পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আফগানিস্তান

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:২৮, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১১, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯

একটা সময় র‌্যাংকিং, শক্তিমত্তার বিবেচনায় পার্থক্য ছিল বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের। সময়ের পরিক্রমায় এখন সেই আফগানিস্তান শক্তিশালী প্রতিপক্ষ! টেস্টে হারের পর টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজে রবিবার তাদের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ।

বলার অপেক্ষা রাখে না টেস্টের মতো ত্রিদেশীয় সিরিজেও কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টির র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে আফগানরা। তাদের অবস্থান সাতে আর বাংলাদেশ দশে!  এমনকি সংক্ষিপ্ত এই ফরম্যাটে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইতেও বাংলাদেশের পক্ষে স্বস্তিদায়ক কোনও রেকর্ড নেই। চারবারের লড়াইয়ে তিনবারই জয় আফগানিস্তানের! আর শেষবার যখন এই আফগানদের হারায় বাংলাদেশ সেটা ছিল ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। কিন্তু সেই দলটির সঙ্গে বিস্তর ফারাক বর্তমান দলটির। মুখোমুখি সেই চারটি লড়াই তুলে ধরা হলো পাঠকদের সামনে--

ম্যাচসেরা হন সাকিব. টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-২০১৪, ঢাকা

ফল: বাংলাদেশ জয়ী ৯ উইকেটে, ম্যাচসেরা সাকিব আল হাসান

ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটিতে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। শুরুতে টস জিতে আফগানদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল তারা। সাকিবদের বোলিং তোপে ৭২ রানে গুটিয়ে যায় আফগানরা। ৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন সাকিব।

ছোট লক্ষ্যে খেলতে নেমে জয় পেতে কষ্ট হয়নি বাংলাদেশের। ১২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে তারা জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে। তামিমের ২১ রানের পর ৩৩ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত ছিলেন এনামুল হক। সাকিব ছিলেন ১০ রানে।

তিন ম্যাচের সিরিজ, ২০১৮: আফগানিস্তান জয়ী -০ ব্যবধানে

. প্রথমটি-টোয়েন্টি, দেরাদুন

ফল- আফগানিস্তান ৪৫ রানে জয়ী, ম্যাচসেরা রশিদ খান

রশিদ খানের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয় বাংলাদেশদেরাদুনে থাকা নিজেদের হোম ভেন্যুতে আধিপত্য বিস্তার করে প্রথম জিতে নেয় আফগানরা। টস জিতে শুরুতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সাকিব। কিন্তু বাংলাদেশের বোলিংকে তুচ্ছ করে ৮ উইকেটে ১৬৭ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় স্বাগতিকরা। মোহাম্মদ শাহজাদের ৪০ রানের ইনিংস ছাড়াও মিডল অর্ডারে সামিউল্লাহ শিনওয়ারির ১৮ বলে করা ৩৬ আর শাফিকুল্লাহর ৮ বলে করা ২৪ রানের মিনি ঝড়ে স্কোর বোর্ড সমৃদ্ধ হয় আফগানদের। দুটি করে উইকেট নেন আবুল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ।

জবাবে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি মেজাজের ব্যাটিংটা উপহার দিতে পারেনি। লিটন দাস সর্বোচ্চ ২০ বলে ৩০ রান করলেও অভিজ্ঞ সাকিব, মুশফিকরা ছিলেন ব্যর্থ। সাকিব ফিরে গেছেন ১৫ রানে আর মুশফিক ২০ রানে। মাহমুদউল্লাহ ২৯ রানের লড়াকু ইনিংস উপহার দিলেও লেজের দিকে যোগ্য সঙ্গী পাননি কাউকে। বাংলাদেশ ১৯ ওভারে গুটিয়ে যায় ১২২ রানে। রশিদ খানের সঙ্গে শাপুর জাদরান নেন ৩টি করে উইকেট। ম্যাচসেরাও হন রশিদ।

. দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি, দেরাদুন

ফল: আফগানিস্তান ৬ উইকেটে জয়ী, ম্যাচসেরা রশিদ খান

এই ম্যাচেও ব্যাট হাতে তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি বাংলাদেশ। এবার টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও ৮ উইকেটে ১৩৪ রানের বেশি করতে পারেনি। সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন তামিম ইকবাল। যদিও তা ছিল ৪৮ বলের! রশিদ খান একাই নেন ৪টি উইকেট।

এই লক্ষ্যে আফগানিস্তান খেলতে নেমে ঝড় তুলে ম্যাচ আর সিরিজ জিতে নেয় আনায়াসে। ৪ উইকেট হারিয়ে তারা ১৮.৫ ওভারে জয় নিশ্চিত করে। সর্বোচ্চ ৪৯ রান আসে সামিউল্লাহ শিনওয়ারির ব্যাট থেকে। এছাড়া শেষ দিকে মোহাম্মদ নবী ১৫ বলে ৩১ রানের ঝড় উপহার দেন। বাংলাদেশের হয়ে ২টি উইকেট নেন মোসাদ্দেক হোসেন।

. তৃতীয় টি-টোয়েন্টি, দেরাদুন

ফল: আফগানিস্তান ১ রানে জয়ী, ম্যাচসেরা মুশফিকুর রহিম

মুশফিক ম্যাচসেরা হলেও শেষ ম্যাচটায় হার ছিল সঙ্গীসিরিজ হারানোর পর এই ম্যাচটায় তীব্র প্রতিদ্বিন্দ্বতা গড়ে তুলেছিল বাংলাদেশ। আফগানিস্তান টস জিতে ৬ উইকেটে শুরুতে করে ১৪৫ রান। সামিউল্লাহ শিনওয়ারি ধারাবাহিক ছিলেন এই ম্যাচেও। ৩৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। এছাড়া টপ অর্ডার এই ম্যাচেও ভূমিকা রাখে জয়ে।  নাজমুল ইসলাম ও আবু জায়েদ নেন দুটি করে উইকেট। সাকিব আর আরিফুল একটি করে উইকেট নেন। 

জয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশের টপ অর্ডার ফের ব্যর্থ হলেও তারা জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর অসাধারণ এক জুটিতে। কিন্তু রশিদ খানের শেষ ওভারেই মিইয়ে যায় তা। প্রথম বলে ৪৬ রানে ফেরেন মুশফিক। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ শেষ বলে রান আউট হলে জয়ের সম্ভাবনার ইতি ঘটে সেখানেই। আর আফগানরা পায় মাত্র ১ রানের জয়। মাহমুদউল্লাহ ফেরেন ৪৫ রান করে। সিরিজ সেরা হন রশিদ খান। 

/এফআইআর/

লাইভ

টপ