ফাইনালের আগে এই জয়টার অনেক দরকার ছিল

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১০:৩৩, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪২, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।বহু বছর পর আফগানদের সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে আকাঙ্ক্ষিত জয় পেলাম আমরা। একটা পরিণত দল হিসেবে এই জয়ের দেখা আমাদের আরও আগেই পাওয়া উচিত ছিল। এই জয়টাও আরও দাপুটে জয় হতে পারতো, কিন্তু কালও মাঠে আমরা পূর্ণাঙ্গ একটা দল হিসেবে নিজেদের মেলে ধরতে পারিনি। ম্যাচের প্রথম ১০ ওভার উভয়ার্ধেই ভালো খেলিনি। উভয়ার্ধের শেষ ১০ ওভারে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছি।
এই টুর্নামেন্টে শুরু থেকে কাল পর্যন্ত বাংলাদেশ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদের সংকটে আছে। দলের চাহিদা অনুযায়ী তাদের রান সংগ্রহের অ্যাপ্রোচ ভালো না। ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলে তারা উল্টো একটা সংকটের সৃষ্টি করে খেলার মোমেন্টাম প্রতিপক্ষের হাতে দিয়ে দিচ্ছে। পাইপ লাইনের খেলোয়াড় হিসাবে শান্ত দর্শকদের আস্থাভাজন হতে পারছে না। বরঞ্চ সুযোগের অপচয় করছে এবং সেই তুলনায় লিটনও অন্য প্রান্ত থেকে মোটেই স্বাচ্ছন্দ্যে ক্রিকেট খেলছে না। এই উদ্বোধনী জুটি এখন বাংলাদেশের মাথা ব্যথার বড় কারণ।

কাল ১৩৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে এসে পরিস্থিতির আলোকে মুশফিককে আরও ধৈর্য্যশীল ও পরিমার্জিত ব্যাটিং দেখবো বলে আশা করেছিলাম। তবে মিড উইকেটে খেলা ঝুঁকিপূর্ণ শট উপর্যুপরি খেলা সত্যিই বেমানান। খেলা দেখে মনে হচ্ছিল রশিদ খান বল করতে আসার আগেই দ্রুত কিছু রান তিনি তুলে নিতে চাইছেন। ঠিক একইভাবে রিয়াদের উচিত হয়নি শুরুতেই পুল শট খেলার জন্য রশিদ খানকে বেছে নেওয়া। ব্যাটিংয়ে ৮জন ব্যাটসম্যান নেওয়ার পরও অনেকটা একক হাতে ব্যাটিং নিয়ন্ত্রণ করেছেন সাকিব আল হাসান। তিনি পিচে টিকে গেলে প্রতিপক্ষের বোলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার সামর্থ্য রাখেন এবং টি-টোয়েন্টিতে যেটা প্রয়োজন সেই আকাঙ্ক্ষিত বাউন্ডারি তার ব্যাটে ধরা দেয়। তবে আজ শুরুতেই যে নতুন জীবন পেয়েছেন তাকে যথার্থভাবে কাজে লাগিয়েছেন। তার শারীরিক ভাষায় বোঝা যাচ্ছিল তিনি এই ম্যাচটি জিততে চান।

ভাগ্যবান সাব্বির বার বার সুযোগ পেয়েও দলের কোনও কাজে আসছেন না। কী কারণে তার ওপর নির্বাচকদের বা দল নায়কের এত নির্ভরশীলতা তা বোধগম্য হয় না। তরুণ আফিফের আরও কাউন্সেলিং দরকার। কালকের ম্যাচে প্রয়োজনের দাবি তার মেটানো উচিত ছিল। ভালো ক্রিকেট খেলে দলে টিকে থাকলে রশিদ খানের চেয়ে ভালো বোলারকে তিনি মারতে পারবেন। তবে সেই জিনিসটি করার উপযুক্ত সময় কোনটি তা আগে তাকে বুঝতে হবে। আফগান ইনিংসের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে আফিফের প্রথম দুই উইকেট তুলে নেওয়ার ব্যাপারটি স্বীকার করতেই হবে এবং দলনায়কের উচিত পর্যায়ক্রমে আফিফকে একজন পরিণত অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা।

তিন সিমার নিয়ে আক্রমণ সাজানোর পরিকল্পনাটা ছিল প্রশংসনীয়। সাইফউদ্দিন চমৎকার লাইন ও লেন্থে বল করেছেন। দুই প্রান্ত থেকে নতুন বলে দুই পেসারকে দীর্ঘদিন পর বল করতে দেখে ভালো লেগেছে এবং শফিউলও চমৎকার বল করেছেন। লিগ ম্যাচে ফলাফল যা-ই হোক, ফাইনাল জেতাটা গুরুত্বপূর্ণ এবং সঠিক সময়ে মনোবল ফেরত পেয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ একটা পূর্ণাঙ্গ দল হিসেবে খেলবে এই প্রত্যাশা রইলো।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ