নিজের দেশকে জেতানোর আনন্দ অন্যরকম: আফিফ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:৪২, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪৫, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯

_B9I4830ত্রিদেশীয় সিরিজে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি করলেন আফিফ। তবুও উদযাপন করলেন না! সবাই আশ্চর্য তবে কি ভুলে গেলেন? নাকি জিম্বাবুয়ে বলেই উদযাপন করছেন না?

৪৯ রানে ক্রিজে থাকা আফিফ শেষ রান করার আগে পানির পিপাসায় ডাগআউটে ইশারা করলেন তখন। ১৭তম ওভারে চাতারার শেষ বলটি পয়েন্টে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নেন। তাতেই ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি হয়ে যায় তার। কিন্তু উদযাপন না করে ছুটে যান পানি খেতে! আসলে ভুলে গিয়ে উদযাপনের দিকে আর নজর যায়নি তার। যখন বুঝতে পারেন হাফসেঞ্চুরি হয়ে গেছে, তখন ম্যাচ জেতার পরই উৎসব করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে আউট হলে ভেস্তে যায় তার সেই পরিকল্পনা। ম্যাচ শেষে জানান সেই মুহূর্তের কথা। জবাব দেন নানা প্রশ্নের।   

প্রশ্ন: দলের বিপর্যয়ের মুহূর্তে নেমেছেন, ঠিক কী পরিকল্পনা ছিল?

আফিফ: আমার চিন্তা ছিল আমি আমার মতো করে খেলবো। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করার চেষ্টা করবো।

প্রশ্ন: নেমেই প্রথম বলে চার মারলেন, ওটাই কি মোমেন্টাইম পরিবর্তন করে দিলো?

আফিফ: মোমেন্টাম প্রথম বলে পরিবর্তন করেছিল, অবশ্যই। ওরা তিনটা ফিল্ডার বাইরে রেখে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিল। ওদের পরিকল্পনা পড়তে পেরেছি বলেই চারটা মারতে পেরেছি।

প্রশ্ন: গত দেড় বছরে প্রস্তুতিটা কীভাবে নিয়েছেন?

আফিফ: আসলে মানসিক প্রস্তুতি বলতে বাদ পড়েছি- ওটা আমার দেখার বিষয় ছিল না। যেখানেই খেলা হবে আমি আমার সেরাটা দিয়ে আবার ব্যাক করতে পারবো সেটাই চিন্তায় ছিল। প্রস্তুতি বলতে এইচপি এবং ‘এ’ দলের যতগুলো ম্যাচ ছিল সেগুলোতে ভালো করার চেষ্টা করেছি। ওখানে খেলে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এগুলো সামনে কাজে লাগাতে পারবো।

প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হলো?

আফিফ: শুধুমাত্র শুভেচ্ছা জানাল, পুরো দলকে এবং আমাকে।

প্রশ্ন: নিজের ব্যাটিং নিয়ে কতটা তৃপ্ত?

আফিফ: নিজের ব্যাটিং নিয়ে অবশ্যই আমি সন্তুষ্ট। ম্যাচ জেতানোর মতো ইনিংস খেলতে পেরেছি। শেষ করে আসতে পারলে আরও ভালো লাগতো নিজের কাছে।

প্রশ্ন: হাফসেঞ্চুরি করে উদযাপন করতে দেখা যায়নি কেন?

আফিফ: সত্যি বলতে খেয়াল করিনি। তখন আমার চিন্তা ছিল ম্যাচ শেষ করবো। চিন্তায় ছিল যে ম্যাচ শেষ করলে একটা উদযাপন করবো, করতে পারিনি। তার আগেই আউট হয়ে গেছি। তবে এমন একটা ইনিংস খেলে নিজের দেশকে জেতানোর আনন্দ অন্যরকম। যেটা আজকে পূরণ হলো।

প্রশ্ন: ব্যাটিংয়ে যাওয়ার আগে অধিনায়ক কিংবা কোচ কি কোনও পরিকল্পনা দিয়েছিল?

আফিফ: আমি ব্যাটিংয়ে যাওয়ার আগে ওরকম কোনও কথা কারো সঙ্গে হয়নি। ম্যাচের আগে সবাই আমাকে বলেছে আমার নিজের মতো করে খেলতে। আমি সেই অনুযায়ী খেলতে পেরেছি। আমি সব সময় আমার মতো করে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আমাকে কেউ বাধা দেয়নি কখনোই। আমরা ম্যাচ জিতেছি, ড্রেসিং রুম অনেক উৎফুল্ল ছিল। সেই আনন্দটাই উদযাপন করেছি।

প্রশ্ন: জার্ভিসের বলে রিভার্স করে চার মারলেন, এই আত্মবিশ্বাসটুকু কীভাবে পেলেন?

আফিফ: তখন ফিল্ড সেটআপ দেখে মনে হয়েছিল ওখানে (ফুললেন্থে) বল করতে পারে। ফিল্ড সেট আপ দেখে মনে হয়েছে সেখানে শট খেলতে পারব। ফিফটি-ফিফটি চান্স ছিল। আমি সুযোগটা নিয়েছি। চার হয়েছে এই আর কি!

প্রশ্ন: সিপিএলে এনওসি দেয়নি, আজকের মুহূর্তটা কল্পনা করে খারাপ লাগা কি কমেছে?

আফিফ: সিপিএলে এনওসি দেওয়া হয়নি বলে আমার কখনোই মন খারাপ হয়নি। আমার তখন এইচপি, এ দলে খেলা ছিল।

প্রশ্ন: গ্যালারি একটা সময় আফিফ-আফিফ ধ্বনিতে মুখোরিত, কেমন লাগছিল তখন?

আফিফ: এই অনুভূতিটা বলে প্রকাশ করা যায় না। অন্যরকম একটা অনুভূতি। এতদিন পর জাতীয় দলে ফিরেছি, এরকম একটা ভালো ইনিংস খেলেছি, দর্শকরা খুশি হয়েছে। এটা আনন্দদায়ক ছিল।

/আরআই/এফআইআর/

লাইভ

টপ