ব্যাডমিন্টন ছাড়তে চেয়েছিলেন ৭ বারের ত্রিমুকুটজয়ী শাপলা!

Send
তানজীম আহমেদ
প্রকাশিত : ১৮:১১, জুলাই ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২০, জুলাই ২২, ২০১৯

67352500_854041331635354_2690839926257221632_n২০০৩ সালে শিশু একাডেমির আয়োজনে ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিতে শুরু শাপলা আক্তারের। ২০০৭ ও ২০০৯ সালে পান ত্রিমুকুট (একক, দ্বৈত ও মিশ্র)। কিন্তু পরের বছর কোনও সাফল্য পাননি, ফেডারেশনের কাছেও শুনতে হয়েছে কটু কথা। তাতে ব্যাডমিন্টনই ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন শাপলা। কিন্তু সব সহ্য করে থেকে যান এবং এরপর আরও ৫ বার ত্রিমুকুট জিতে এখন ব্যাডমিন্টনের উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি।

এবার চট্টগ্রামে জাতীয় প্রতিযোগিতায় জিতেছেন সপ্তম ত্রিমুকুট। টানা তিন আসরে এই কীর্তি তার। ২০১০ সালের দুঃসহ স্মৃতি রোমন্থন করে শাপলা কিছুটা আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘ওই বছরটা (২০১০ সাল) আমার জন্য খারাপ যাচ্ছিল। ভালো ফল হচ্ছিল না। তখন ফেডারেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সতীর্থদের আচরণ অনেক খারাপ ছিল। আমার উদ্দেশ্যে কটু মন্তব্য করছিলেন তারা। অথচ আগের বছর সাফল্য পাওয়ার পর আমাকে নিয়ে তখন উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। এক বছরের মধ্যে তাদের আচরণ পাল্টে যেতে দেখে আমি খুব কষ্ট পাই। তখন ব্যাডমিন্টন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিলাম।’

কিন্তু শাপলাকে ব্যাডমিন্টন ছাড়তে হয়নি। এই কঠিন সময়ে পাশে পান ফেডারেশন কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান রাজুকে। ছয় বছর পর তার সঙ্গেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন শাপলা। রাজুর প্রেরণায় ব্যাডমিন্টন থেকে দূরে থাকতে হয়নি তাকে। মুখ বুজে সব কথা সহ্য করে নিজেকে নতুনভাবে প্রস্তুত করেছেন।

শাপলা বলেছেন, ‘সমালোচনা সহ্য করা যায়, কিন্তু কটু কথা না। তখনকার কর্মকর্তা ও বর্তমানে আমার স্বামী আমাকে নতুন করে প্রেরণা না জোগালে হয়তো আজ আমি ক্রীড়াঙ্গনেই থাকতাম না। তখনই সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলে ব্যাডমিন্টন কোর্টে থেকে যাই। এখনও আছি বলেই আজ এত সাফল্যের দেখা পাচ্ছি।’

ক্যারিয়ারে সিনিয়র ইভেন্টে ত্রিমুকুট জেতার রহস্য নিজেই জানালেন এই শাটলার, ‘কঠোর পরিশ্রমের কারণে আজ আমি এই পর্যন্ত এসেছি, একের পর এক সাফল্য পাচ্ছি। আমি মনে করি ভালো কিছু করতে হলে সাধনার বিকল্প নেই। এছাড়া আমার স্বামী নিজেও একজন জাতীয় পর্যায়ের কোচ। তার কোচিংই মূলত আমাকে এই পর্যন্ত উঠে আসতে সহায়তা করেছে।’

পরিশ্রম করে আগামীতেও ব্যাডমিন্টনের জগতে টিকে থাকতে চান ২৬ বয়সী এই শাটলার। খেলার পাশাপাশি তাইতো কোচিং কোর্সও করে যাচ্ছেন, ‘যতদিন পারবো খেলে যাবো। যদিও ফিটনেসের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। খেলার পাশাপাশি কোচিং কোর্সও করে যাচ্ছি। লেভেল-ওয়ান কোর্স করেছি। সামনে কোচ হিসেবে কাজ করার ইচ্ছা। ব্যাডমিন্টন আমার রক্তে মিশে আছে। এখান থেকে এখন দূরে থাকার কথা চিন্তাই করতে পারি না।’

ঘরোয়া পর্যায়ে দেশের শাটলাররা ভালো করলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য খুব একটা নেই। দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে সর্বোচ্চ ব্রোঞ্জ জিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। সুযোগ সুবিধা কম বলেই এমনটা হচ্ছে মনে করেন শাপলা, ‘দেখুন,  আমাদের এখানে প্রতিভার কোনও অভাব নেই। কিন্তু সমস্যা হলো, নিবিড় অনুশীলন আর পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব আছে। যে কারণে একটা পর্যায়ে গিয়ে থেমে যেতে হচ্ছে। ফেডারেশন যদি আরও সক্রিয় থাকতো, যদি নিয়মিত লিগ আয়োজনের পাশাপাশি খেলোয়াড়রা উচ্চতর প্রশিক্ষণ পেতো, আর বেশি বেশি আন্তর্জাতিক আসরে খেলতে পারলে হয়তো ব্যাডমিন্টনে সাফল্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতো।’

ব্যাডমিন্টনে মেয়েরা প্রতিষ্ঠিত হতে পারছে না, সংখ্যাও খুব কম। এনিয়ে হতাশ শাপলা, ‘ব্যাডমিন্টনে নতুন করে উঠে আসা মেয়েদের সংখ্যা কম।’ তার কারণ বললেন শাপলা, ‘ কেননা ব্যাডিমিন্টন খেলে একটি মেয়ের পক্ষে ক্যারিয়ার গড়া কঠিন। এছাড়া খেলাটি ব্যয়বহুল। লিগ হয় না ঠিকমতো। ছেলেদের মতো মেয়েদের দেশের আনাচে-কানাচে খেলার সুযোগ নেই, যেখান থেকে পারিশ্রমিক পাওয়ার সুযোগ আছে। এছাড়া ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের পরিবেশও ততটা সহায়ক না। আমি অনেক আগে থেকে শুরু করেছি। তাই এর মায়ায় পড়ে গেছি বলতে পারেন। এজন্য এখন ছেড়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করি না।’

/টিএ/এফএইচএম/

লাইভ

টপ