নিজেরাই পথ হারালে প্রতিপক্ষের জন্য ম্যাচ জেতা আরও সহজ হয়

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১০:৫২, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:১৬, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।ম্যাচের শুরুটা দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম বলেই উইকেট এবং ৬ ওভারের মাথায় ৪জন আফগান ব্যাটসম্যানের বিদায়। যখন আরও চেপে ধরার কথা তখন পার্ট টাইমার সৌম্য ও সৈকতকে দিয়ে সাকিবের বোলিং আক্রমণ নবী ও আফগানকে পার্টনারশিপ গড়ার কাজটা সহজ করে দিলো। শুরুতে সাকিব উইকেট পেলেও আমার কাছে মনে হয়েছে তাইজুলই সম্ভবত নতুন বলে আমাদের সেরা অপশন।

সাকিব টানা তিন ওভার শুরুতে  করে নিজেকে ম্যাচের সঠিক সময়ে বল করার জন্য উন্মুক্ত রাখতে পারেননি। সাকিব ও তাইজুলসহ মোট ১০ ওভার স্পিনাররা বল করেছে প্রথম ১৫ ওভারের মাঝে। শেষ ৫ ওভারে বল করার জন্য সাকিব তার একটি ওভার অন্তত রাখতে পারতেন। সৌম্যকে দিয়ে যদি ওপেন নাই করানো হয় তবে তার জায়গায় একজন বিশেষজ্ঞ পেস বোলার নেওয়া যেতে পারতো। সৌম্যকে দিয়ে বল করানোর পরিকল্পনা যে টি-টোয়েন্টিতে থাকতে পারে তা ভাবতেও কষ্ট লাগে।

এই ম্যাচটি নিজেদের করে নেওয়ার জন্য নবী বা আসগর আফগানের যে প্রচেষ্টা ছিল তা আমাদের খেলোয়াড়দের মাঝে সমষ্টিগতভাবে ফুটে উঠেনি। ৬টি ওয়াইড, ২টি নো বল, ৮টি বাই একটি ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার জন্য যথেষ্ট। মুশফিককে গ্লাভস হাতে উইকেটের পেছনে আর মানাচ্ছে না। এই ম্যাচের শেষ ১০ ওভারে সম্ভবত ১০টি ছক্কা হাঁকিয়েছে আফগানরা। তাতে বোঝা যায় সঠিক লেন্থে আমরা বল করতে পারিনি। ফ্রন্ট ফুট ও ব্যাক ফুট থেকে তারা যেভাবে বড় বড় ছক্কা হাঁকালেন তার জন্য কৃতিত্ব নবীকে দিতেই হয়। বাজে বলটির জন্য তিনি অপেক্ষা করেছেন এবং আমাদের বোলাররা মারার জন্য ফিড করেছে। ফিল্ডিংয়ের সময় আমাদের ক্যাচিং ছিল প্রশংসনীয়।

আফগানরা ২০ ওভারে আমাদের বিপক্ষে ১৬৫ রান করার মতো সামর্থ্য রাখে, তাই ধরে নিচ্ছি ব্যাটিং অর্ডারে রদবদল ম্যাচ শুরুর আগে থেকে গেম প্ল্যানের একটা অংশ ছিল এবং তাই যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে ভাবতে অবাক লাগে এ কেমন পরিকল্পনা। তারা কীভাবে ভাবলেন আউট অফ ফর্মের ব্যাটসম্যানরা উপরে ব্যাট করে ভালো স্ট্রাইকরেটসহ রান করবেন ও দলকে জেতাবেন। লিটন ও মুশফিককে দেখে বিভ্রান্ত মনে হয়েছে এবং দৃষ্টিকটূভাবে আউট হয়েছেন। সৌম্য সরকারকে আর কতভাবে দলে পরীক্ষা করা হবে-টিম ম্যানেজমেন্ট কি তার জবাব দেবেন?

প্রতিদিন আফিফ রান করবে তা আশা করা ঠিক না। তবে এই ম্যাচে ৫ নম্বরে সৌম্যর জায়গায় তাকে প্রোমোট করে একটা বাজি ধরা যেত। আমি আবারও বলছি বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিবের ব্যাট থেকে রান না আসলে ম্যাচ জেতা মুশকিল। আফগান ও জিম্বাবুয়ে দলের বোলিং আক্রমণের মাঝে বিশাল ব্যবধান আছে। দল যেমনই করুক দিন শেষে এটা আমাদেরই দল। তাদের মন্দ সময়ে আমাদের তাদের পাশেই থাকতে হবে। বাকি ম্যাচগুলির জন্য নির্বাচকরা দলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনবেন এই আশা করছি। একই সঙ্গে সকল খেলোয়াড় নিজের সেরা খেলাটা খেলার জন্য উদগ্রীব থাকবেন বলে আশা করছি।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ