লক্ষ্যচ্যুত হলো বাংলাদেশ

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১১:২০, জুলাই ২৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩০, জুলাই ২৯, ২০১৯

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।আমাদের দলটিতে কিছু প্রথম সারির খেলোয়াড় অনুপস্থিত ছিল জেনেও একটা প্রত্যাশা ছিল যে একটা উপভোগ্য সিরিজে দারুণ লড়াই দেখবো দুই দলের। কিন্তু এমন এক তরফা ভাবে পর পর দুই ম্যাচ এভাবে হেরে যাবো প্রত্যাশা করিনি। অভিনন্দন শ্রীলঙ্কাকে প্রায় সাড়ে তিন বছর পর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জেতার জন্য।

আমাদের ব্যাটিং বিশ্বকাপ থেকেই ধুঁকছিলো, সাকিবের ধারাবাহিক ব্যাটিং নৈপুণ্যের কারণে অনেকাংশেই আড়ালে পড়ে গিয়েছিল টপ অর্ডারের ব্যাটিং ব্যর্থতা। বরং এই সিরিজে সাকিবের অনুপস্থিতিতে আরও পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠলো আমাদের ব্যাটিং দৈন্যতার দৃশ্য। আউট অব ফর্মের কেউই ধারাবাহিক হতে পারলেন না এবং ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্যাচের প্রথমার্ধের পরই উজ্জ্বল হয়ে উঠে আমাদের সিরিজ হারার শঙ্কা। একমাত্র মুশফিক সাকিবের মতো তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন। খেললেন অনবদ্য ৯৮ রানের ইনিংসটি। যে পিচে সবাই ব্যর্থ হলেন সেখানেই তিনি পিচের সঙ্গে মানিয়ে একটি মুগ্ধকর সাজানো বড় ইনিংস পেলেন। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে মিরাজের সঙ্গে মুশফিকের করা ৮৪ রানের জুটিটি ছিল একমাত্র ইতিবাচক দিক। মিরাজের ব্যাটিংয়ের ওপরও যে ভরসা রাখা যায় তার আরেকটি দৃষ্টান্ত তিনি প্রমাণ করলেন কাল।

এই পিচে ২৩৮ রানকে পুঁজি করে জিততে গেলে প্রয়োজন ছিল ইনিংসের শুরুতেই দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া এবং মিতব্যয়ী বোলিংয়ের সংমিশ্রণ। কিন্তু হলো তার উল্টো, ওভার প্রতি দারুণ খরুচে ছিল বোলাররা এবং উইকেটের দেখাও মিললো না। প্রথম ৮ ওভারেই দলের চতুর্থ বোলারকে ব্যবহার করতে হলো তামিমকে। কিন্তু তাতেও অবস্থার কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। দারুণ ব্যাট করেছেন আভিষ্কা ফার্নান্ডো, তার শটের সঙ্গে প্লেসমেন্ট ছিল দারুণ । শফিউলের এক ওভারে মারা তিনটি চার ছিল চোখ জুড়ানো। আক্রমণাত্মক এই ব্যাটসম্যানকে ব্যাট হাতে পরখ করার সুযোগ আগে তেমন হয়নি। তবে নিঃসন্দেহে তিনি আগামীতেও শ্রীলঙ্কার অনেক সাফল্যে নেতৃত্ব দেবেন।

মাশরাফি, সাকিব ও সাইফউদ্দিনসহ বিশ্বকাপে আমাদের বোলিং যথেষ্ট ধারালো ছিল না। তাই এই সিরিজে বোলিংও যে বড় মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে তা অনুমান করা যাচ্ছিল এবং হলোও তাই। আমাদের দুই পেস বোলারকে খুবই আরাম করে খেললো লঙ্কানরা। একমাত্র স্পিনে কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেছে মিরাজ ও তাইজুল। কাল তাইজুল যথেষ্ট ভালো বল করেছেন তার প্রান্ত থেকে এবং শুধু টেস্ট ম্যাচ নয় তার ওপর একদিনের ম্যাচেও যে নির্ভর করা যায় তার প্রমাণ রাখলেন। তবে ধারাবাহিক বাজে ফিল্ডিং ও ক্যাচিংয়ের কারণে তাকে উইকেটশূন্যই থাকতে হয়।

মাঠে তামিমকে আরও উজ্জীবিত থাকা প্রয়োজন। দলের মনোবল চাঙা রাখার জন্য তাকে যেমন প্রাণবন্ত ব্যাট করতে হবে তেমনি ফিল্ডিংয়েও প্রাণবন্ত থাকতে হবে। সাব্বিরকে দিয়ে বল করানোর সিদ্ধান্ত ভালো লাগেনি। সিরিজ জেতার মিশনে লক্ষ্যচ্যুত হলো বাংলাদেশ। তবে মনোবল রক্ষার জন্য তৃতীয় ম্যাচটি জেতা খুবই প্রয়োজনীয়।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ