behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

সানিয়ার যুদ্ধজয়ের গল্প

স্পোর্টস ডেস্ক১১:৫৩, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৫

Sania-Mirza-8সানিয়া মির্জার জন্ম ১৯৮৬ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে। সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠেন তিনি। রক্ষণশীল ভারতীয় সমাজে কোনও নারীকে যখন নিজের অধিকার আর শিক্ষা পেতে লড়াই করতে হয় সেখানে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে সানিয়ার উত্থান একটি যুদ্ধজয়ের গল্পের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। তারওপর পদে পদে লড়াই করতে হয়েছে পুরুষশাসিত সমাজের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সে কথা স্মরণ করিয়ে সানিয়া বলেন, মেয়ে হয়ে জন্মালে অনেক লড়াই লড়তে হবে। কারণ আমাদের বসবাস পুরুষদের দুনিয়ায়। একজন পুরুষ যখন কিছু অর্জন করে তখন বলা হয় সে উচ্চাকাঙ্ক্ষী। কিন্তু সেই কাজটা মেয়ে করলেই বলা হবে সে বিদ্রোহী।
সানিয়া বলেন, 'টেনিসের শুরুতে প্রেরণা দেওয়ার মতো ছিল না কেউই। বরং সবাই বলতো আমি আমার সময় আর অর্থ নষ্ট করছি। আমার চিকিৎসক অথবা শিক্ষিকা হওয়া উচিৎ। তবে কাউকে কিছু বলিনি, বিনয়ের সঙ্গে জবাব দিয়ে নিজ লক্ষ্যে স্থির ছিলাম।'
তার ফলও হাতেনাতে পেয়েছেন সানিয়া। নারীদের ডাবলস র‌্যাংকিংয়ে সুইজারল্যান্ডের মার্টিনা হিঙ্গিসের সঙ্গে রয়েছেন এক নম্বরে। জিতেছেন উইম্বলডনসহ অনেক শিরোপা।
তার শিরোপায় ভারতজুড়ে উচ্ছ্বাস। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাসের আড়ালে কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায় পাকিস্তানি ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের সঙ্গে বিয়ের পরও তিনি কি আপাদমস্তক ভারতীয়ই আছেন? অথচ এখনও ভারতীয় পাসপোর্টই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলেন তিনি। এইতো বছরখানেক আগে নিজের রাজ্য তেলেঙ্গানার এক রাজনীতিবিদ তাকে পাকিস্তানের বউ বলে কটাক্ষ করার পর টিভিতে সানিয়া যে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। আক্ষেপ নিয়ে সানিয়া বলেন, ‘এই যে আমাকে প্রতি পদে পদে নিজের ভারতীয়ত্বের প্রমাণ দিতে হয়, এটা আমাকে আহত করে। এত বছর দেশের হয়ে খেলার পরও যে আমাকে এটা শুনতে হয়, এটাই সবচেয়ে দুঃখজনক।’

মুসলিম মেয়ে হয়ে টেনিস কোর্টে স্কার্ট পড়া নিয়েও কম কথা শুনতে হয়নি সানিয়াকে। তিনি বলেন, 'বিভিন্ন বিষয়ে আমাকে নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আমি এগুলোর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এগুলো আমাকে আরও শক্তিশালী করেছে আরও পরিণত করেছে।'

এইতো বছর কয়েক আগে খারাপ ফর্মে ছিলেন সানিয়া। ভারতের সাধারণ ক্রীড়ামোদী থেকে শুরু করে অনেকে সেজন্য শোয়েব মালিকের সঙ্গে তার বিয়েকেই দুষেছিলেন!

অতিষ্ঠ হয়ে টেনিসকে বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন সানিয়া। অবশেষে নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে সিদ্ধান্ত পাল্টেছেন। তিনি বলেন, 'ভেবেছিলাম অবসর নেব। অথচ এখন জীবনের সেরা টেনিস খেলছি৷ একজন অ্যাথলেটের জীবনে কখন যে কী ঘটবে, কেউই জানে না।'

চলতি বছরেই সানিয়া অর্জন করেছেন তিন-তিনটি শিরোপা। যার মধ্যে রয়েছে  সুইস পার্টনার মার্টিনা হিঙ্গিসকে নিয়ে সিঙ্গাপুর ডব্লিউটিএ। প্রকৃতপক্ষে স্বপ্নের সরণিতেই হাঁটছেন সানিয়া মির্জা আর হিঙ্গিস। সুইস কিংবদন্তি মার্টিনা হিঙ্গিসকে সঙ্গে নিয়ে টেনিস কোর্টে যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছেন হায়দরাবাদী সুন্দরী।

এর আগে ২০১৪ সালে গ্র্যান্ডস্লাম খেতাবও জিতেছেন মিক্সড ডাবলসে। আর মিক্সড ডাবলসে জিতেছেন এশিয়াড স্বর্ণও। এক কথায় সানিয়া এখন নিজে ফর্মের মধ্যগগনে রয়েছেন।

পুরোনো দিনের কথা স্মরণ করে সানিয়া বলেন, 'একসময় বলে বেড়াতাম আমি উইম্বলডন খেলবো। অনেকেই এটা নিয়ে জোকস করতো। তারা বলতো এটা কখনও হওয়ার নয়।'

৩০ বছর বয়সে এসেও এমন ফর্মের রহস্য কী? এমন প্রশ্নের জবাবে সানিয়া বলেন, 'খেলা বরাবরই আপনাকে শেখাবে, বয়স যতই হোক না কেনও। আমার জীবনটাই এর সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ।'

আগামী বছর জানুয়ারিতে হিঙ্গিসকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ওপেনের ডাবলসে লড়বেন সানিয়া। শেষ চারটি টুর্নামেন্টে ১৭ ম্যাচে সানিয়া-হিঙ্গিস খুঁইয়েছেন কেবলমাত্র দুটি সেট। ভয়ঙ্কর এই জুটি কোথায় গিয়ে থামে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

/এমআর/

ULAB
Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ