চোখ রাখতে হবে যাদের দিকে

Send
তানজীম আহমেদ, চট্টগ্রাম থেকে
প্রকাশিত : ২০:৪৪, অক্টোবর ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৩, অক্টোবর ১৮, ২০১৯

দরজায় কড়া নাড়ছে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ। শনিবার শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে চট্টগ্রামে এখন উৎসবের আমেজ। অনেক ফুটবলারের ভিড়ে কয়েক জনের দিকে আলাদা নজর রাখতেই হবে। তাদের নিয়ে এই আয়োজন।

জামাল ভূঁইয়া। জামাল ভূঁইয়া (চট্টগ্রাম আবাহনী)

জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া দেশের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার। দারুণ পরিশ্রমী এই ফুটবলারের জন্ম ডেনমার্কে হলেও নাড়ির টানে দেশে ফিরে কাঁধে ‍তুলে নিয়েছেন মাঝমাঠের দায়িত্ব। ২৯ বছর বয়সী জামাল যোগ দেওয়ার পর থেকে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স ঊর্ধ্বমুখী। সেটপিস বিশেষজ্ঞ হিসেবে দলের অনেক সাফল্যের রূপকার তিনি। কয়েক দিন আগে কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে হেড করেই বাংলাদেশকে গোল এনে দিয়েছেন সাদ উদ্দিন।

ইয়াসিন খান। ইয়াসিন খান (বসুন্ধরা কিংস)

গত মৌসুমে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করা ইয়াসিন খান এই টুর্নামেন্টে খেলবেন বসুন্ধরা কিংসের জার্সিতে। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে দৃঢ়তার সঙ্গে খেলে অনেকদিন পর ফিরেছেন জাতীয় দলে। প্রত্যাবর্তনটা এক কথায় দুর্দান্ত। এ মাসের শুরুতে ভুটানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ডিফেন্স সামলানোর পাশাপাশি জোড়া গোল করে জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। এরপর ভারতের বিপক্ষে শুরুতে মাথায় আঘাত পেলেও ব্যান্ডেজ বেঁধে পুরো ম্যাচ খেলেছেন বীরত্বের সঙ্গে। সুনীল ছেত্রীর মতো সফল স্ট্রাইকারও সেদিন জাল খুঁজে পাননি ইয়াসিনের দৃঢ়তায়।

দানিয়েল কোলিনদ্রেসদানিয়েল কোলিনদ্রেস (বসুন্ধরা কিংস)

রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলে এসে বসুন্ধরা কিংসে যোগ দিয়েছেন গত মৌসুমে। আর প্রথম মৌসুমেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। নবাগত বসুন্ধরাকে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা এনে দিতে কোলিনদ্রেসের অবদান ১১টি গোল। এর আগে স্বাধীনতা কাপেও জ্বলে উঠে দলের শিরোপা জয়ে ভূমিকা রেখেছেন কোস্টারিকার এই স্ট্রাইকার। নিজে গোল করার পাশাপাশি অ্যাসিস্টেও তিনি দারুণ দক্ষ।

প্রিন্স ট্যাগো।প্রিন্স ট্যাগো (চট্টগ্রাম আবাহনী)

কোলিনদ্রেসেরও আগে বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে প্রিন্স ট্যাগোর। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ঘানার জার্সিতে খেলেছিলেন তিনি। আফ্রিকান দেশটির হয়ে ৩৬ ম্যাচে এই স্ট্রাইকারের গোল সংখ্যা ৭টি। এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন লিগে অংশ নেওয়া ট্যাগো এবারই প্রথম খেলছেন চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়ে। তাকে পেয়ে টুর্নামেন্টের আয়োজক দলের আক্রমণভাগ এখন দারুণ শক্তিশালী।

লি টাক। লি টাক (তেরেঙ্গানু এফসি)

ঢাকার ফুটবলে বিদেশিদের অবদান নতুন কিছু নয়। তবু তার মাঝে আলাদা মহিমায় উজ্জ্বল ইংলিশ মিডফিল্ডার লি টাক। ২০১৫-২০১৬ মৌসুমে ঢাকা আবাহনীর প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ে তার ছিল বিশাল ভূমিকা। মাঝমাঠে খেললেও গোল করেছিলেন ১০টি। শুধু তাই নয়, সানডে চিজোবার ১৯ গোলের অধিকাংশই ছিল তার অ্যাসিস্টে। আকাশি-হলুদ সমর্থকদের হৃদয় জয়ের পর চলে যান মালয়েশিয়ায়। দেশটির ক্লাব তেরেঙ্গানুর অন্যতম ভরসা তিনি।

পেদ্রো মানজিপেদ্রো মানজি (চেন্নাই এফসি)

গত মৌসুমে ভারতের পেশাদার লিগে (আই-লিগ) চেন্নাই সিটি এফসি শিরোপা জিতেছে পেদ্রো মানজির দুর্দান্ত নৈপুণ্যে। মাত্র ২১ ম্যাচে ২৫ গোল করেছেন উরুগুয়ের এই স্ট্রাইকার, যেখানে হ্যাটট্রিকের সংখ্যা চারটি! শেখ কামাল ক্লাব কাপে মানজির দিকে তাই আলাদা নজর রাখতেই হবে।

দানিল সাইরাস।দানিল সাইরাস (মোহনবাগান)

ভারতের ঐতিহ্যবাহী দল মোহনবাগানের ডিফেন্সের বিশাল ভরসা তিনি। ত্রিনিদাদের জার্সিতে ৭৯টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ সাইরাস। দীর্ঘদেহী (৬ ফুট ৩ ইঞ্চি) এই ডিফেন্ডার এ মৌসুমেই যোগ দিয়েছেন মোহনবাগানে।



/টিএ/এএআর/

লাইভ

টপ