাটাতে পারলে ভালো লাগতো।’

ফাইনালে ইংল্যান্ডের জয়ের প্রত্যাশা আজিজুলের, ‘আমি আজ ইংল্যান্ডকে সাপোর্ট করবো। যে দেশে ক্রিকেটের জন্ম তাদের একটা শিরোপা জেতা উচিত। আশা করি,  দুর্দান্ত খেলে ইংলিশরা তাদের আক্ষেপ দূর করবে।’

৩৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করেন শামীম হাসান রুমি। তবে ইংল্যান্ডে বাংলাদেশ দল খেলতে এলে তিনি চলে আসেন এখানে। ক্রিকেটের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ। আশির দশকে ঢাকার জনপ্রিয় ক্লাব সূর্যতরুণের ক্রিকেট দল গড়ার দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। ক্রিকেট নিয়ে লেখালেখিও করতেন এক সময়। বলা যায় তার চোখের সামনেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের উত্থান। মাশরাফির দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি হতাশ, ‘আমি মাঠে বসে চারটি বিশ্বকাপ দেখেছি। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ যতবার ইংল্যান্ডে এসেছে, আমেরিকা থেকে খেলা দেখতে এসেছি। এবার আশা করেছিলাম বাংলাদেশ অন্তত সেমিফাইনাল খেলবে। কিন্তু নিউজিল্যান্ড আর ভারতের কাছে হার কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।’

এমন অনেক আজিজুল-শামীমকে দেখা গেছে লর্ডসের আশপাশে। তাদের প্রত্যেকের মনে চাপা কষ্ট। প্রবাসে কঠিন জীবনে প্রিয় দলকে কাছে পেয়ে তাদের উচ্ছ্বাস ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাস হতাশায় পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের বিদায়ে।

/আরআই/এএআর/

লাইভ

টপ