‘বাংলাদেশে আর্চারিকে জনপ্রিয় করে তুলতে চাই’

Send
তানজীম আহমেদ
প্রকাশিত : ১৯:৫১, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৩, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

আর্চারি নামে যে একটা খেলা আছে সেটা ক’জন জানতো এদেশে? অথচ এই খেলাটি আজ শুধু একজনের কারণে অনেকের আগ্রহের কেন্দ্রে। গত জুনে নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতে সরাসরি টোকিও অলিম্পিকে অংশগ্রহণের টিকিট হাতে পেয়েছেন তিনি। কয়েক দিন আগে ফিলিপাইনে আবার দুর্দান্ত সাফল্য। এশিয়া কাপ র‌্যাংকিং স্টেজ-৩ প্রতিযোগিতায় রিকার্ভ এককে শিরোপা জিতে বাংলাদেশকে পৌঁছে দিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। রোমান সানার কীর্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উচ্ছ্বসিত। ফিলিপাইন থেকে ফেরার পর দেশসেরা আর্চারকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে মিষ্টিমুখ করিয়েছেন ক্রীড়াপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী। এত ভালোবাসা আর সম্মানে রোমান বিস্মিত, অভিভূত। বিস্ময়ের ঘোর নিয়েই বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মেতে উঠলেন তিনি।

ফিলিপাইনে সোনা জয়ের পর রোমানের স্যালুটবাংলা ট্রিবিউন: আপনি তো এখন অনেকেরই অভিনন্দন পাচ্ছেন। কেমন লাগছে?

রোমান: ফিলিপাইন থেকে দেশে ফিরেছি সপ্তাহখানেক আগে। দেশে ফেরার পর থেকেই প্রশংসা পাচ্ছি, শুভেচ্ছা আর ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার বাবা-মা নিশ্চয়ই খুব খুশি?

রোমান: হ্যাঁ, তারা অনেক খুশি। আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন দুজনে। ক্যারিয়ারের শুরুতে তাদের সহযোগিতা না পেলে আজ এ পর্যন্ত আসতে পারতাম না। এখনও বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে খুলনায় যেতে পারিনি। ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ব্যস্ততাই তার কারণ।

বাংলা ট্রিবিউন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি কী বললেন?

রোমান: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করাটা ছিল স্বপ্নের মতো। তিনি আমাদের খেলা সম্পর্কে জেনেছেন, আমাকে মিষ্টিমুখ করিয়েছেন, যা আমি কল্পনাও করিনি। আমাদের  এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আমার অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার ব্যাপারে সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আমি খুব খুশি।

বাংলা ট্রিবিউন: তাহলে তো আপনার ওপর প্রত্যাশার চাপও বেড়ে গেলো!

রোমান: অনু্প্রেরণা পেলে কার না ভালো লাগে। এখন আমাকে আরও ভালো খেলতে হবে। হ্যাঁ, এটা ঠিক সবার প্রত্যাশা আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে আমি এটাকে বাড়তি চাপ হিসেবে নিচ্ছি না। বরং এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছি।

রোমানকে মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাবাংলা ট্রিবিউন: গলফার সিদ্দিকুর রহমানের পর দেশের দ্বিতীয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে সরাসরি অলিম্পিকে জায়গা করে নিয়েছেন। টোকিও অলিম্পিক ঘিরে আপনার পরিকল্পনা কী?

রোমান: আমার স্বপ্ন অলিম্পিকে পদক জয়। যদিও এটা খুবই কঠিন কাজ। সেজন্য আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। অলিম্পিকের আগে অন্তত ছয়টি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবো। এসব প্রতিযোগিতায় পদক পেলে বুঝবো যে অলিম্পিকে কিছু একটা করতে পারবো!

বাংলা ট্রিবিউন: অলিম্পিকে আপনাকে ঘিরে তো এখনই স্বপ্ন দেখছে দেশের মানুষ।

রোমান: আমি তা বুঝতে পারছি। কিন্তু আর্চারি এমন একটা খেলা যেখানে আগে থেকে সাফল্যের নিশ্চয়তা দেওয়া মুশকিল। প্রতিযোগিতার দিন পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূলে থাকতে হবে, সামর্থ্যের সেরাটা দিতে হবে, তাহলেই ফল পাওয়া যাবে। আমি অবশ্য আশাবাদী। যেভাবে সব কিছু চলছে তাতে অলিম্পিকে ভালো করা অসম্ভব নয়।

বাংলা ট্রিবিউন: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এরই মধ্যে ৮টি সোনা জিতেছেন। কোনটিকে এগিয়ে রাখবেন?

রোমান: প্রতিটি পদকের মূল্যই আমার কাছে অসীম। একেক সময় একেক পরিস্থিতিতে পদক জিতেছি। আমার স্বপ্ন ছিল অলিম্পিকে সরাসরি জায়গা করে নেওয়া। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আমি খুব খুশি।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি তো ছোটবেলায় ফুটবল আর ক্রিকেট খেলতেন। এই দুই জনপ্রিয় খেলা ছেড়ে আর্চারির মতো অপরিচিত খেলায় এলেন কী করে?

রোমান:  আরও অনেকের মতো আমিও ছোটবেলায় ফুটবল-ক্রিকেট খেলতাম, বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নও দেখতাম। কিন্তু ঘটনাচক্রে আর্চারির সঙ্গে জড়িয়ে যাই। আর্চারির একটা প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলাম। তারপর থেকে এই খেলা আমার জীবনের অংশ। ফুটবলার বা ক্রিকেটার না হওয়ার জন্য আমার মনে কোনও অনুতাপ নেই।

রোমানের জীবনে কোচ মার্টিন ফ্রেডরিকের বিশাল অবদানবাংলা ট্রিবিউন: ছোটবেলায় নাকি গুলতি দিয়ে পাখি শিকার করতেন?

রোমান: হ্যাঁ, তখন শখের বশে গুলতি দিয়ে খেলতাম। আমার নিশানা তেমন মিস হতো না। এটা আর্চারিতে অনেক কাজে লেগেছে। আর্চারি মনস্তাত্ত্বিক খেলা, এখানে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে তীর ছুড়তে হয়। ছোটবেলার অভ্যাস আমাকে অনেক সুবিধা দিয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার সাফল্যের পেছনে জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিকের অবদান কতটা?

রোমান: তার অবদান বলে শেষ করতে পারবো না। তিনি অনেক উঁচু মানের কোচ। তিনি আমাদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে গেছেন। যখনই কোনও সমস্যায় পড়ি, তিনি সেটার সমাধান দেন। তার কাছ থেকে আমরা প্রতিদিনই আধুনিক আর্চারির কলা-কৌশল শিখছি।

বাংলা ট্রিবিউন: ক্যারিয়ার নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী?

রোমান: আর্চারি নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন। টোকিও অলিম্পিকের পরে আরও দুটো অলিম্পিকে খেলতে চাই। বাংলাদেশকে অনেক সাফল্য উপহার দিতে চাই। এদেশে আর্চারিকে জনপ্রিয় করে তুলতে চাই আমি।

আরও পড়ুন:

গুলতিবাজ রোমান এখন এশিয়ার সেরা তীরন্দাজ

যত খেলছি, তত অভিজ্ঞ হচ্ছি: রোমান সানা

/টিএ/এএআর/

লাইভ

টপ