ওই ঘটনার জন্য বাকি জীবন ক্ষমা চাইবো: বেন স্টোকস

Send
রবিউল ইসলাম, লন্ডন থেকে
প্রকাশিত : ১১:৪৭, জুলাই ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১৯, জুলাই ১৫, ২০১৯

ফাইনালের ম্যাচসেরা বেন স্টোকস। ইংল্যান্ডের হয়ে খেললেও নিউজিল্যান্ডের বংশোদ্ভূত বেন স্টোকস। আর তার কাছেই ম্যাচ হারলো কেন উইলিয়ামসনরা। অথচ বিশ্বকাপের আগে তার ক্যারিয়ার ছিল টাল মাটাল। নাইট ক্লাবে মারামারি করে জেলও খেটেছিলেন। একটা সময় নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালেও আটকাতে হয়েছিল। সেই স্টোকসই এখন ইংলিশদের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক!

৮৪ রানের ইনিংসের পর সুপার ওভারে গড়ানো ইনিংসেও ছিলেন সমান কার্যকরী। অবশ্য জয়ের আনন্দে উদ্বেলিত স্টোকস গাপটিলের করা থ্রোতে বাড়তি চার রান পাওয়াতে কিউই অধিনায়কের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২৪১ রান টপকাতে পারেনি ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ। ম্যাচটিতে নিশ্চিত পরাজয় বরণ করতে হতো স্বাগতিকদের। কিন্তু বেন স্টোকসের ৮৪ রানের অপরাজিত ইনিংস ম্যাচ টাই হতে ভূমিকা রাখে। শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। ট্রেন্ট বোল্টের প্রথম দুই বল ডট দেওয়ার পর তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকান স্টোকস। ডিপ মিড উইকেটে খেলে দুই রান নিতে শেষ পর্যায়ে ডাইভ দিয়েছিলেন স্টোকস, মার্টিন গাপটিলের থ্রো তার ব্যাটে লেগে চলে যায় বাউন্ডারিতে। দৌড়ে দুই রানের সঙ্গে ওই চারে আসে মোট ৬ রান! বাড়তি ৪ রানেই মূলত ম্যাচটি টাই হয়ে যায়।

ফলে ম্যাচটি গড়ায় রোমাঞ্চকর সুপার ওভারে। ওখানে ইংল্যান্ডের করা ৬ বলে কিউইদের প্রয়োজন ছিল ১৬ রানের। সেখানেও ছিল নাটকীয়তা। সুপার ওভারেও ছিল সমতা। কিন্তু ৫০ ওভারের ক্রিকেটে সুপার ওভার সমতায় শেষ হলে বাউন্ডারি-ওভার বাউন্ডারি ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দল জেতার নিয়ম বিশ্বকাপে। সেই ব্যবধানে জিতেই স্বাগতিক ইংল্যান্ড প্রথমবারের মতো ট্রফিতে চুমু খাওয়ার সুযোগ পেল।

অবশ্য ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভুলতে পারেননি স্টোকস। তার হাত থেকেই ম্যাচটি ছিনিয়ে নিয়েছিল ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। রবিবার লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বিশ্বকাপের ফাইনালে চাপের মুখে কী দুর্দান্ত এক ইনিংসই না খেললেন বেন স্টোকস। রবিবার শিরোপা জয়ের উপলক্ষটাকে রাঙিয়ে চার বছর আগের দুঃসহ স্মৃতিটা ভোলার সুযোগ পাচ্ছেন অবশেষে। যদিও পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে অতীতে ফিরে যেতে চাইলেন না।

বরং গাপটিলের থ্রোতে হওয়া বাউন্ডারি নিয়ে ক্ষমা চাইলেন কিউই অধিনায়কের কাছে, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা সব সময়ই দারুণ ব্যাপার। আমি সব সময়ই তাদের বিপক্ষে ম্যাচ উপভোগ করি। আমি কেনকে (উইলিয়ামসন) বলেছি, ওই ঘটনার জন্য আমি আমার বাকি জীবন ক্ষমা চাইব।’

৪৪ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ পেলো ইংল্যান্ড। এমন অর্জনে উচ্ছ্বসিত এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার, ‘আমি আসলে ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে চার বছর আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। এটা অসাধারণ অনুভূতি। আমার মনে হয় না, এই ম্যাচের মতো ক্রিকেট ইতিহাসে কোন ম্যাচ হবে। জস বাটলার ও আমি জানতাম, আমরা টিকে থাকলে সুযোগ আসবে। শেষ পর্যন্ত কাজটা করে সফল হতে পেরে ভালো লাগছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘গত কয়েক বছর আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। এতো সব পরিশ্রম এই রাতের জন্যই।’

ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণে ভেরিয়েশন এনেছেন জোফরা আর্চার। তার প্রশংসা করে বেন স্টোকস বলেছেন, ‘পুরো টুর্নামেন্টে আমরা তরুণদের কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছি। বিশেষ করে জোফরা আর্চার ছিল অসাধারণ। সে ক্রিকেট বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে খেলতে হয়।’

 

/এফআইআর/

লাইভ

টপ