behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

পাকিস্তান নয় বাংলাদেশকে প্রবল প্রতিপক্ষ মানছেন ভারতীয়রা

রবিউল ইসলাম, ভারত থেকে ফিরে১৯:১৪, এপ্রিল ০১, ২০১৬

208951.5ক্রিকেট বিশ্বে কিছু দেশ রয়েছে, যাদের ২২ গজের লড়াই মানে উত্তেজনার পারদ সবখানে ছড়িয়ে পড়া। প্রতিবছর ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার অ্যাশেজটি সিরিজটিও অনেকটাই এমন। এছাড়া ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক উত্তাপের কারণে দুই দলের লড়াইয়ে বাড়তি উত্তাপ টের পাওয়া যায় উভয় দেশের ক্রিকেট সমর্থকদের মাঝে। মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগে মাঠের বাইরের কথার যুদ্ধে লিপ্ত হন তারা।

মূলত এই চারটি দেশের ক্রিকেট যুদ্ধ বাড়তি উন্মাদনা ছড়ায়। নতুন করে সেই দলে যোগ হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত লড়াই। গত বছর অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে হেরে যায় বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে আম্পায়ারদের বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে যায়। এরপর থেকেই দুই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে আসছে। 

গত কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ-ভারত লড়াই মানে দুই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে যুদ্ধের আমেজ তৈরি হওয়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে ক্রিকেটারদের মধ্যেও এই উত্তেজনা বিরাজ করে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ না হওয়ার কারণে দুই দলের এই ক্রিকেটযুদ্ধটা আগের সেই ইমেজ হারিয়েছে।

এই সুযোগে পাকিস্তানের জায়গাটা নিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সও দুর্দান্ত। গত জুন-জুলাইয়ে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো একদিনের টুর্নামেন্ট জিতেছিল। এরপর এশিয়া কাপেও ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ বিশ্বকাপের সুপার টেনে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে চেপে ধরে জয়ের দিকেই যাচ্ছিল লাল-সবুজরা। শেষ পর্যন্ত অভিশপ্ত তিন বলে হার মানতে হয় টাইগারদের।

দুই দলের সর্বশেষ ম্যাচ শুরুর হওয়ার আগে টাইগার অধিনায়ক মাশরাফিকে এক ভারতীয় সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আপনার মধ্যে কোনও উত্তেজনা কাজ করছে কিনা? মাশরাফি অবশ্য অস্বীকার করেন। কিন্তু তার চোয়ালবদ্ধ মুখ দেখে বোঝাই যাচ্ছিল কী ভাবছেন তিনি।

ওইদিনই সংবাদ সম্মেলনে আসা আশিষ নেহরার কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘এটাতো ভক্তরা ভালো বলতে পারবে। আমাদের মধ্যে কোনও সংঘাত নেই। স্রেফ একটি ম্যাচ খেলতে আমরা মাঠে নামবো।'

টুর্নামেন্টের ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ম্যাচের দিকে তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে ছিলেন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট টিম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে আশাহত করে বাংলাদেশ। শেন ওয়াটসন তো বলেই ফেলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের জন্য কাজটা কঠিন করে তুলেছে। তারা (বাংলাদেশ) জিতলে আমরা সহজেই সেমিফাইনালে পৌঁছে যেতাম।'

বিশ্বকাপে কোনও ম্যাচ না জিতলেও ক্রিকেটবিশ্বের রথী-মহারথীদের মন জয় করে নিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। সব মিলিয়ে তাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্বে জায়ান্ট একটি দলে পরিণত হয়ে উঠছে। এবং তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠছে ভারত। ভারতীয় সমর্থকরাই এটা মনে করছেন। শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক সাবেক ক্রিকেটারও বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচকে উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।টাইগার সমর্থক শোয়েব আলী ও ভারতীয় সমর্থক সুধীর গৌতম

ভারতের মানুষ যেভাবে ক্রিকেটকে ধর্মজ্ঞান করে, ধর্মশালায় তেমনটা দেখা যায়নি। তারপরও যারা ক্রিকেট পছন্দ করেন, তারা দোকান পাট, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রেখে হলেও মাঠে খেলা দেখতে আসেন। নিয়মিত খোঁজ খবর রাখেন বৈশ্বিক ক্রিকেটের। হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ম্যাচটি ইডেনে স্থানান্তর করা হয়। ফলে কিছুটা হতাশ হয়েছেন ধর্মশালার স্থানীয় মানুষজন।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, 'ম্যাচটি হলে অনেকদিন পর ধর্মশালার মানুষ খুব উপভোগ করতে পারতো। কিন্তু সেই সুযোগটা হারালাম আমরা।' অরুণ গোপাল নামে এই ব্যবসায়ী বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভক্ত। বিশেষ করে সাকিব ও মাশরাফিতে খুব মজে থাকেন। তার মতে, ‘এক সময় ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ যেমন জমজমাট হতো। এখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ম্যাচও জমজমাট হচ্ছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আমরা আত্মবিশ্বাসী থাকি আমরা জিতবো। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আমরা খুব ভয়ে থাকি। মনের মধ্যে শঙ্কা কাজ করে।’

বেঙ্গালুরুতে ভারত ও বাংলাদেশ ম্যাচের সময় বেশিরভাগ ভারতীয় সাংবাদিক ধরে নিয়েছিলেন, ভারত হেরেই যাচ্ছে। ওইদিন অভিশপ্ত তিন বল বাদে বাকি সময় ম্যাচটিতে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ ছিলো।

শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়ার পর হালকা হাসির আভা ফুটে উঠে তাদের চোখেমুখে। স্থানীয় এক সাংবাদিক তো বলেই ফেললেন, ‘এমন উত্তেজনার ম্যাচ এই বিশ্বকাপে আর একটিও হয়নি। এই ম্যাচটি হতে পারে বিশ্বকাপের সবচেয়ে উত্তেজনার ম্যাচ। এখন ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচেও এতো উত্তাপ ছড়ায় না, আজ যা ছড়িয়েছে। বাংলাদেশ-ভারতের ম্যাচ মানেই এখন উত্তেজনায় ঠাসা।’

কলকাতার দর্শকদেরও বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ কোনও অংশে কম নয়। তারা মনে করছেন নিয়মিত বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলে এটা বিশ্বের যে কোনও ম্যাচের চেয়ে আরও বেশি জমজমাট হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারবে।

/এমআর/

ULAB
Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ