‘বাংলাদেশকে আমি অনেক মিস করি’

Send
তানজীম আহমেদ, চট্টগ্রাম থেকে
প্রকাশিত : ২৩:০৭, অক্টোবর ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১০, অক্টোবর ১৮, ২০১৯

লি টাক। ঢাকায় এক মৌসুম খেলেই সমর্থকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন লি টাক। ঢাকা আবাহনীর হয়ে খেলে ২০১৫-২০১৬ মৌসুমে মাঠ মাতিয়েছেন এই প্লেমেকার।আকাশি-হলুদদের শিরোপা জয়ের পিছনে ছিল তার বিশাল অবদান। সেবার গোল করেছিলেন ১০টি। কিন্তু সতীর্থ সানডে চিজোবার ১৯ গোলে তার অ্যাসিস্টই ছিল অধিকাংশ।
এক মৌসুম আবাহনীতে খেলে তারপর যোগ দেন মালয়েশিয়ার লিগে। এখনও ভোলেননি ঢাকার স্মৃতি। শুক্রবার চট্টগ্রামে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপে মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানুর অধিনায়ক হিসেবে খেলতে এসে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসলেন।

বাংলা ট্রিবিউন: তিন বছর পর বাংলাদেশে এসেছেন। কেমন লাগছে?

লি টাক: যখনই বাংলাদেশে খেলার সুযোগের কথা শুনেছি।তখন থেকেই এখানে আসার জন্য উদগ্রীব ছিলাম। তাই আবারও বাংলাদেশে আসতে পেরে ভীষণ খুশি। এই দেশের ক্লাবে খেলে গেছি। আবাহনীর হয়ে সেই মৌসুমে আমরা লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। সেই স্মৃতি ভুলি কী করে? বাংলাদেশের আবহাওয়া কিংবা পরিবেশ সবকিছুই আমার জানা। বলতে পারেন বাংলাদেশকে আমি অনেক মিস করি। যখন খেলেছি, তখন এই দেশের সংস্কৃতির সঙ্গেও মিশে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। বৈশাখের অনুষ্ঠানে লাল পাঞ্জাবী গায়ে ঢাকায় ঘুরে বেড়িয়েছি। আসলে অসাধারণ সময় কেটেছে।

বাংলা ট্রিবিউন: আবাহনীকে লিগ জিতিয়েই তো আপনি বাংলাদেশ ছাড়লেন…

লি টাক: হ্যাঁ। আসলে সেটা ছিল দুঃখজনক। লিগ জিতে আমাকে চলে যেতে হয়েছে। আবাহনীতে আর খেলা হয়নি। যে কারণে এএফসি কাপও মিস করেছি। তবে মালয়েশিয়াতে আমি ভালো আছি। আমার দলও ভালো করছে। যে কারণে আমার কাঁধে এখন অধিনায়কত্বের দায়িত্ব।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার পুরোনো দল ঢাকা আবাহনী এএফসি কাপে প্রথমবারের মতো নক আউট পর্বে খেলেছে। শুনেছেন নিশ্চয়ই?

লি টাক: হ্যাঁ, শুনেছি। আবাহনী এএফসি কাপে সাফল্য পেয়েছে, ভালো খেলেছে। তবে তাদের এএফসি কাপের খেলা দেখা হয়ে উঠেনি। আমি হয়তো দলে থাকলে আবাহনীর হয়ে এএফসি কাপে খেলতে পারতাম। তবে না খেলতে পারলেও আবাহনীর সাফল্য দেখে আমি খুশি হয়েছি। এবার শুনেছিলাম আবাহনী এই আসরে খেলবে। কিন্তু তাদের দেখতে না পেরে খারাপ লাগছে।

বাংলা ট্রিবিউন: এবার তো মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানুর অধিনায়ক হিসেবে খেলতে এসেছেন। এই দল নিয়ে আপনার লক্ষ্য কী?

লি টাক: অন্যদের মতো আমরাও নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছি। তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিলিয়ে গড়া দল নিয়ে ভালো ফল করা আমাদের লক্ষ্য। শিরোপা জিতে মালয়েশিয়াতে ফিরতে চাই।

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলের খোঁজ-খবর এখনও রাখেন?

লি টাক: আমার মনে হয় আগের চেয়ে এখানকার ঘরোয়া প্রতিযোগিতা আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়েছে। এখানে দলগুলো বেশ সিরিয়াস। ভালো মানের বিদেশি খেলোয়াড়ও খেলছে, ট্রেনিং সুবিধা বেড়েছে। আবাহনীর পাশাপাশি বসুন্ধরা কিংসের মতো দল এসেছে। তারাও এএফসি কাপে খেলবে। আমার মনে হয় বাংলাদেশের ফুটবল এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি তো দেখি দাড়িও রেখে দিয়েছিন। আপনাকে চিনতে একটু কষ্ট হচ্ছে!

লি টাক: (একটু হেসে) আসলে আমার স্ত্রী দাড়ি রাখাটা পছন্দ করে না। কিন্তু আমি পছন্দ করি। এখন আমার বাচ্চা হয়েছে। বলতে পারেন এটা আমার সৌভাগ্যের প্রতীক।

বাংলা ট্রিবিউন: তিন বছর আগে যে লি টাকের খেলা দেখে দর্শকরা মজে গিয়েছিল, সেই পারফরম্যান্স কি এবারও দেখা যাবে?

লি টাক: হ্যাঁ, কেন নয়। একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের কাজই হলো খেলা। আমি মনে করি এখনও আমার অনেক কিছু দেওয়ার আছে। চট্টগ্রামে এই ক্লাব কাপে খেলতে এসে আমি উচ্ছ্বসিত। এখানেও আমি আমার স্কিল দেখানোর অপেক্ষায় আছি। যেন দর্শকরা আমার খেলা দেখে পছন্দ করে। নতুন করে মনে রাখে।

বাংলা ট্রিবিউন: মালয়েশিয়াতে খেলছেন অনেক দিন হলো। বাংলাদেশ আর মালয়েশিয়ার লিগের মধ্যে পার্থক্য কেমন দেখছেন।

লি টাক: বাংলাদেশে তিন থেকে চারটি দেশের মধ্যে লিগের লড়াই হয়ে থাকে। যারা সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী। মাঝে মধ্যে চার থেকে পাঁচটি দলের মধ্যেও লড়াই হয়। তবে মালয়েশিয়াতে লিগ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। খেলার মান কিংবা সুবিধাও বেশি। আমার ক্লাবের খেলা দেখতে প্রতি ম্যাচে ১০ থেকে ২০ হাজার দর্শক আসে। এতেই পরিষ্কার সেখানে ফুটবল কতটা জনপ্রিয়।

বাংলা ট্রিবিউন: আবারও বাংলাদেশের কোনও ক্লাব থেকে খেলার আমন্ত্রণ পেলে কী করবেন?

লি টাক: অসম্ভব কিছু না, সবকিছুই সম্ভব। তবে এই সময়ে আমি মালয়েশিয়ার ক্লাব দলে খেলে খুশি। আমি এখন এই দলটির অধিনায়ক। তবে বাংলাদেশে যেহেতু একবার খেলেছি, ভালো অভিজ্ঞতা আছে। হয়তো একদিন ফিরেও আসতে পারি!

/এফআইআর/

লাইভ

টপ