বাংলাদেশকে ১০০তে শূন্য দেবো: সাকিব

Send
রবিউল ইসলাম, চট্টগ্রাম থেকে
প্রকাশিত : ২১:০১, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৪, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

সংবাদ সম্মেলনে হতাশ সাকিবটেস্ট ক্রিকেটের নবীন সদস্য আফগানিস্তানের কাছে ২২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হার। বৃষ্টিতে পাঁচটি সেশনে খেলাই হয়নি। শেষ দিন টিকতে হতো ১৮.৩ ওভার, কিন্তু ২০ বল আগেই বাংলাদেশ অলআউট। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই হারকে অবশ্য লজ্জাজনক বলতে রাজি হননি সাকিব আল হাসান। তবে বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে এই হার ‘কষ্টদায়ক’।

প্রশ্ন: আপনার দলের পারফরম্যান্সকে ১০০তে কত দেবেন?

সাকিব: শূন্য দেবো।

প্রশ্ন:  আজ ১৮ ওভার টিকতে না পারা কতটা হতাশার?

সাকিব: এটা মেনে নেওয়া অবশ্যই কষ্টকর, এটা খুবই হতাশাজনক। চার উইকেট হাতে নিয়ে এক ঘণ্টা ১০ মিনিট খেলতে হতো আমাদের। কিন্তু আমি প্রথম বলেই আউট হয়ে গেলে কাজটা কঠিন হয়ে যায়। এর দায় আমার ওপরেই পড়ে। প্রথম বলেই ওভাবে কাট শট খেলা উচিত হয়নি। আমি যেহেতু অপরাজিত ছিলাম, তাই আমার উচিত ছিল মেইন রোল প্লে করার। এটা করতে পারলে হয়তো আমরা ম্যাচটা ড্র করতে পারতাম।

প্রশ্ন:  এই হার কতটা লজ্জাজনক?

সাকিব:  আমার কাছে একটুও লজ্জাজনক বলে মনে হয় না। হ্যাঁ অবশ্যই কষ্টদায়ক, তবে লজ্জাজনক নয়। 

প্রশ্ন: টেস্টে পেসারদের নিয়ে সংশয়ে থাকে বাংলাদেশ। আবার টার্নিং উইকেটে প্রতিপক্ষের স্পিনারদের সামনে ভীত থাকে ব্যাটসম্যানরা। এত সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট এখন কোথায় দাঁড়িয়ে?

সাকিব: কঠিন প্রশ্ন। ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে হলে আমাদের খেলোয়াড়দের কোয়ালিটি আরও বাড়াতে হবে। নইলে উইকেটের সুবিধা নিয়ে ম্যাচ জিততে হবে। কিন্তু সেসব জয় ধারাবাহিকভাবে আসবে না।

প্রশ্ন: কাট শট খেলে ভুল করেছেন বললেন। ওই সময় কী ভাবছিলেন?

সাকিব:  আমি তখন বেশ নার্ভাস ছিলাম। চেয়েছিলাম প্রথম বলটা ভালোভাবে ফেস করতে। কিন্তু প্রথম বলেই আউট হয়ে যাই। আমারই ভুল।

প্রশ্ন: ৭০ মিনিট টিকে থাকার সামর্থ্যও কি আমাদের নেই?

সাকিব:  না, নেই। সেই সামর্থ্য থাকলে আরও বেটার কিছু শো করা যেত। তাইজুল আউট ছিল না। মিরাজ রিভিউ না নিলে সেটা তাইজুল নিতে পারতো। এটা হয়তো আমাদের একটু হেল্প করতো। কারণ তাইজুল আগের ইনিংসে ভালো ব্যাট করেছিল। সৌম্য সিঙ্গেল নিয়ে মাথায় হাত দিচ্ছে, বুঝতে পারছে না আসলে ওর রোলটা কী। এসব অনেক কিছু শেখার আছে, অনেক কিছু বোঝার আছে।

প্রশ্ন: আগামী কয়েক দিন দল ও আপনাকে নিয়ে সমালোচনা হবে। সমালোচনা এড়াতে কী করবেন?

সাকিব: ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচটা জেতা দরকার। তাহলে হয়তো সবকিছু কন্ট্রোলে আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে। সেজন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। অবশ্য টুর্নামেন্ট শুরু হতে মাত্র তিন দিন বাকি। খুব তাড়াতাড়ি আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এই দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই হয়তো টি-টোয়েন্টি খেলবে। সবার মানসিকতা পরিবর্তন করে টি-টোয়েন্টির সঙ্গে মানিয়ে পারফর্ম করতে হবে।

প্রশ্ন: নতুন কোচের শুরুটা ভালো হলো না। এটাকে কীভাবে দেখছেন?

সাকিব: আমাদের নতুন কোচের কপালে শুরুতে যেন বাজে হারই থাকে! স্টিভ রোডস যখন এসেছিলেন, তখন আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ৪৮ রানে অলআউট হয়েছিলাম। তবে এটা একদিক দিয়ে ভালো। কোচ শুরুতেই দলের সবচেয়ে খারাপ জিনিসটা দেখে ফেলেন। এর থেকে খারাপ হওয়ার তো সুযোগ নেই।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপে আপনার পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। বিশ্বকাপের পর প্রথম খেলতে নেমেই আপনি ব্যর্থ। এটা কতটা হতাশাজনক?

সাকিব: বিশ্বকাপে ভালো করার পরও মনে করিনি আমি আকাশে উড়ছি। আর এই ম্যাচে খারাপ করার পর মনে করছি না মাটির নিচে চলে গেছি। আমি যেখানে ছিলাম সেখানেই আছি। আমি সব সময় ভালো খেলার চেষ্টা করি। সব সময় দলের জন্য কন্ট্রিবিউট করতে পারবো না। এটাই স্বাভাবিক। এমন হলে তো যারা ভালো খেলবে তাদেরই শুধু ম্যাচ ফি দিতে হবে।

প্রশ্ন: অনেক দেশেই ফরম্যাট অনুযায়ী আলাদা দল গড়া হয়। বাংলাদেশের ক্রিকেটেও কি আলাদা দল গড়ার সময় এসেছে?

সাকিব: কে কোন ফরম্যাটে বেটার অপশন, সেটা আমাদের আগে বুঝতে হবে।  নয়তো এমন ফল বিপর্যয় হতেই থাকবে। যেটা বিশ্বকাপে শুরু হয়ে শ্রীলঙ্কা সফরের পর আফগানিস্তানের সঙ্গেও হলো। আমাদের এখন দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আসলে দুঃসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তখন কোনটা যে সঠিক সিদ্ধান্ত বোঝা যায় না। তাই আমাদের এখন কয়েকটা ম্যাচ জেতা খুবই জরুরি।

/আরআই/এএআর/

লাইভ

টপ