১ রানে হারের যন্ত্রণায় বিদ্ধ বাংলাদেশ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:৫৭, মার্চ ২৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:০৩, মার্চ ২৪, ২০১৬

রোহিত শর্মাকে আউট করার পর মুস্তাফিজের উদযাপনএশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরেই স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হয়েছিল বাংলাদেশকে। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টাইগারদের প্রধান দুই অস্ত্র তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি'র নিষিদ্ধ হওয়ার পেছনে ভারতের 'ষড়যন্ত্র'ও বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের মুখে-মুখে। সব মিলিয়ে এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য একরকম প্রতিশোধের মিশনই ছিল।

সেই মিশনে প্রায় সফল হওয়ার পথেও ছিল বাংলাদেশ। শেষ ওভারের প্রয়োজন ছিল ১১ রান। বল করতে আসেন হার্দিক পান্ডে। প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন রিয়াদ। স্ট্রাইকে মুশফিক। পরের দুই বলে দুটি চার মেরে ম্যাচ নিজের পকেটে পুরে নেন তিনি। পরের বলে আউট মুশফিক। দুই বলে বাংলদেশের প্রয়োজন দুই রান। পরের বলে উঠিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে আউট মাহমুদউল্লাহ। ১ বলে টাইগারদের প্রয়োজন দুই রান। শেষ বলটি ব্যাটে লাগাতে পারলেন না শুভাগত হোম। রান নিতে গিয়ে রান-আউট মুস্তাফিজ। ফলশ্রুতিতে ১ রানে হারের তীব্র শূলে বিদ্ধ বাংলাদেশ।
ম্যাচের আগে ভারতীয় অধিনায়ক এমএস ধোনি ঘোষণা দিয়েছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে শুধু জয় নয় রান রেট বাড়িয়ে নিতে চান তারা। বুধবার রাতে টসে হেরে ভারত ব্যাট করতে নামার পর দেখা গেল উল্টো দৃশ্য। টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দিশেহারা ভারত। ব্যাট করতে নেমে সতর্কতার সঙ্গে শুরু করেন শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা। তবে ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে দলীয় ৪২ রানে রোহিত শর্মাকে সাজঘরে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। সাব্বিরের হাতে ক্যাচ তোলার আগে ১৬ বলে ১৮ রান করেন তিনি।

এরপর আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। সপ্তম ওভারের শেষ বলে শিখর ধাওয়ানকে এলবিডব্লি'র ফাঁদে ফেলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। আউট হওয়ার আগে ২২ বলে ২৩ রান করেন তিনি। এরপর হাল ধরেন বিরাট কোহলি ও সুরেশ রায়না। দলীয় ৯৫ রানের মাথায় শুভাগত হোমের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন কোহলি (২৪)। আউট হওয়ার আগে সুরেশ রায়নাকে নিয়ে ৬.৪ ওভারে ৫০ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তিনি।

এরপর জোড়া আঘাত হানেন আল আমিন। ১৫.১ ওভারে সুরেশ রায়নাকে (৩০) সাব্বিরের হাতে ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। পরের বলেই হার্দিক পান্ডেকেও সাজঘরে ফেরান তিনি। দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরে অবশ্য ওই আউটের ক্রেডিট পেতেই পারেন সৌম্য সরকার।

পরপর দুই উইকেট হারিয়ে ভারতের রানের গতি শ্লথ হয়ে যায়। রানের চাকা সচল রাখতে যখন হাত খুলে মারার প্রয়োজন ছিল সে সময় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে আল আমিনের হাতে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরেন যুবরাজ সিং (৩)। ১১৭ রানে ভারতের ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে।

শেষ ওভারটি করতে এসে দারুণ এক ইয়র্কারে জাদেজাকে (১২) বোল্ড করে মুস্তাফিজ। শেষ পর্যন্ত ধোনির অপরাজিত ১৩ রানে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রান সংগ্রহ করে ভারত। টাইগারদের হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ ও আল আমিন।

আল আমিন- মুস্তাফিজ-সাকিবরা যেখান থেকে শেষ করলেন সেখান থেকে শুরু করলেন তামিম ইকবাল। ২.২ ওভারে দলীয় ১১ রানে মিথুন আলী (১) ফিরে গেলেও রানের গতি বাড়ি‌‌‌য়ে নিতে থাকেন তামিম-সাব্বির। ৩২ বলে ৩৫ রানে তামিম যখন জাদেজার বলে স্ট্যাম্পড হন তখন ৭.৪ ওভারে বাংলাদেশের রান ৫৫। আউট হওয়ার আগে সাব্বিরকে নিয়ে ৫.২ ওভারে ৪৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তামিম। ৩৫ রানের ইনিংসে পাঁচটি চার হাকান এই ড্যাশিং ওপেনার।

এরপর দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন সাব্বির রহমান। রায়নার ওয়াইড বলে ধোনির দারুণ এক স্ট্যাম্পিংয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ১৫ বলে ২৬ রান করেন সাব্বির। ৯.২ ওভারে ৬৯ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে।

সাব্বির আউট হওয়ার পর চার নম্বরে মাঠে নামেন মাশরাফি। তবে ৫ বলে ছয় রান করে সাজঘরে ফিরেন তিনি। এক ছক্কায় ওই রান করেন তিনি। ১৫ বলে ২২ রান করে ফিরে যান সাকিবও। ১১.১ ওভারে দলীয় ৯৫ রানে পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। ফলে ম্যাচে ফিরে আসে ভারত।

এরপরে হাল ধরেন সৌম্য ও মাহমুদউল্লাহ। শেষ ৬ ওভারে বাংলাদেশেল প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায় ৪৮ রান। ১৫তম ওভারে আসে পাঁচ রান। ফলে শেষ পাঁচ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন হয় ৪২। ওই ওভারের প্রথম বলে জাদেজাকে ছক্কা হাঁকান সৌম্য। জাদেজার ওই ওভারে আসে ৯ রান। চার ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৩ রান।

বুমরাহ 'র করা ১৭তম ওভারে আসে ৭ রান। ৩ ওভরে বাংলাদেশের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায় ২৭ রান। ১৭.৫ ওভারে নেহরার বলে ক্যাচ তুলে ফিরে যান সৌম্য। ২১ বলে ২১ রান করেন তিনি। এছাড়া মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ৫.৪ ওভারে গুরুত্বপূর্ণ ৩১ রানের জুটি গড়েন তিনি। ওই ওভারের শেষ বলে ৪ মানের রিয়াদ।

শেষ দুই ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭ রান। ১৯তম ওভারে আসে ৬ রান। ফলে শেষ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন দাঁড়ায় ১১ রান। বল করতে আসেন হার্দিক পান্ডে। প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন রিয়াদ। স্ট্রাইকে মুশফিক। দ্বিতীয় বলে চার মানে মুশফিক। পরের দু বলে দুটি চার মানের মুশফিক। পরের বলে আউট মুশফিক ( ৬ বলে ১১)। দুই বলে বাংলদেশের প্রয়োজন দুই রান। প্রান্তবদল করে স্ট্রাইকে মাহমুদউল্লা। পরের বলে উঠিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে আউট মাহমুদউল্লাহ। ১ বলে টাইগারদের প্রয়োজন দুই রান। শেষ বলটি ব্যাটে লাগাতে পারলেন না শুভাগত। রান নিতে গিয়ে আউট মুস্তাফিজ। ফলাফলে এক রানের হারের আক্ষেপে বিদ্ধ বাংলাদেশ।

/এমআর/

লাইভ

টপ