‘বাছাই খেলতে হলেও আমাদের ভাবনা জুড়ে শুধুই বিশ্বকাপ’

Send
রবিউল ইসলাম
প্রকাশিত : ২০:১৭, আগস্ট ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২৩, আগস্ট ০৮, ২০১৯

নিগার সুলতানা২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক নিগার সুলতানার। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই উইকেটরক্ষক ব্যাটারকে। প্রতিটি সিরিজ ও টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ মহিলা দলে তিনি নিয়মিত মুখ। দক্ষিণ আফ্রিকার ইমার্জিং দলের বিপক্ষে সদ্যই শেষ হওয়া সিরিজে অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। বাড়তি দায়িত্ববোধ থেকে ভাঙা পা নিয়ে মাঠে নেমে দলকে এনে দেন জয়। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের প্রস্তুতি নিলেও নিগারের ভাবনা জুড়ে বিশ্বকাপের মূল পর্ব। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে ফিরে বাংলা ট্রিবিউনের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানিয়েছেন আরও অনেক কিছু।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুটা কিভাবে?

নিগার সুলতানা: ভাইয়ারা যখন ক্রিকেট খেলতো, আমিও তাদের সঙ্গে খেলতাম। এখানে (কোচ) মোখলেসুর রহমান স্বপন স্যার আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন। আমার ভাইয়া সবসময় বলতো, ‘তোমার যদি কিছু হতে ইচ্ছে করে, তুমি সালমা খাতুন হবা।’ আমি বলতাম, ‘সালমা খাতুন কে?’ আমার ভাইয়া সবার ছবি দিখিয়ে বলতো, ‘এটা সালমা, এটা রুমানা, এটা জাহানারা।’ ওভাবেই ক্রিকেট শুরু।

আর পেশাদার খেলা শুরু করি ২০১১ সালে। প্রথম দুই বছর শেখ জামালের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ খেললেও ব্যাটিং পেতাম না! তাই কয়েক বছর ছোট দলে খেলে টপ অর্ডারে ব্যাটিং করি। যে কারণে ২০১৪ সালে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাই। যদিও মূল দলে সুযোগ হয়নি। পরের বছর পাকিস্তান সফরে দলে সুযোগ আসে।

বাংলা ট্রিবিউন: সদ্যই খেলে এসেছেন দক্ষিণ আফ্রিফায়, সফরটা কেমন ছিল?

নিগার: দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের আগেরবারের পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। এবার আমরা আগের চেয়ে ভালো করেছি। সব মিলিয়ে সফরটা ভালো ছিল। আমাদের ৪-৫ জন মূল খেলোয়াড় খেলেনি। ওদেরও তেমনই ছিল। তবে ওয়ানডে সিরিজ হেরে যাওয়ার পর ওরা (দক্ষিণ আফ্রিকা) ওদের অধিনায়ক নাদাইন ডি ক্লার্ককে নিয়ে এসেছিল। ওয়ানডেতে ভালো করলেও টি-টোয়েন্টিতে শেষ দিকে গিয়ে আমরা ম্যাচ হেরেছি।

নিগার সুলতানাবাংলা ট্রিবিউন: এবারই প্রথম সুপার ওভারের রোমাঞ্চ পেল বাংলাদেশ মহিলা দল। ওই ম্যাচের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

নিগার: তৃতীয় ম্যাচটি আসলে অন্যরকম ছিল। এর আগে আমরা সুপার ওভারে কখনও খেলিনি। ম্যাচটা আসলে জেতার কথা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারিনি। প্রতিটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই আমরা খুব ক্লোজে গিয়ে হেরেছি। কম ম্যাচ খেলার কারণেই টি-টোয়েন্টিতে হেরেছি। খেলতে খেলতে হয়তো এই জায়গাতে আমাদের পজিশন তৈরি হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: আবারও বাছাই পর্ব টপকে বিশ্বকাপ খেলতে হচ্ছে, এবার কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে?

নিগার: বাছাই পর্ব সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। একটু এদিক-ওদিক হলেই স্বপ্নভঙ্গ। আমরা সবাই আত্মবিশ্বাসী এবারও চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপ খেলব। ৬-৭ জন সিনিয়র ছাড়া দলের বাকি সবাই দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ খেলেছে। বাছাই পর্বের প্রস্তুতিতে তাই সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সত্যি কথা বলতে, আমরা বাছাই পর্ব নিয়ে একদমই ভাবছি না। বাছাই খেলতে হলেও আমাদের ভাবনা জুড়ে শুধুই বিশ্বকাপ। আমাদের লক্ষ্য খেলার মান বাড়ানো, যেন ২০২০ বিশ্বকাপে ভালো করতে পারি।

বাংলা ট্রিবিউন: বাছাইয়ের প্রস্তুতির জন্য ঈদের ছুটি বাতিল হয়েছে। পরিবার ছাড়া ঈদ করাটা নিশ্চয় কষ্টের?

নিগার: অনেক সময় তো ঈদের দিনও ক্রিকেট খেলতে হয়। আমরা এটা মানিয়ে নিয়েছি। ক্যাম্পটা রাখার উদ্দেশ্য হলো আমরা যারা জুনিয়র ছিলাম, তারা কিছু ম্যাচ পেয়েছি। কিন্তু এর বাইরে ৭-৮ জন যারা বাইরে ছিল, তারা ম্যাচ পায়নি। তাদের নিয়ে সবাই যদি একসঙ্গে খেলতে পারি, তাহলে আমাদের জন্যই ভালো হবে। টিম কম্বিনেশনও দেখা হয়ে যাবে আরেকবার।

নিগার সুলতানাবাংলা ট্রিবিউন: নতুন বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এসেছে দলে। তাদের সম্পর্কে কী বলবেন?

নিগার: আমরা সবসময় চাইতাম, আমাদের ‘এ’ দল নামে একটি দল হোক। যাতে একাদশের বাইরের খেলোয়াড়রাও ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। এবার প্রথমবারের মতো বিসিবি নারীদের ‘এ’ দল গঠন করেছে। যারা আগে সুযোগ পেতো না তারা ট্যালেন্ট দেখাতে পেরেছে। এদের মধ্যে হ্যাপি আছে, সোবাহানা আছে। আরও কিছু নতুন খেলোয়াড় আছে।

বাংলা ট্রিবিউন: সোবাহানাকে নিয়ে তো বেশ আলোচনা হচ্ছে...

নিগার: ও খুব মারতে পারে। কঠিন পরিস্থিতিতে ২০ বলে ৩০ রান কিংবা ৩০ বলে ৫০ রান লাগলে ওটা সে করতে পারবে। ওর মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাসটা আছে।

বাংলা ট্রিবিউন: দক্ষিণ আফ্রিকায় কি আপনার আরও ভালো করার সুযোগ ছিল?

নিগার: ভালোর তো আর শেষ নেই। তবে যতখানি হয়েছে আমি সন্তুষ্ট। অধিনায়ক হিসেবে চেষ্টা করেছি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার। প্রথম ম্যাচে সেভাবে ক্লিক করতে না পারলেও পরের ম্যাচে পেরেছি। একটি ম্যাচে তো ইনজুরি নিয়ে খেলেই দলকে জিতিয়েছি।

বাংলা ট্রিবিউন: কোন ম্যাচে?

নিগার: দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইনজুরিতে পড়ে আমাকে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই ভেবেছিলাম যদি চিড় না ধরা পড়ে, তাহলে আমি নামতে পারব। কিন্তু আমি পা-ই ফেলতে পারছিলাম না, স্পাইক পরা তো দূরের কথা! পরিস্থিতি এমন তৈরি হয়েছিল যে আমাকে নামতেই হবে। যাইহোক শেষ পর্যন্ত নেমেছিলাম। যেখানে আমি নাম্বার থ্রিতে ব্যাট করি, সেখানে ছয় নম্বরে নেমেছিলাম। আমি আর সোবাহানা মিলে ম্যাচ জিতে ফিরতে পেরে ভালো লেগেছে।

/আরআই/কেআর/

লাইভ

টপ