অনেকদিন পর জাতীয় লিগে তামিম-মুশফিক

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:৫১, অক্টোবর ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:০১, অক্টোবর ১০, ২০১৯

প্রায় বছরই জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) শেষটা থাকে নিরুত্তাপ। এবারের শুরুটা অন্তত জমজমাট। বৃহস্পতিবার প্রতিযোগিতাটির ২১তম আসরের উদ্বোধনী দিনে ৪ ভেন্যুতে নামছে ৮ দল, প্রতিটি দলেই আছেন জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার। তবে সবাইকে ছাপিয়ে তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম থাকবেন নজরে।

চার বছর পর এনসিএলে এই দুই ব্যাটসম্যান। তাদের সঙ্গে ঘরোয়া এই লিগে ফিরছেন মাহমুদউল্লাহও। জাতীয় দল কিংবা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলা থাকার কারণে ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রথম শ্রেণির এই প্রতিযোগিতা থেকে প্রায় চার বছর দূরে ছিলেন তামিম, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। ২০১৫ সালে শেষবার এনসিএলে দেখা গিয়েছিল তিন তারকাকে।

এবারের আসরে এদের সবাই নিজ নিজ বিভাগের হয়ে খেলবেন। তামিমের ঠিকানা চট্টগ্রাম বিভাগ। মাহমুদউল্লাহ খেলবেন ঢাকা মেট্রোর হয়ে। আর মুশফিক খেলবেন রাজশাহীর জার্সিতে।

প্রথম রাউন্ডে প্রথম স্তরের ম্যাচে ফতুল্লায় গত আসরের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহীর বিপক্ষে খেলবে ঢাকা। আর খুলনায় স্বাগতিকদের প্রতিপক্ষ রংপুর। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্তরের ম্যাচে শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে চট্টগ্রামের মুখোমুখি হবে ঢাকা মেট্রো। রাজশাহীতে খেলবে সিলেট ও বরিশাল।

ঘরের মাঠের ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে ছুটিতে ছিলেন ক্রিকেটাররা। ছুটি শেষে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা কঠোর অনুশীলনে করেছেন জাতীয় লিগ কেন্দ্র করে। বাদ যাননি মোস্তাফিজুর রহমান-রুবেল হোসেনরাও। তামিম অবশ্য ত্রিদেশীয় সিরিজের সময়ই মিরপুরের একাডেমিতে নিবিড় অনুশীলন করেছেন ছন্দে ফিরতে। সব মিলিয়ে তাদের মতো জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে এবারের এনসিএলের শুরুটা উত্তেজনায় মোড়ানো।

শুরুতে তারকা ব্যাটসম্যানদের দেখা গেলেও বোলারদের পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। আগেই জানা গিয়েছে তাসকিন আহমেদ ও খালেদ আহমেদ কয়েক রাউন্ড খেলতে পারবেন না। নির্বাচকদের চাওয়াতে শুরু থেকে খেলতে রাজি হলেও ফিজিও’র সবুজ সংকেত না পাওয়ায় প্রথম রাউন্ড খেলা হচ্ছে না মোস্তাফিজের। দ্বিতীয় রাউন্ডে মাঠে নামবেন ‘কাটার মাস্টার’।

শ্রীলঙ্কায় চার দিনের ম্যাচ খেলে আসা মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলাম খেলবেন প্রথম রাউন্ড থেকেই। মেহেদী হাসান মিরাজ অবশ্য মাঠে নামবেন দ্বিতীয় রাউন্ডে। সাকিব আল হাসান বাদে বাংলাদেশের টেস্ট দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই অন্তত দুটি রাউন্ড খেলবেন।

১০ ভেন্যুতে হতে যাওয়া এবারের লিগে থাকছে অনেক নতুনত্ব। প্রথমবারের মতো জার্সিতে উঠছে নাম ও নম্বর। প্রতিটি বিভাগের ক্রিকেটাররা প্রথমবারের মতো পেয়েছেন অনুশীলন জার্সি। সেই জার্সি গায়ে জড়িয়ে বুধবার মিরপুরের একাডেমিতে অনুশীলন করেছে ঢাকা মেট্রো ও চট্টগ্রামের ক্রিকেটাররা। এছাড়া লিগ শুরুর আগের দিন স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ট্রফি উন্মোচনের ব্যবস্থাও করেছিল। ঢাকা বিভাগের অধিনায়ক নাদিফ চৌধুরী, ঢাকা মেট্রোর অধিনায়ক মার্শাল আইয়ুব ও চট্টগ্রামের অধিনায়ক মুমিনুল হক উন্মোচন করেন এবারের আসরের ট্রফি।

নতুন ঢংয়ে এনসিএলের আয়োজন দেখে উচ্ছ্বসিত সাবেক ক্রিকেটার আফতাব আহমেদ। চট্টগ্রাম বিভাগের এই কোচ বলেছেন, ‘আমরা পত্রিকায় অনেক সময় দেখেছি, এটাকে পিকনিক লিগ হিসেবে দেখা হয়। আমাদের প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে খেলাকে গুরুত্ব দেওয়া। যেটাকে আগে পিকনিক আসর বলা হতো, সেটাকে পরিবর্তন করা। আমি, তামিম কিংবা মুমিনুল সবাই জাতীয় লিগ খেলে দলে জায়গা করে নিয়েছি। নতুন দিনের ক্রিকেটারদের বোঝাতে চাই জাতীয় লিগের গুরুত্ব কতটা।’

ঢাকা মেট্রো অধিনায়ক মার্শাল আইয়ুবের প্রত্যাশা দারুণ একটি লিগের, ‘একটা দল যখন টুর্নামেন্ট খেলতে আসে ওদের লক্ষ্যই থাকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রথম স্তরে যাওয়া। এ বছরটা একটু ভিন্ন হতে পারে, অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শুরু হচ্ছে এনসিএল। আশা করছি খুব ভালো একটি টুর্নামেন্ট হবে।’

চট্টগ্রামের অধিনায়ক মুমিনুল হকের মুখেও একই কথা, ‘আমার মনে হয় খুব জাঁকজমকপূর্ণ টুর্নামেন্ট হবে। সবার ফোকাস অনেক বেশি থাকবে। এবার খুব ভালো একটা প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট হবে।’

এবারের লিগ হবে ১০ ভেন্যু— বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম, রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়াম, খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম, ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম, বরিশাল বিভাগীয় স্টেডিয়াম, কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ১ ও ২ নম্বর মাঠ, রংপুর ক্রিকেট গার্ডেন, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম ও ঢাকার শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে।

/আরআই/কেআর/

লাইভ

টপ