দুটি উইকেটের মধ্যে একটি যেন বড় পার্টনারশিপ হয়

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২১:৫৯, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫৯, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।দ্বিতীয় দিনে আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ফেরত আসার একটা সুযোগ ছিল। সেই কাজটি তারা উইকেটের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ঠিকভাবেই করেছিল। ৩৪২ রানে তাদের অলআউট করতে পেরেছে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে। দিন শেষের সেশনটিও ছিল অসাধারণ। প্রায় ঘন্টাখানেকের বেশি স্থায়ী ছিল বর্তমান জুটিটি। কিন্তু মাঝখানের সময়টুকুতেই আমরা পুরো ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে গেছি।

প্রতিটি সেশন একটা দিনে একটা দল জিততে পারে না। কিন্তু মূল্যবান যে সেশনটি থাকে যেখানে সেরা ব্যাটিং নিয়ে আমরা লড়বো, সেশনটা নিজেদের করে নেবো। সেখানে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১৩০-৪০ মিনিটে অনেক পিছিয়ে গেছি। বিশেষ করে লাঞ্চের পরের সেশনে টপ আর মিডল অর্ডার যেভাবে আউট হলো সেটা খুব করুণ দৃশ্য ছিল।

আমার মতে উইকেট এমন আহামরি ভয়ঙ্কর কিছু ছিল না, যে খেলা যাবে না। এখানে সামান্য কিছু স্পিন রয়েছে। আরেকটু মনোযোগী হতে পারলে হয়তো এমনটি হতো না। যেভাবে লিটন আউট হলো, যেভাবে রিয়াদ আউট হলো- তাদের খেলার অ্যাপ্রোচটা আমার ভালো লাগেনি। সাকিব আল হাসান চেষ্টা করেছিলেন। তার জন্য দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ দীর্ঘ বিরতির পর তিনি দলে যোগ দিয়েছেন। তাই ব্যাটিংয়ের দশাটা বিশ্বকাপ, শ্রীলঙ্কায় যে চিত্রটা দেখেছি সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য টেস্ট ম্যাচ একটা উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম ছিল। তার সঙ্গে দল হিসেবে আফগানিস্তান ছিল খুবই নতুন একটি দল। সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের চমৎকার উইকেটের আচরণ ছিল যথেষ্ট ভালো। উইকেট এমন কোনও আচরণ করেনি। একমাত্র রিয়াদের বলটি ছাড়া আর কোনও বল নিচু হয়নি কিংবা লাফিয়ে ওঠেনি যা ব্যাটসম্যানদের বিপর্যয়ে ফেলতে পারে। এখানে ছিল টেম্পারমেন্ট আর স্কিলের একটা পরীক্ষা দেওয়া ও নেওয়ার একটি ব্যাপার। সেখানে আমরা পরীক্ষা দিতে গিয়ে পিছিয়ে পড়েছি, পরীক্ষা নিতে গিয়ে আফগানরা আজকে সফল হয়েছে।

টেস্ট ম্যাচে সব ব্যাটসম্যান রান পাবে না এটা যেমন সত্য। সবাই থিতু হতে পারে না এটাও সত্য। কিন্তু যারা থিতু হতে পারে তারা ইনিংসটাকে কতটুকু লম্বা করতে পারে তার ওপরই দলীয় সফলতা নির্ভর করে। এটা রহমত শাহ, আসগর আফগান করে দেখিয়েছে। সেই কাজটা মুমিনুল হকের ছিল, তিনি আজকে ৫০ রান করেছেন। কোনও কোনও সময় আক্রমণাত্মক ব্যাট করেছেন। কোনও কোনও সময় অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স। সে হিসেবে কিন্তু তার উপরে শট খেলার প্রবণতার খেসারত তাকে দিতে হলো। আজকে কিন্তু দল তার থেকে বড় রান চাচ্ছিল। দলেও এতদিন পর তিনি উইকেটে আসছেন, তাই সেখানে থিতু হওয়াটা তার জন্য প্রয়োজন ছিল। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন। সেই সুযোগটা তার এসেছিল, বল ব্যাটে ভালোভাবে আসছিল। তবে ক্যালকুলেটিভ রিস্কটা বাদ দিয়ে খেলা উচিত ছিল। পরিস্থিতি অনুযায়ী দল কিন্তু চাহিদা করছিল একটা প্রান্ত যেন মুমিনুল আগলে রাখে। সেই কাজটা তিনি করতে পারেননি। ৫০ রান করলেও সেটা আংশিক সফলতা। তার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু দল জুটিহীন হয়ে গেলো।

এখন মোসাদ্দেক রান করছে, সেখানে যা হওয়ার কথা না সেটাই হচ্ছে। তাইজুল তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন। আমাদের তারকা খচিত ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ করেছেন। সেখানে লেজের দিকে তাইজুল চমৎকার সঙ্গ দিচ্ছেন। তারা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছেন যেন বাংলাদেশের রান সংগ্রহটা একটা নিরাপদ জায়গা নিয়ে যেতে পারে।

আফগানিস্তান যদি লিডটা ১০০ রানের মতো পেয়ে যায় তাহলে সেটা ভালো লিড হয়ে যাবে। সে হিসেবে আমরা প্রত্যাশা করছি কালকে এখানে যেন বড় একটা পার্টনারশিপ আসে। হয়তো কালকে নামার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই নতুন বলে একটা পরীক্ষা দিতে হবে। আজকে যেভাবে দুজন সেট হয়েছেন, কালকে তাদের নতুন করে সেট হবে হবে। ক্লান্ত আফগানরা আবার সতেজ হয়ে ফিরবে মাঠে। সে হিসেবে এটা কিন্তু বড় চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের। তা উতরাতে না পারলে আরও বিপদের মুখে পড়তে হবে। বেশিভাবে পিছিয়ে যাবো। সে কারণেই তাদের সেরাটা দিতে হবে।

অবশ্য আফগানরাও ছেড়ে কথা বলবে না। তারা বল হাতে প্রমাণ করেছে যে নির্ভরতার দিক থেকে তারা আমাদের ছাড়িয়ে গেছে। অল্প সময়ে আমাদের অনেক উইকেট তারা তুলে নিয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে রশিদ খান ভালো বল করবেন, আর উইকেটও তুলে নেবেন। সেটা আমরা দেখতে পেয়েছি, তিনি সেটা করে দেখিয়েছেন। আবার মুমিনুল হক আর লিটন দাসের রিভিউ তারা নেয়নি। যদি সেটা নিতে পারতো তাহলে তা হয়তো আরও বড় বিপদের মুখে ফেলে দিতো আমাদের।

সঙ্গে আমি দেখতে চেয়েছিলাম জহির খান কীভাবে বল করে। তিনি কিন্তু উইকেট থেকে যথেষ্ট সহায়তা পাননি। তার দ্রুত গতির বল বলে দিচ্ছে যে তিনি টার্ন পেলে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন। আমাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সময় তিনি বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারেন।

আরেকটা স্পিনার কায়েস আহমেদ, তার ফ্লাইট আর বলের নিট ছিল কার্যকরী। রশিদ খানের সহযোগী হিসেবে এই দুজন বোলার যথেষ্ট কুশলী। সঙ্গে বিদায় নিতে যাওয়া নবী আছেন। দীর্ঘ সময় একটা প্রান্ত থেকে অনেক লম্বা স্পেলে বল করতে পারেন। এটা তার বড় গুণ। আরেকটা গুণ তিনি যখনই দলের প্রয়োজন, তখন প্রতিপক্ষের উইকেট তুলে নিতে পেরেছেন। একাধিক উইকেট তুলে নিয়েছেন। আরেকজনের ওপর চোখ ছিল যে আহমাদজাই পেসার হিসেবে কেমন বল করে। এই উইকেটে আমরা পেসার রাখিনি। অথচ সেই উইকেটে তিনি বল করে চমৎকার ইকোনমি রেখে আমাদের প্রথম উইকেট তুলে নেওয়াসহ দুটি সুযোগও সৃষ্টি করেছিলেন।

কাল অবশ্যই আফগানদের লক্ষ্য থাকবে কত দ্রুত আমাদের অলআউট করতে পারে। আর কালকেই বোঝা যাবে এই টেস্ট কোন দিকে যাবে। কালকে আমাদের লক্ষ্য থাকবে এই দুটি উইকেটের মধ্যে একটি যেন বড় পার্টনারশিপ হয়, আরেকটা যেন মাঝারি মাপের হয়। তাহলে হয়তো ব্যবধান কমাতে পারবো। এই ব্যবধান কমানো ছাড়া এই টেস্টে লড়াইয়ে ফেরত আসা খুব মুশকিল!

/এফআইআর/

লাইভ

টপ