বাংলাদেশের কোরি অ্যান্ডারসন হতে চান সাইফউদ্দিন

Send
রবিউল ইসলাম
প্রকাশিত : ২০:২৪, জানুয়ারি ১০, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৩৩, জানুয়ারি ১১, ২০১৬

বাবার নিষেধ স্বত্বেও ক্রিকেটার হয়ে উঠেছেন। ছোট বেলাতে অবশ্য অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন এলাকার বড় ভাই অপু। ক্রিকেট তার স্বপ্নের নায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। টিভিতে তার ব্যাটিং দেখে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্নটা প্রথমে উঁকি দেয় ছোট মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের মনে। সে স্বপ্ন পূরণের পথেই আছেন তিনি। আসন্ন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের হয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় ফেনীর সন্তান পেস অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন

বাবার চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে এলাকার বড় ভাই অপুর কথামতো একদিন হুট করে ট্রায়ালে চলে আসেন। প্রথমবার ট্রায়াল থেকে বাদ পড়লেও দমে যাননি। দ্বিতীয়বার টিকে যান অনূর্ধ্ব-১৪ দলে। অনূর্ধ্ব-১৪ পর্যায়ে চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন এই অলরাউন্ডার। অন্যদিকে দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করেন অনূর্ধ্ব-১৬তে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যেন নতুন করে জানান দিলেন প্রতিভার। হোম সিরিজে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৭ ম্যাচে ১১ উইকেটের পাশাপাশি নিয়েছেন ১২২ রান। ফিরতি সফরে ব্যাটিংটা ভালো না হলেও নিয়েছিলেন ৭টি উইকেট। গত এপ্রিলে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে পঞ্চম ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়ে অসাধারণ এক জয় উপহার দেন তিনি। এক ম্যাচ পরই লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে ব্যাটিং করে অপরাজিত ৩৪ রানে ছিনিয়ে আনেন দুর্দান্ত এক জয়।

তার প্রিয় ক্রিকেটার নিউজিল্যান্ডের পেস অলরাউন্ডার কোরি অ্যান্ডারসন। বাংলাদেশের কোরি অ্যান্ডারসন হতে চান তিনি। ব্যাট ও বল হাতে দলের জন্য ভূমিকা রাখতে চান সাইফ। ৬-৭ নম্বরে নেমে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি দলের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বল হাতে ব্রেক থ্রু এনে দিতে চান। বিশ্বকাপে তিনি নিজেকে নতুন করে চিনিয়ে পেস অলরাউন্ডার হিসেবে জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে চান সাইফউদ্দিন। অনুশীলনে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন

আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ যোদ্ধাকে নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে বাংলা ট্রিবিউনে। আজ রবিবার থাকছে অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের একান্ত সাক্ষাৎকার :-

বাংলা ট্রিবিউন: বাবা বাধা দেওয়ার পরও ক্রিকেট আপনাকে এতোটা টানলো কেনও?

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন: ছোট বেলায় টিভিতে আশরাফুল ভাইয়ের ব্যাটিং দেখে আমার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নটা জাগে। স্বপ্ন দেখা শুরু করি জাতীয় দলে খেলার!  পাড়ার এক বড় ভাই আমাকে অনুপ্রেরণা দিতেন সব সময়। উনি একদিন আমাকে ট্রায়ালের কথা জানান। আমি বন্ধুদের নিয়ে ট্রায়ালে যাই। যদিও প্রথমবার টিকতে পারিনি। ২০১০ সালে দ্বিতীয়বার ট্রায়াল দিতে গিয়ে উত্তীর্ণ হই। এভাবেই আস্তে আস্তে বয়সভিত্তিক ধাপ পেরিয়ে এখানে আসা। ব্যাটিং অনুশীলন শেষে ক্যামেরাবন্দী সাইফউদ্দিন
বাংলা ট্রিবিউন
: অনেক দিন ধরে অনুশীলন চলছে; কালকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে। সিরিজে সব মিলিয়ে প্রস্তুতি কেমন দেখছেন?
মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন: অনেক ভালো প্রস্তুতি হয়েছে। কাল থেকে আমরা শেষবারের মতো নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতাগুলো পরখ করার সুযোগ পাবো। আশা করি এই ৩ ম্যাচে আমরা প্রস্তুতিটা আরও ভালো করে নিতে পারবো। গত বছর আমরা অনেক দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ খেলেছি। যদিও ভারতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজটি ভালো যায়নি আমাদের। তবে গত কিছুদিন অনুশীলনে নিজেদের দুর্বলতা নিয়ে কাজ করেছি। আগামীকাল শুরু হওয়া সিরিজে নিজেদের ভুলগুলো কতটুকু শুধরে নিতে পেরেছি তা দেখতে পারবো। এই সিরিজটি আমরা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছি।

বাংলা ট্রিবিউন: এবার জাতীয় লিগ খেলেছেন। এই অভিজ্ঞতা কতটুকু কাজ করবে?
মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন: গতবার জাতীয় লিগে জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটারের সঙ্গে খেলেছি। বিশেষ করে তামিম ভাই ও মুমিনুল হকের সঙ্গে ব্যাটিং করেছি। তাদের সঙ্গে ৪টি ম্যাচ খেলেছি। সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে ব্যাটিং নিয়ে অনেক আলাপ করেছি। আমি অনেক কিছুই শিখেছি তাদের সঙ্গে। ম্যাচের কোন পরিস্থিতিতে কিভাবে ব্যাটিং করতে হবে এ বিষয়ে আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন।
বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্বকাপে আপনার লক্ষ্য কী?
মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন
: সবারই স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলে খেলার। আমারও সেই স্বপ্ন আছে। তবে প্রাথমিক লক্ষ্য বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করাতে ভূমিকা রাখা। এই বিশ্বকাপে আমি নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার কোরি অ্যান্ডারসনের মতো নিজেকে অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। অবশ্যই ২-১ বছরের মধ্যে জাতীয় দলে সুযোগ করে নিতে চাই।
বাংলা ট্রিবিউন: কোরি অ্যান্ডারসনের মতো হতে চান কেন?
মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন : তিনি আমার মতো পজিশনে ব্যাটিং করেন। সেই সঙ্গে মিডিয়াম পেসেও দুর্দান্ত। আমি তার মতো ক্রিকেটার হতে চাই। যদিও আমার স্বপ্নটা ব্যাটিং অলরাউন্ডার হওয়া।
বাংলা ট্রিবিউন: পজিশন নিয়ে সন্তুষ্ট কিনা?
মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন : আমি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে ৬-৭ নম্বরে ব্যাটিং করি। টিম কম্বিনেশনের কারণেই আমাকে নিচে ব্যাটিং করতে হয়। আমি যেহেতু অলরাউন্ডার এই কারণে স্লগ ওভারে দ্রুত রান করার দায়িত্বটা আমার ওপরই থাকে। আমি ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে আমার দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে আশাবাদী।
বাংলা ট্রিবিউন: রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে আপনার বেশ সমস্যা আছে। এখন কী অবস্থা?
মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন: এখন অনেক উন্নতি হয়েছে। স্যারদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। আশা করি বিশ্বকাপের আগে এই সমস্যার সমাধান পুরোপুরি হয়ে যাবে। 

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন

বাংলা ট্রিবিউন: কোচ ও অধিনায়কের আস্থার জায়গায় আছেন আপনি। এটাকে কিভাবে নিচ্ছেন?

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন: মিরাজ আমার খুব ভালো বন্ধু। অধিনায়ক হিসেবেও অসাধারণ। সে আমার ওপর সবসময় আস্থা রাখে। কোচও আমার প্রতি অনেক আস্থা রাখেন। বিশ্বকাপে চেষ্টা করবো কোচ ও অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিতে। দলের সবাই মনে করে আমি ম্যাচ উইনার। আমি এটা করে দেখাতে চাই বিশ্বকাপে।

বাংলা ট্রিবিউন: তবে কি এবার শিরোপা আমাদেরই থাকছে?

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন: হুম, অবশ্যই। বিষয়টি নিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের টিম মিটিংয়ে অনেক আলোচনা হয়। আমার প্রত্যেকবারই ভালো দল হয়েও বিশ্বকাপে কিছু করতে পারি না। গত বিশ্বকাপে সামান্য ভুলের কারণে আমরা ছিটকে যাই। আমরা এবার সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের যত ভুলত্রুটি আছে সেগুলো আমরা সব সমাধান করেই বিশ্বকাপে মাঠে নামবো।

প্রোফাইল

নাম : মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন

ডাক নাম: সাইফ

জন্ম: ১ জানুয়ারি ১৯৯৬

জন্মস্থান: ফেনী

উচ্চতা: ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি

ওজন: ৭৫ কেজি

পড়াশুনা : এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষ

প্রথম ক্লাব : ফ্রেন্ডস ক্রিকেট ক্লাব, ফেনী
ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবালের সঙ্গে সাইফউদ্দিন
বর্তমান ক্লাব : ক্রিকেট কোচিং স্কুল (সিসিএস)
বোলিং স্টাইল : ডানহাতি পেস বোলার
ব্যাটিং স্টাইল : ডানহাতি ব্যাটসম্যান
প্রিয় ক্রিকেটার : কোরে অ্যান্ডারসন (নিউজিল্যান্ড) এবং তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ)
ক্রিকেট ছাড়া অন্য প্রিয় খেলা : ফুটবল
প্রিয় ফুটবল ক্লাব : বার্সেলোনা
প্রিয় ফুটবল তারকা : লিওনেল মেসি
প্রিয় বন্ধু : মুস্তাফিজ, মুন্না ও জাফর

ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত : হোম সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে একটি ম্যাচে ৫ উইকেট এবং অন্য একটি ম্যাচে শেষ উইকেটে ৩৪ রান করে ম্যাচ জিতিয়েছিলাম।

 ছবি : সাজ্জাদ হোসেন


/এমআর/



লাইভ

টপ