এবার কি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়বে ইংল্যান্ডে? (ভিডিও)

Send
রবিউল ইসলাম, লন্ডন থেকে
প্রকাশিত : ১৩:০০, জুলাই ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১৯, জুলাই ২৪, ২০১৯

ফাইনালে উল্লাসের একটি মুহূর্ত।পাক্কা ৪৪ বছর সময় লাগলো ইংল্যান্ডের শিরোপার স্বাদ পেতে। ১৯৭৫ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপের যাত্রা শুরুর পর ইংল্যান্ড ফাইনাল খেললো চতুর্থবারের মতো। গত রবিবার ঐতিহাসিক ভেন্যু লর্ডসেই অবশেষে শিরোপা খরা কাটিয়েছে তারা। এমন শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচে শিরোপা জেতার পর ইংল্যান্ডে কি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়বে? নাকি ফুটবল জোয়ারে ভেসে যাবে?

এমন প্রশ্ন ওঠার কারণ ফুটবল নিয়ে ব্রিটিশদের যে মাতামাতি সেটা ক্রিকেট নিয়ে নেই। ইংলিশদের কাছে ক্রিকেটে আগ্রহ মানেই অ্যাশেজ। তবে ২০০৫ সালের আগে সেই পরিস্থিতিও পাল্টাতে বসেছিল!

১৯৮৯ থেকে টানা আট অ্যাশেজ হারের গ্লানি জেঁকে ধরেছিল ইংলিশদের। এই অবস্থায় আরেকটি অ্যাশেজ হার মানে দেশটির ক্রিকেটকে আরও পিছিয়ে দেওয়া। তেমন প্রতিকূল অবস্থায় মাইকেল ভনের নেতৃত্বে ২-১ এ পাঁচ ম্যাচের সিরিজে জিতেছিল ইংল্যান্ড। তাতে শেষ রক্ষা হয় ক্রিকেটের জন্ম দেওয়া দেশটির!

সেবার অ্যাশেজ জেতার পর ইংল্যান্ডে ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। অনেকেই ভালোবেসে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই দলে ছিলেন বর্তমান দলের খেলোয়াড় জো রুটও। ১৪ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের এমন সাফল্য দেখে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন ইংলিশ এই ক্রিকেটার। তার মতো অনেকেই হয়তো ওই অ্যাশেজ থেকেই ক্রিকেটার হওয়ার প্রেরণা নিয়েছিলেন।

কিন্তু ২০১১ ও ২০১৫ বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর ইংল্যান্ডে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় আবারও ধস নামে। বিশেষ করে ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হারটা ইংল্যান্ডের ক্রিকেটের ভিতকে পুরোপুরি নাড়িয়ে দিয়েছিল। আর এটাই ইংল্যান্ডের খোলনলচে পাল্টে দেওয়ার কারণ। এরপর থেকে আগ্রাসী ক্রিকেটের মন্ত্রে বেইলিস গড়েছিলেন মরগানদের। তাইতো গত চার বছরে কঠোর পরিশ্রম করে র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বরে বসে চ্যাম্পিয়ন এখন তারা। এমন দলকে নিয়ে তাই ব্রিটিশদের নতুন প্রজন্ম স্বপ্ন দেখতেই পারে!

যদিও বিশ্বকাপ চলাকালে ইংলিশদের মধ্যে ক্রিকেট নিয়ে তেমন আগ্রহটা চোখে পড়েনি। হয়তো সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের ব্যর্থতার কারণে। জো রুট বিশ্বকাপ চলাকালে বলেছিলেন, ‘ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে শিরোপা জিতলে আরেকটি যুগের শুরু হবে। শুধু তরুণ ক্রিকেটারদের উঠে আসাই নয়, ইংল্যান্ডে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাও বাড়বে।’ সত্যিই কী তাই হবে? বিশ্বকাপ জেতার পর উপমহাদেশে যেমন উচ্ছ্বাস দেখা যায় তার ছিটেফোঁটাও ছিল না লন্ডন জুড়ে। কিছু কিছু জায়গাতে ট্রফি নিয়ে তরুণ-তরুণীদের কথা বলতে দেখা গেলেও সংখ্যাটা খুবই নগন্য। এমন অবস্থায় সত্যিই কি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা পাওয়া সম্ভব?

রবিবার লর্ডসে প্রথমবার বিশ্বকাপ ট্রফি জেতার পর ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটাররা। রানীর বাস ভবনেও ট্রফি নিয়ে গিয়েছিলেন তারা।

বিশ্বকাপজয়ী দলটাকে নিয়ে এর বাইরে তেমন কোন আনুষ্ঠানিকতায় দেখা যায়নি। অথচ উপমহাদেশের কোনও দল শিরোপা জিতলে পুরো দেশে রঙের উৎসব হতো!

লরিক্স হেন্স নামের এক কিশোর বাবার হাত ধরে খেলা দেখছিলেন। অবশ্য এমন পরিস্থিতিতেও সম্ভাবনার দেখা মিলেছে গ্যালারিতে। স্বপ্ন দেখা এক কিশোরকে পাওয়া গেলো সেখানে। লরিক্স হেন্স নামের সেই কিশোর বাবার হাত ধরে খেলা দেখছিলেন। লর্ডসের ফাইনালের প্রতিটি বলেই রাখছিলেন সজাগ দৃষ্টি। নিজ চোখে দেশের প্রথম শিরোপা জয় হেন্সকে নিশ্চিত ভাবেই উজ্জীবিত করছে। জানালেন তার আগ্রহের কথা, ‘সত্যি ক্রিকেটটা পছন্দ করি। খেলতেও ভালোবাসি।’ ক্রিকেট পছন্দ করা এই কিশোর হয়তো ভাবতে শিখবেন, ক্রিকেট খেলে বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব। ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্ন দেখা যায়। বেন স্টোকস হয়ে দেশকে কিছু দেওয়া সম্ভব। হয়তো হেন্সের মতো অনেকেই এই স্বপ্ন নিয়ে ইংল্যান্ডে ক্রিকেটের পতাকা উড়াবেন।

জো ‍রুট এই দিনটির কথাই বার বার বলেছিলেন, এবারের বিশ্বকাপ ট্রফি জেতা ইংল্যান্ডে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেবে। নতুন করে ফুটবলপ্রেমীরা ভাবতে শিখবেন, ক্রিকেটও তাদের দেশকে সন্মানিত করে।

তবে ৪৪ বছর পর শিরোপা জেতার পরও একটি ইস্যুতে প্রশ্ন উঠছে। ভিনদেশিদের নিয়ে শিরোপা জেতা ইংল্যান্ড ক্রিকেটর জনপ্রিয়তা কতখানি ফেরাতে পারবে। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক এউইন মরগানের জন্ম আয়ারল্যান্ডে, বেন স্টোকসের জন্ম নিউজিল্যান্ডে, জোফরা আর্চারের জন্ম বার্বাডোজে, মইন আলী এবং আদিল রশিদের জন্ম পাকিস্তান থেকে আসা অভিবাসী পরিবারে। কোন না কোন ভাবে দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটার ভিনদেশি।  ভিনদেশিদের নিয়ে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জেতা অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না!

ব্রিটিশ টেনিস তারকা অ্যান্ডি মারে থেকে শুরু করে ইংল্যান্ডের বহু রাজনীতিবিদ এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠিয়েছেন। তাদের অনেকেই বলছেন, ইংল্যান্ড জিতলেও আমাদের এভাবে জেতার দরকার নেই।

বাস্তবতা তেমনই-ইংল্যান্ডকে ফাইনালে তোলার নায়ক বেন স্টোকসের জন্ম নিউজিল্যান্ডে। এমন অবস্থায় আদৌ ইংল্যান্ডে ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করে তোলা সম্ভব? উত্তরটা হয়তো এখনই পাওয়া যাবে না!

/এফআইআর/

লাইভ

টপ