চট্টগ্রামে কেমন হতে পারে বাংলাদেশের একাদশ?

Send
রবিউল ইসলাম, চট্টগ্রাম থেকে
প্রকাশিত : ১৬:০১, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩৮, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

বামে শান্ত, মাঝে বিপ্লব ও ডানে নাঈম- তিনজনকে নিয়েই আলোচনা হচ্ছে খুব। ত্রিদেশীয় সিরিজে দুই ম্যাচের একটি হেরে কিছুটা কোণঠাসা বাংলাদেশ দল। চট্টগ্রামে তাই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নতুনভাবে শুরু করতে মরিয়া সাকিবরা। চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ফাইনাল নিশ্চিত করার এই ম্যাচটি শুরু হচ্ছে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।

অবশ্য এই ম্যাচটির আগে চট্টগ্রামের ব্যাটিং বান্ধব উইকেটে বাংলাদেশের একাদশ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আগের দুই ম্যাচের একাদশ থেকে যে পরিবর্তন আসছে, এটা নতুন সুযোগ পাওয়া ৫ ক্রিকেটারের অন্তর্ভুক্তিতেই বোঝা যাচ্ছে। বিশেষ করে ওপেনিংয়ে পরিবর্তন আসছে এটা পুরোপুরি নিশ্চিত। আগের ম্যাচে মুশফিকুর রহিমকে ওপেনিংয়ে নামানোর সিদ্ধান্ত কাজে আসেনি।ফলে এই পজিশন নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট আরও একবার বাজি ধরার ঝুঁকি নিতে চাইবে না। তাইতো নাজমুল হোসেন শান্ত কিংবা নাঈম শেখের মধ্যে থেকে একজনকে ওপেনিংয়ে দেখা যাবেই।

এদিকে মঙ্গলবার অনুশীলনের সময় পায়ের পেশিতে চোট পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন। তাকে নিয়ে সংশয় থাকলেও টিম ম্যানেজমেন্ট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে তার চোট গুরুতর কিছু নয়। সবমিলিয়ে তাই মোসাদ্দেককে খেলানোর ব্যাপারে আশাবাদী টিম ম্যানেজমেন্ট।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা শিশির নিয়ে। আগের দিন রাতে জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে আটটা বাজতেই কুয়াশা পড়তে দেখা গেছে। তাই পরে বোলিং করা দলটিকে সংগ্রামের মুখে পড়তে হবে। শিশিরে বল ভিজে গেলে স্পিনারদের জন্য বল গ্রিপ করা কঠিন। বিষয়টি মাথায় রেখেই একাদশ গঠন করতে হবে। এই কারণে আগের দুই ম্যাচে স্পিন নির্ভর একাদশ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলামকে বসিয়ে তাই সুযোগ দেওয়া হতে পারে লেগ স্পিনার হিসেবে সুযোগ পাওয়া আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে। তবে সব কিছু নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর।

আবার উইকেটে খানিকটা সুবিধা থাকলেই মোস্তাফিজ জ্বলে উঠতে পারেন। তার ভয়ঙ্কর কাটারে তখন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। কিন্তু চট্টগ্রামের উইকেটে মোস্তাফিজ ওই সুবিধা পাবেন না! যে কারণে পেসার রুবেল হোসেনকে দেখা যেতে পারে মোস্তাফিজের বদলে।

পুরনো পরিসংখ্যানে চট্টগ্রামের উইকেট সব সময়ই ব্যাটসম্যানদের পক্ষে কথা বলে। বেশ কিছু ম্যাচে একশোর নিচে কয়েকটি দল আউট হলেও বেশিরভাগ ম্যাচেই দেড়শোর বেশি রান উঠেছে এখানে। ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা সবচেয়ে বেশি ১৯৬ রান তুলেছিল চট্টলার ২২ গজে। সে ম্যাচে ১৯৩ রান তুলে ইংল্যান্ড হেরেছিল ৩ রানের ব্যবধানে। একই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা তুলেছিল ১৯০ রান। সেটা ৪ উইকেট হারিয়ে ৪ বল হাতে রেখে টপকে যায় ইংল্যান্ড। এমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের বহু রেকর্ড আছে জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে। পুরনো পরিসংখ্যানেই বোঝা যাচ্ছে জহুর আহমেদের উইকেটটি আসলে কেমন হবে।

পুরনো উদহারণ টেনে চট্টগ্রামের কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘চট্টগ্রামের উইকেট সব সময়ই ব্যাটিং বান্ধব। এখানে ব্যাটসম্যানদের পাশাপাশি পেসারদের সুবিধা থাকে। সেই সুবিধা স্পিনাররাও কিছু পেয়ে থাকে। সবমিলিয়ে স্পোর্টিং উইকেট হিসেবে চট্টগ্রামের সুনাম আছে। আশা করি আজও উইকেট থেকে এমন আচরণই আসবে।’

সাগরিকার ব্যাটিং বান্ধব উইকেটে ব্যাটসম্যানদের বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া লিটন-সাকিব-মুশফিক-সাব্বিররা ভালো করতে না পারলেও চট্টগ্রামে সাফল্য পাওয়া কঠিন হবে। এখন অপেক্ষা চট্টগ্রামে কতটা গর্জে উঠে বাংলাদেশ।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ