দলে এখন অনেক নির্বাচক: ফারুক আহমেদ

Send
রবিউল ইসলাম, চট্টগ্রাম থেকে
প্রকাশিত : ২১:০৩, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৩, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

সংবাদমাধ্যমে কথা বলছেন সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদজাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ।  তার মতে, বর্তমান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশার সুমন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। একই সঙ্গে নির্বাচকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর থেকে জাতীয় দলে নির্বাচকের দায়িত্বে ছিলেন ফারুক। তবে দ্বি-স্তর নির্বাচক প্যানেল চালু হওয়ার পর ২০১৬ সালের জুনে পদত্যাগ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার টিম হোটেলের লবিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচক।

সেখানেই বর্তমান নির্বাচকদের দিকে আঙুল তুলেছেন ফারুক, ‘পারফরম্যান্স সবসময় ভালো হবে, এমনটা নয়। আমার শঙ্কার জায়গা হলো, নির্বাচন প্রক্রিয়া ঠিকমতো হচ্ছে না। নির্বাচনের দায়িত্ব এমন কাউকে দিতে হবে, যিনি জবাবদিহিতা করবেন। কেউ সুযোগ পেলে ঠিক কী কারণে পেলো কিংবা কেউ বাদ পড়লে ঠিক কী কারণে বাদ পড়লো- এই ব্যাখা যেন থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমরা এই বিষয়গুলো খুব একটা দেখতে পাই না। আর দল হারলে যে অস্থিরতা তৈরি হয়, সেটাও কাম্য নয়।’

সাবেক এই ক্রিকেটার মনে করেন, নির্বাচন ভালো মতো হচ্ছে না বলেই দলের ভেতর ও বাইরে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে, ‘যেহেতু আমরা নির্বাচনের কাজ ভালোমতো করছি না, তাই অস্থিরতা খুব সহজেই হয়ে যায়। একটা-দুটো ম্যাচ খারাপ করলেই আবার ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে।’

এমন অস্থিরতার কারণও চিহ্নিত করেছেন ফারুক। তার মতে, নির্ধারিত দুই নির্বাচকের চেয়ে বোর্ডে অনেক বেশি নির্বাচক থাকাতেই সমস্যা হচ্ছে। গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের ক্রিকেটের কঠিন পরিস্থিতির পেছনে ‘অনেক নির্বাচক’ পদ্ধতিকে দুষলেন ফারুক, ‘এখন মনে হয় দলে অনেক নির্বাচক। আমি জানি না ঠিক কতজন দল নির্বাচন করে। এখানে বোর্ড পরিচালক নির্বাচক, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নির্বাচক। ৫-৭ জন নির্বাচক তো হবেই।’

সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘আমি যখন ইস্তফা দিয়েছি, তখন নির্বাচক ছিল দুজন। সঙ্গে খালেদ মাহমুদ সুজন ম্যানেজার হিসেবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকতো। এরপর শর্ত তৈরি করা হলো, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান হিসেবে যে থাকবে সেও একজন নির্বাচক। এখন নির্বাচক আসলেই অনেকজন, একজন তো নয়ই।’

তরুণ ক্রিকেটারদের তৈরি করতে হলে আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার পক্ষে ফারুক, ‘প্রথম ম্যাচেই হয়তো সবাই পারফর্ম করবে না। যে কারণে সুযোগ দিতে হবে। কিছু ক্রিকেটার আছে, এসেই মানিয়ে নিতে পারে। যেমন মোস্তাফিজ এসেই পারফর্ম করে এক জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছে। একজন খেলোয়াড়দের অন্তত ৫-৭ ম্যাচে সুযোগ দেওয়া উচিত।’

বুধবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেকেই আলো ছড়িয়েছেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। ফারুক মনে করেন, দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই সাফল্য দিয়ে বিপ্লবকে বিচার করা যাবে না। তাই মান বাড়াতে ঘরোয়া ক্রিকেটে বিপ্লবকে খেলানোর পরামর্শ তার, ‘আমিনুলকে খেলতে হবে। লেগ স্পিনার হওয়া কিন্তু সহজ না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে যেন এগিয়ে যেতে পারে, মানিয়ে নিতে পারে। তার প্রতিভা আছে। কাল (বুধবার) যেটা দেখেছি, ওর অনেক টার্ন নেই, কিন্তু ভালো জায়গায় বল করেছে। যদিও প্রতিপক্ষ দুর্বল ছিল, ভালো প্রতিপক্ষের সঙ্গে যখন খেলবে, তখন কিন্তু আবার মার খেতে পারে। ওটাও দেখতে হবে।’

/কেআর/

লাইভ

টপ