ফিটনেস সচেতন ফুটবলারদের গল্প

Send
তানজীম আহমেদ
প্রকাশিত : ১৯:৫১, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৯, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯

জিমে ঘাম ঝরাচ্ছেন গোলকিপার রানাফুটবলাররা এখন দারুণ ফিটনেস সচেতন। নিয়মিত জিম আর পরিমিত আহার করেন তারা। খেলা না থাকলেও নিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন করে ফিটনেস ধরে রাখেন। জাতীয় দল তো বটেই, ক্লাব ফুটবলাররাও ফিটনেস নিয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নন।

২০১৭ সালের মাঝামাঝি জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পেয়েছিলেন অ্যান্ড্রু ওর্ড। বছর খানেক বাংলাদেশে ছিলেন এই অস্ট্রেলিয়ান। ওর্ড এসেই ফুটবলারদের ফিটনেসের ওপরে সবচেয়ে জোর দিয়েছিলেন। তার উত্তরসূরী জেমি ডে ধরে রেখেছেন সেই ধারাবাহিকতা।

ইদানীং ম্যাচের ৯০ মিনিট সমান তালে দৌড়াতে দেখা যাচ্ছে ফুটবলারদের। জিমে কঠোর পরিশ্রমই তার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি খাদ্যাভাসে পরিবর্তনও ফিট করে তুলছে খেলোয়াড়দের। আগে ভাত ছাড়া চলতোই না অনেকের। অথচ এখন ফুটবলারদের খাদ্য তালিকায় আছে পাস্তা, ওটস আর শাক-সব্জি। জাতীয় দলের ক্যাম্প চলার সময় শর্করা জাতীয় খাবার বলতে গেলে বাদই যায়। শরীরের ওজনও রাখতে হয় নিয়ন্ত্রণে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে কয়েক দিন আগে গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকোকে ৫০ ডলার জরিমানা পর্যন্ত দিতে হয়েছে!  

ফিটনেস নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নন স্ট্রাইকার জীবনফুটবলাররা হাসিমুখেই মেনে নিচ্ছেন সব অনুশাসন। গোলকিপার আশরাফল ইসলাম রানা নিজের ফিটনেস নিয়ে সন্তুষ্ট। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বললেন, ‘আমরা বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক সচেতন। আমরা বুঝতে পারছি ক্যারিয়ার ঠিক রাখতে হলে ফিট থাকতে হবে। ফিটনেসে ঘাটতি নেই বলে ফুটবলাররা এখন পুরো ৯০ মিনিট মাঠ জুড়ে খেলতে পারে।’

দেশের সেরা গোলকিপার আরও জানালেন, ‘আগে আমরা অনেক কিছুই বুঝতাম না। কোন খাবারে ফ্যাট বেশি থাকে, কোন খাবার খেলে ফিট থাকা যায় সে সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিল না। তবে অ্যান্ড্রু ওর্ড আসার অনেক কিছু বুঝতে পেরেছি। আর জেমি ডে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমাদের জীবন-যাপনে পরিবর্তন এসেছে। নতুন জীবনধারার সঙ্গে আমরা মানিয়েও নিয়েছি।’

জাতীয় দলের ফুটবলারদের শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন-যাপন দেখে অন্যরাও সচেতন হয়ে উঠছে। রানা বললেন, ‘জাতীয় দলে জায়গা পেতে হলে কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হয়। আমাদের দেখে ক্লাব ফুটবলাররা শিখছে, ফিটনেস নিয়ে সচেতন হয়ে উঠছে। ক্লাবগুলোর খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আসছে। এটা দেশের ফুটবলের জন্য ইতিবাচক।’

ছুটির সময়ও কোচের নির্দেশনা মেনে জিম করেন মিডফিল্ডার জনিআসলে জেমি ডে’র দলে জায়গা পেতে ফিটনেস ঠিক রাখার বিকল্প নেই। ছুটিতে স্বদেশ ইংল্যান্ডে যাওয়ার আগে ফুটবলারদের বেশ কিছু নিয়ম অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়ে যান কোচ। স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন জানালেন, ‘কোচ দেশে যাওয়ার আগে আমাদের ওজন মেপে রাখেন। ছুটি শেষে ক্যাম্প শুরুর আগে ওজন ঠিক আছে কিনা চেক করেন। কারও ওজন বেশি হলে ৫০ থেকে ১০০ ডলার জরিমানা হয়। এমনকি বেশি ওজনের ফুটবলারকে দল থেকে বাদ দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। আমরা তাই কোনও ঝুঁকিতে যাই না। ক্যাম্প বন্ধ থাকলেও কোচের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত অনুশীলন করি, নিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন করি।’

রানা-জীবনের মতো সিনিয়রদের দেখে তরুণ ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ দারুণ অনুপ্রাণিত, ‘আমি দেশসেরা ডিফেন্ডার হতে চাই। লক্ষ্যপূরণে কঠোর পরিশ্রম করছি, কোচের নির্দেশনা অনুসরণ করে সকালে জিম আর বিকেলে উইথ দ্য বল অনুশীলন করছি। এমনকি খাবারও খাচ্ছি বুঝে-শুনে। ছুটির সময়ও ফিটনেসে কোনও ছাড় দিচ্ছি না। কারণ এখন প্রতিযোগিতা আগের চেয়ে বেশি। এক পজিশনে একাধিক খেলোয়াড়ের মধ্যে লড়াই হয়।’

ফিটনেস নিয়ে শিষ্যদের সচেতনতা দেখে জেমি ডে’ও সন্তুষ্ট। জাতীয় দলের মিডফিল্ডার মাশুক মিয়া জনি জানালেন, ‘আমাদের নিয়ে কোচ আগের চেয়ে অনেক নির্ভার থাকেন এখন। ছুটি চলার সময়ও আমরা তার নির্দেশনা মেনে চলি। তাই কোচ ঢাকায় এসে আমাদের ফিটনেস নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এখন ক্যাম্পের শুরুতে আগের মতো ফিটনেস ঠিক করতে বাড়তি পরিশ্রমের দরকার হয় না।’

/টিএ/এএআর/

লাইভ

টপ