মিরপুরে আফিফ ঝড়

Send
রবিউল ইসলাম
প্রকাশিত : ০০:১৩, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৬, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯

mm54-1568395205426

মায়ের আদর পাননি আফিফ হোসেন। একদম ছোটবেলায় যখন মুখে কথাও ফোটেনি, তখন হারিয়েছেন মাকে। খুলনার এই ছেলেটি বড় হয়েছে ঢাকায়, খালার কাছে। বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন কখনও ছেলের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়াননি। বরং ২০১০ সালে বিকেএসপিতে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে তার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নের পথটা সুগম করেছেন।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল আফিফ হোসেনের। ওই ম্যাচে বোলিংটা ভালো হলেও ব্যাটিংয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি। তবে শুক্রবার ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করলেন রাজসিক প্রত্যাবর্তন। দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে ম্যাচ জেতালেন ১৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

৬০ রানে ৬ উইকেট হারানো যে কোন দলের জন্যই ১৪৫ রান ছোঁয়া বেশ কঠিন। আফিফ সেই কাজটি কত সহজেই না করে দিয়েছেন ৫২ রানের ঝড়ো এক ইনিংস খেলে। তাতে অবশ্য মোসাদ্দেকের অবদানও কম  নয়। ৮২ রানের জুটিতে মোসাদ্দেকের অবদান ৩০ রান।

মাত্র একটি টি-টোয়েন্টি খেলা আফিফের অপেক্ষার অবসান হলো শুক্রবার সন্ধ্যায়। নিজের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামলেন। নেমেই করলেন বাজিমাত! মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আফিফ ঝড়ে উড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশের জন্য ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় আফিফ-মোসাদ্দেক জুটি। সপ্তম উইকেটে ৮২ রানের জুটি গড়ে জয়ের মঞ্চ গড়েই সাজঘরে ফেরেন আফিফ। ততক্ষণে নিজের কাজটা ঠিকমতোই করে ফেলেছেন এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার। ২৬ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় আফিফ ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন। আউট হন ৫২ রানে।

১৯ বছর বয়সী আফিফ যেভাবে লড়াই করলেন দলের সিনিয়র ব্যাটসম্যানদের এখান থেকে শেখার আছে অনেক। ঠাণ্ডা মাথায় এভাবে খেলতে খুব কম ব্যাটসম্যানকেই দেখা গেছে।

বীরের মতো লড়াই শেষে সাজঘরে ফেরার পথে কোচিং স্টাফদের সবাইতো দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন আফিফকে। ড্রেসিংরুমের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা মুশফিকও পিঠ চাপড়ে দিলেন। হয়তো বলেছেন, ‘সাবাশ বাঘের বাচ্চা’!

অথচ বয়স ভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই বারুদে ব্যাটসম্যান ছিলেন আফিফ হোসেন। বাংলাদেশের একমাত্র ক্রীড়া শিক্ষা কেন্দ্রই ক্রিকেটের ভিত গড়ে দিয়েছে তার। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের পরিচিত মুখ আফিফ পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন বিসিবি অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে ভারতের সিএবি দলের বিপক্ষে চার ম্যাচের সিরিজে চারটি হাফসেঞ্চুরি করে। ২০১৬ সালে বিপিএলে নিজের অভিষেক ম্যাচেই ৫ উইকেট নিয়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন। গত কিছুদিন ধরে ‘এ’ দল এবং এইচপিতে থেকে নিজেকে গড়ে তুলেছেন।

ত্রিদেশীয় সিরিজের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিংটা ভালো না করলেও বোলিংয়ে তিন উইকেট নিয়েছিলেন। সবমিলিয়ে অনেক জায়গায় খেলেই নিজেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে প্রস্তুত করেছেন।

আফিফের বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে জাতীয় দলে খেলবে, সেই স্বপ্ন দেড় বছর আগে পূরণ করেছেন। এই ম্যাচ দিয়ে নিশ্চিত ভাবেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে নতুন করে চেনালেন তিনি। আফিফের স্বপ্ন সাকিবের মতো বিশ্বাসেরা হওয়ার। সেই পথে যেতে আফিফকে হয়তো আরও সংগ্রাম করতে হবে। তবে আফিফের ক্রিকেটীয় মেধা হয়তো তার সেই স্বপ্ন পূরণের সহায়ক হবে।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ