ডাচদের হারিয়ে বিশ্বকাপে টাইগারদের শুভসূচনা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:০৩, মার্চ ০৯, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১৯, মার্চ ০৯, ২০১৬

CdGu1CDWAAEhoxY.jpg largeম্যাচের আগেই হুমকি দিয়েছিলেন ডাচ অধিনায়ক পিটার বোরেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে অঘটন ঘটাবেন তারা। তা অঘটন ঘটাতে না পারলেও টাইগারদের ভেতরে কাঁপন ধরিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। টি-টোয়েন্টিতে ১৫৩ রান মাঝারি মানের সংগ্রহ বলা যায়। তারপর ধর্মশালার এ স্টেডিয়ামের রেকর্ডও বলে ভিন্নকথা। এ মাঠে ২০১৪ সালের অক্টোবরে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডেতে উঠেছিল ৬০১ রান। গত অক্টোবরে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম এ মাঠে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছিল। সেই ম্যাচে ভারতের দেওয়া ২০০ রানের লক্ষ্য বেশ অনায়াসেই ছুঁয়েছিল প্রোটিয়ারা।

ভয়েরর কারণ ছিল আরও। এই ডাচরাই কিনা ২০০৯ বিশ্বকাপে পরে ব্যাট করে ১৬৪ রান তুলে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল। আগের ৩৮টি টি-টোয়েন্টি ইনিংসের ১১টিতেই ১৫০ কিংবা এর বেশি করেছে তারা। কিন্তু বাংলাদেশের বড় শক্তি এখন বোলিং। শঙ্কা জাগলেও শেষ পর্যন্ত বোলাররাই টাইগারদের ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে বারবার।

তামিম আর বোলারদের কল্যাণে বিশ্বকাপে শুভসূচনা করলো বাংলাদেশ। প্রাথমিক রাউন্ডে নিজেদের প্রথম ম্যাচে এদিন নেদারল্যান্ডসকে ৮ রানে হারিয়েছে টাইগাররা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সৌম্য-সাকিব-সাব্বির-মুশফিকদের আসা যাওয়ার মাঝে একপ্রান্ত আগলে রাখেন তামিম ইকবাল। শেষ পর্যন্ত তার ৫৮ বলে অপরাজিত ৮৩ রানের ঝড়ো ইনিংসে ১৫৩ রানের পুঁজি সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৫ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় নেদারল্যান্ডস। ফলে ৮ রানের জয় তুলে নেয় টাইগাররা।
বুধবার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ডাচ অধিনায়ক পিটার বোরেন। ওপেনিংয়ে নেমে শুরুতে দেখেশুনে খেলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। ৩ ওভারে ১৮ রান তুলেন তারা। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে আউট হন সৌম্য। ভ্যান ম্যাকরেনের বলে উইকেট কিপার ওয়েসলি ব্যারাসির হাতে কাচ তুলে সাজঘরে ফিরেন সৌম্য। আউট হওয়ার আগে ১৩ বলে ১৫ রান করেন তিনি। 

এরপর ক্রিজে আসেন সাব্বির। তাকে নিয়ে ৫.২ ওভারে ৪২ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তামিম। তবে ৮.৩ ওভারে দলীয় ৬০ রানের মাথায় ভ্যান ডার মারে'র বলে আউট হন সাব্বির (১৫)। কিছুক্ষণ পর ফিরে যান সাকিব আল হাসানও (৫)। ১০.৫ ওভারে পিটার বোরেনের বলে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন তিনি।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যান তামিম। ১৫তম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন ভ্যান ডার গুটেন। ১৪.২ ও ১৪.৫ ওভারে তার বলে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ (১০) ও মুশফিক (০)। ১৭.৪ ওভারে ফিরে যান নাসির হোসেনও।

তবে একপ্রান্তে আসা-যাওয়ার মিছিল থাকলেও দমে যাননি তামিম। একপ্রান্ত থেকে ব্যাট চালিয়ে খেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৫৮ বলে ৮৩ রানের ইনিংস খেলেন তামিম। ঝড়ো এই ইনিংসে ৬টি চার ও ৩টি ছয়ের মার রয়েছে। তামিমের ব্যাটে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রান করে টাইগাররা। ডাচদের হয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন ভ্যান ডার গুটেন, দুটি উইকেট নিয়েছেন ভ্যান ম্যাকেরেন।236089.3

১৫৪ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে সতর্কতার সঙ্গে শুরু করে ডাচরা। দলীয় ২১ রানের মাথায় ব্যারেসিকে (৯) ফেরান আল আমিন। ব্যারেসি সাব্বিরের হাতে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরন। ৮.১ ওভারে মাইবার্গকে (২৯) বোল্ড করেন নাসির। এরপর বেন কুপার ও পিটার ব্যারন ৩.১ ওভারে ২৪ রানের জুটি গড়েন। ১১.২ ওভারে আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। বেন কুপারকে (২০) বোল্ড করেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।
এরপরই হাল ধরেন পিটার ব্যারন ও টম কুপার। ক্রমেই এই জুটি যখন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিল তখন ডাচ অধিনায়ক পিটার ব্যারনকে ফেরান সাকিব আল হাসান। তাকে নাসিরের হাতে ক্যাচে পরিণত করেন সাকিব। আউট হওয়ার আগে ২৮ বলে ২৯ রান করেন তিনি। এছাড়া টম কুপারের সঙ্গে ৪.৪ ওভারে ৩৫ রানের জুটি গড়েন পিটার।

পরের ওভারে আঘাত হানেন মাশরাফি। ভ্যান ডার মারউইকে (১) উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচে পরিণত করেন টাইগার অধিনায়ক। ডাচদের পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটে। শেষ তিন ওভারে জয়ের জন্য ডাচদের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায় ৩৯ রান। ১৮তম ওভারে মাত্র ৬ রান করতে পারে ডাচরা। ১৯তম ওভার বোলিং করেন আল আমিন। প্রথম বলে টম কুপারকে ফেরান তিনি। কিন্তু পরের দুটি বলে ১টি চার ও ১টি ছয় হাঁকান মুদাসসর বুখারি। ওই ওভারের শেষ বলে চারও হাঁকান পিটার সেলনার। ম্যাচ জিততে শেষ ওভারে ডাচদের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায় ১৭ রান। ওভারের প্রথম বলে আসে দুই রান। দ্বিতীয় বলে রানআউটন হন বুখারি। শেষ ওভারে মাত্র ৮ রান সংগ্রহ করতে পারে নেদারল্যান্ডস।

শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৫ রান তুলতে সক্ষম হয় ডাচরা। বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন আল আমিন হোসেন ও সাকিব আল হাসান। একটি করে উইকেট নিয়েছেন নাসির ও মাশরাফি।

/এমআর/

লাইভ

টপ