যুব এশিয়া কাপে বাংলাদেশের হতাশা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৫২, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৬, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯

এটা যেন গোটা বাংলাদেশ দলের চিত্র!এবারই প্রথম যুব এশিয়া কাপের ফাইনালে নাম লেখায় বাংলাদেশ। ‍টুর্নামেন্টটি আরও স্মরণীয় করে রাখার সব প্রস্তুতিই সেরে রেখেছিল তারা বোলিংয়ে। শক্তিশালী ভারতকে মাত্র ১০৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে প্রথমবার ছোটদের এশিয়া কাপের শিরোপা জেতার স্বপ্ন উঁকি দেয়। কিন্তু ব্যাটিং বিপর্যয়ে হতাশাই সঙ্গী হলো।

শনিবার কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ফাইনাল বাংলাদেশ হেরেছে ৫ রানে। ৩২.৪ ওভারে ভারতকে ১০৬ রানে অলআউট করার পর ব্যাটিংয়ে নিজেরা ৩৩ ওভারে গুটিয়ে যায় ১০১ রানে। রোমাঞ্চকর জয়ে শিরোপা ধরে রাখলো ভারত। একই সঙ্গে যুব এশিয়া কাপের শিরোপা সংখ্যা নিয়ে গেল তারা ৭-এ।

কলম্বোর ফাইনালে পরিষ্কার ফেভারিট ছিল ভারত। একে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, এর ওপর আবার প্রতিযোগিতাটি জিতেছে রেকর্ড ছয়বার, তাছাড়া যুব বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরাও তারা। শক্তিশালী এই ভারতকেই বোলিংয়ে চেপে ধরেছিল আকবর আলীরা। কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতায় ইতিহাস লেখা হলো না বাংলাদেশের যুবাদের। টপ অর্ডারের ধসে রানার্স-আপ হয়ে শেষ হলো যুব এশিয়া কাপের মিশন।

১০৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৬ রানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান (০), পারভেজ হোসেন (৫), মাহমুদুল হাসান (১) ও তৌহিদ হৃদয় (০) কেউই যেতে পারেননি দুই অঙ্কের ঘরে। শাহাদত হোসেন চেষ্টা করলেও ৩ রানের বেশি করতে পারেননি। তাদের ব্যর্থতার মিছিলে শামীম হোসেন যোগ দিলে ৫১ রানে হারায় ৬ উইকেট।

ওই জায়গা থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছিলেন অধিনায়ক আকবর ও মৃত্যঞ্জয় চৌধুরী। দুজনের ব্যাটে জয়ের ‍সম্ভাবনাও জাগে। কিন্তু দলীয় ৭৮ রানেই আকবর (২৩) ও মৃত্যঞ্জয় (২১) ফিরে গেলে আশা একরকম শেষই হয়ে যায় বাংলাদেশের। নবম উইকেট জুটিতে তানজীম হাসান সাকিব ও রাকিবুল হাসানের লড়াই আবারও জয়ের স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু একই ওভারে সাকিবের (১২) পর শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে শাহীন আলমের (০) আউটে হতাশায় শেষ হয় বাংলাদেশের যুব এশিয়া কাপ মিশন।

ভারতের শিরোপা জয়ের পথে বল হাতে সবচেয়ে বেশি অবদান অথর্ভা আঙ্কোলেকরের। ৮ ওভারে ২ মেডেন সহ ২৮ রান দিয়ে তার শিকার ৫ উইকেট। ৩ উইকেট নিয়েছেন আকাশ সিং।

এর আগে জ্বলে উঠেছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। ৬-২-৮-৩, এটা শামীম হোসেনের বোলিং ফিগার। এই স্পিনারের সঙ্গে অন্য বোলারদের দাপটে ভারত ৩২.৪ ওভারে অলআউট হয় মাত্র ১০৬ রানে।

কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ফাইনালে ভারত টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেই পড়ে বিপদে। মাত্র ৮ রানে তারা হারায় ৩ উইকেট। তানজীম হাসান সাকিব ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর তোপে ভেঙে পড়ে ভারতের টপ অর্ডার।

তানজীমের বলে ভারতীয় ওপেনার অর্জুন আজাদ রানের খাতা খোলার আগেই ফেরেন প্যাভিলিয়নে। এরপর উইকেট উৎসবে যোগ দেন মৃত্যুঞ্জয়। এই বাঁহাতি পেসারের শিকার তিলক ভার্মা (২)। ওই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই আবার রান আউট হয়ে ফেরেন আরেক ওপেনার সুভেদ পার্কার (৪)।

ধাক্কাটা অবশ্য কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছিল যুব এশিয়া কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু শামীমের ঘূর্ণিতে আবারও এলোমেলো। এক ওভারে বাংলাদেশি স্পিনার তুলে নেন শাশ্বত রাওয়াত (১৯) ও বরুণ লাভান্দের (০) উইকেট দুটি। পরে শামীম ফিরিয়েছেন ৩৩ রান করা ধ্রুব জুরেলকেও। তার এই উইকেটের আগেই অবশ্য মাহমুদুল হাসানের থ্রোতে রান আউট হয়ে ফেরেন অথর্ভা আঙ্কোলেকর (২)।

৮২ রানে ৭ উইকেট হারানো ভারতের ১০০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার শঙ্কা জন্মে শাহীন আলমের আঘাতের পর মৃত্যুঞ্জয় ম্যাচের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নিলে। যাতে ৮৪ রানে ভারত হারায় ৯ উইকেট। তবে শেষ উইকেটে করণ লাল ও আকাশ সিংয়ের জুটিতে ১০০ ছাড়ায় তাদের স্কোর। মৃত্যঞ্জয়ের শিকার হয়ে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে করণ খেলেছেন দলীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রানের ইনিংস।

বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার শামীম হোসেনই। তার মতো ৩ উইকেট পেয়েছেন মৃত্যঞ্জয়, ৭.৪ ওভারে তার খরচ মাত্র ১৮ রান। এছাড়া একটি করে উইকেট নিয়েছেন তানজীম ও শাহীন।

/কেআর/

লাইভ

টপ