কী কারণে দেয়ালে পিঠ ঠেকলো ক্রিকেটারদের?

Send
রবিউল ইসলাম
প্রকাশিত : ২০:২৩, অক্টোবর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২৬, অক্টোবর ২১, ২০১৯

ক্রিকেটারদের মুখপাত্র হিসেবে সংবাদ মাধ্যমের সামনে দাবি-দাওয়া তুলে ধরছেন সাকিবব্যক্তিগতভাবে কিংবা দলবদ্ধ হয়ে অনেক সময় নিজেদের সমস্যা নিয়ে বিসিবির দরজায় যান ক্রিকেটাররা। কিন্তু আশ্বাস পেলেও তাদের সমস্যার সমাধান হয়নি কখনও। এবার তাই ক্রিকেটাররা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন দাবি আদায়ে।

সোমবার ১১ দফা উত্থাপন করার পাশাপাশি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার আল্টিমেটাম দিয়েছেন সাকিব-তামিমরা। অথচ ভারত সফরকে সামনে রেখে ২৫ অক্টোবর জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা। সামনে গুরুত্বপূর্ণ সফর, তবু এই ধর্মঘটকে ‘সময়োপযোগী’ এবং ‘যৌক্তিক’ বলে মনে করছেন ক্রিকেটাররা।

ক্রিকেটারদের ধর্মঘট ডাকার পেছনে বেশ কয়েকটি বিষয় কাজ করেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় ইস্যু বিপিএল। মাস দেড়েক আগে কিছু বিষয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে সমস্যা হওয়ার পর বিসিবি নিজ উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর নামে বিপিএল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এমন সিদ্ধান্তে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক কমে যাচ্ছে অনেক। মাশরাফি-সাকিব-তামিমরা আগে বিপিএলের একটি আসরে খেলে কোটি টাকার বেশি পেলেও এবার তাদের পারিশ্রমিক নেমে যাবে ৫০ লাখের নিচে। অন্যদিকে যারা ২০ লাখ টাকা পেতেন তারা পাবেন ১০ লাখেরও কম।

আন্দোলনে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রিকেটার জানিয়েছেন, বিপিএল নিয়ে ঝামেলাই ধর্মঘট ডাকতে উদ্বুদ্ধ করেছে তাদের। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় ইস্যু বিপিএল। সাকিবের রংপুরে যাওয়া নিয়ে বিশাল পরিবর্তন এসেছে বিপিএলে। সাকিব নিজেও ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছে এবং সেজন্য তার খারাপও লেগেছে। তার জন্য যে অন্য ক্রিকেটাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাকিব সেটা কিছুতেই মানতে পারছিল না। জাতীয় ক্রিকেট লিগ নিয়েও অভিযোগ আছে আমাদের। প্রতিশ্রুতি দিলেও জাতীয় লিগে এবার পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়নি। এই প্রতিযোগিতার ম্যাচ ফি মাত্র ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে আমরা ভীষণ হতাশ। জাতীয় লিগ শুরুর পর আমরা একাট্টা হয়েছি। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া আমাদের উপায় ছিল না।’

ঘরোয়া ক্রিকেটের অবকাঠামো এবং আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ক্রিকেটারদের অভিযোগ অনেক দিনের। এমনকি কয়েকজন বিদেশি কোচও সবার আগে ঘরোয়া ক্রিকেট উন্নয়নের পরামর্শ দিয়েছেন। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের উইকেট এবং আম্পায়ারিংয়ের মান নিয়ে ক্রিকেটার ও দলগুলোর অসন্তোষ বহু পুরনো। বিভিন্ন কারণে ভালো মানের ক্রিকেটার উঠে আসছে না। তরুণ ক্রিকেটাররা জাতীয় দলে সুযোগ পেলেও নিয়মিত পারফর্ম করতে পারেন না। সব মিলিয়ে সাকিব-তামিমরা ভীষণ হতাশ। তরুণ ক্রিকেটারদের স্বার্থেই তাদের এই আন্দোলন।

অনেক দিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা এক ক্রিকেটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘এক কথা কতবার বলা যায়! এসব নিয়ে বলতে বলতে আমরা টায়ার্ড। তাই এবার সবাই একজোট হয়ে আমাদের দাবি-দাওয়া জানালাম।’

কয়েক বছর ধরেই ক্রিকেটারদের আর্থিকভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বিসিবি। আর্থিক সীমাবদ্ধতার ‘অজুহাতে’ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্লেয়ার্স ড্রাফট নিয়ম চালু করেছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অথচ আগে ‘উন্মুক্ত’ পদ্ধতিতে ঢাকা লিগে পছন্দের দল বেছে নিতে পারতেন ক্রিকেটাররা। বিপিএলের শুরু থেকে প্লেয়ার্স ড্রাফট থাকলেও বাড়তি টাকা দাবি করতে পারতেন ক্রিকেটাররা। অনেক সময় ফ্র্যাঞ্চাইজিরা তা মেনেও নিতো। কিন্তু এবার সেই সুযোগও থাকছে না।

ক্রিকেটাররা তাই ভীষণ ক্ষুব্ধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র ব্যাটসম্যান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমরা তো ব্যবসায়ী নই যে এবারের ক্ষতি পরেরবার পুষিয়ে নেবো। আমরা ক্রিকেট খেলে আয় করি আর এই আয়ে আমাদের জীবনযাপন করতে হয়। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগ, জাতীয় লিগ, বিপিএল সব টুর্নামেন্টে আমাদের আয়ের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে বিসিবি। এটা তো হতে পারে না। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় আজ আমরা এক হয়েছি। এভাবে আর চলতে দেওয়া যায় না।’

বিসিবি অবশ্য ক্রিকেটারদের ধর্মঘটকে ‘বিদ্রোহ’ বলে মনে করছে না। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেছেন, ‘এটা বিদ্রোহ নয়। ক্রিকেটাররা তো বোর্ডেরই অংশ। তারা বিভিন্ন দাবি নিয়ে আমাদের কাছে আসে। আমরা তাদের সব দাবি পূরণের চেষ্টা করি। আজকের বিষয়টা আমাদের নজরে এসেছে। আমরা আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবো।’

/আরআই/এএআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ