‘দুটোর মধ্যে গ্যাপ কমাতে হবে’

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ১৮:৪৫, অক্টোবর ২৮, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪৫, অক্টোবর ২৮, ২০১৬

রুহুল আলম আল মাহবুব

বাংলাদেশ মোবাইলফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) সভাপতি ও স্যামসাং মোবাইলফোনের অন্যতম পরিবেশক ফেয়ার ডিস্ট্রিবিউশন লিমিডেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো.রুহুল আলম আল মাহবুব বলেছেন, আমাদের তৈরি (বেসরকারিভাবে) আইএমইআই  (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) ডাটাবেজ চলতি বছরই উদ্বোধন করতে পারব। এরই মধ্যে সফটওয়্যার পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। এ দেশকে মোবাইল আমদানি নির্ভর থেকে থেকে উৎপাদন নির্ভর দেশে নিয়ে যেতে হলে সরকারের কর বিষয়ক নীতিমালায় পরিবর্তন আনতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মোবাইল আমদানির কর কম রেখে কাঁচামাল আমদানির কর বেশি রাখলে দেশে মোবাইল শিল্প গড়ে উঠবে না। দুটোর মধ্যে ‘গ্যাপ’ কমাতে হবে।

মো.রুহুল আলম আল মাহবুব আরও বলেন, গত কয়েক বছর ধরে দেশে প্রতি বছর কোটির ওপর মোবাইলফোন আমদানি হচ্ছে। সম্প্রতি স্মার্টফোনের আমদানি বেড়েছে। বর্তমানে বছরে মোবাইলফোন আমদানি হচ্ছে ৩ কোটি যার ৮০ শতাংশই স্মার্টফোন।

 আইডিয়া ও কাজ করার সাহসই সবচেয়ে বড় মূলধন। যদি কোনও ব্যক্তির ভালো আইডিয়া থাকে আর কাজ করার মতো সাহস থাকে তাহলেই সে একজন ভালো উদ্যোক্তা হতে পারে।

 বাংলা ট্রিবিউন:  উদ্যোক্তা হলেন কেন?

মো.রুহুল আলম আল মাহবুব: সবসময় উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল। সাধারণত উদ্যোক্তারা যে দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেন, বিশেষ করে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে, সেটাই আমাকে উৎসাহ জুগিয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: উদ্যোক্তা হতে হলে আসলে কি প্রয়োজন?

মো.রুহুল আলম আল মাহবুব: সবাই মনে করে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য পুঁজির দরকার। কিন্তু আমার মনে হয় আইডিয়া ও কাজ করার সাহসই সবচেয়ে বড় মূলধন। যদি কোনও ব্যক্তির ভালো আইডিয়া থাকে আর কাজ করার মতো সাহস থাকে তাহলেই সে একজন ভালো উদ্যোক্তা হতে পারে।

বাংলা ট্রিবিউন: ইলেক্ট্রনিকস পণ্যের প্রতি আগ্রহী হলেন কেন?

মো.রুহুল আলম আল মাহবুব: আমি সবসময় ভাবতাম ইলেক্ট্রনিকস পণ্য গতিশীল। ধরা যাক, মোবাইল, টেলিভিশন, এই পণ্যগুলো মানুষের জীবনে নতুনত্ব নিয়ে আসতে পারে। আমার স্বপ্ন ছিল এমন একটি পণ্য নিয়ে কাজ করব যার মাধ্যমে মানুষের জীবনে একটি পরিবর্তন নিয়ে আসা যাবে।

বাংলা ট্রিবিউন: দেশে স্যামসাং মোবাইলফোনের বাজার কেমন?

মো.রুহুল আলম আল মাহবুব: আমরা যখন ২০১৪ সালে কাজ শুরু করি তখন আমাদের মার্কেট শেয়ার অনেক কম ছিল, ৫-১০ শতাংশর মতো হবে। আজ আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি সেখান থেকে আমরা দেখছি আমাদের মার্কেট শেয়ার মূল্যের ভিত্তি ৫৫ শতাংশ। আমাদের লক্ষ্য চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৬০ শতাংশে পৌঁছানো তবে আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্যামসাং মোবাইলের মার্কেট শেয়ার বাংলাদেশে ৭০ ভাগ করা।

মোবাইলফোনের আমদানির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক ও অন্যান্য মিলিয়ে আমাদের দিতে হয় ২৫ শতাংশ, আর যন্ত্রাংশ আমদানি করার ক্ষেত্রে এই শুল্ক হয় ৪০ শতাংশ। তাহলে কীভাবে বাংলাদেশে মোবাইলফোন তৈরির কারখানা হবে? 

বাংলা ট্রিবিউন: আমরা আর কতদিন আমদানি নির্ভর থাকব? কবে নাগাদ মোবাইল উৎপাদনে যাবে বাংলাদেশ?

মো.রুহুল আলম আল মাহবুব: আমরা যখন উৎপাদনের কথা বলি তখন আমরা খেয়াল করি না যে আমাদের আইনকানুনে যে ধরনের অসঙ্গতিগুলো আছে সেগুলো কীভাবে দূর করা যায়। দেখুন, মোবাইলফোনের আমদানির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক ও অন্যান্য মিলিয়ে আমাদের দিতে হয় ২৫ শতাংশ, আর যন্ত্রাংশ আমদানি করার ক্ষেত্রে এই শুল্ক হয় ৪০ শতাংশ। তাহলে কীভাবে বাংলাদেশে মোবাইলফোন তৈরির কারখানা হবে? আমরা এটি নিয়ে রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি, মোবাইল ডিভাইস ও যন্ত্রাংশের মধ্যে শুল্কের গ্যাপ যদি ২০ শতাংশের মধ্যে আনা যায় তাহলে দেখা যাবে ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশে মোবাইলফোন তৈরির কারখানা হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে বিদ্যুৎসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত বিষয়াদিও।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনারা বেসরকারিভাবে দেশে প্রথম আইএমইআই ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। হঠাৎ করেই গতি কমে গেছে আপনাদের কাজে।

মো. রুহুল আলম আল মাহবুব

মো.রুহুল আলম আল মাহবুব: আমরা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছি। এ বিষয়ে মিটিংও করেছি। আমাদের সফটওয়্যার পর্যায়ের কাজ শেষ। এখন কাজ করছি ডাটাবেজ সার্ভার নিয়ে। সফটওয়্যারে আমরা যেসব আইএমইআই  ধারণ করব সেসব সংরক্ষণ করার জন্য অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি সার্ভার সিস্টেম থাকা দরকার। আমরা কাজ করছি, আশা করছি এই বছরের মধ্যে আইএমইআই  ডাটাবেজ আমরা নিয়ে আসতে পারব।

বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু এই কাজটা তো করার দায়িত্ব সরকারের?

মো.রুহুল আলম আল মাহবুব: আমরা সব দায়িত্ব সরকারের ওপর দিতে চাই না। আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কাজটি করতে চাচ্ছি। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের সহযোগিতা করছে। এটি হলে আমাদের যেসব ভুয়া ইএমইআই  আছে সেগুলোকে আমরা একটি লেভেলে ব্লক করতে সক্ষম হবো। সবাই মিলে যদি এই ডাটাবেজটি তৈরি করতে পারি তাহলে এটা ভবিষ্যতে হবে ইআইএম (ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন মডিউল)। ধাপে ধাপে যদি আমরা এসবে যেতে পারি তাহলে বাংলাদেশে আর মোবাইলফোন ব্যবহার করে কোনও অপকর্ম করে পার পাওয়া যাবে না। আইএমইআই রেজিট্রেশনের মাধ্যমে মোবাইলফোনের কেন্দ্রিক অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব।  

আমাদের অভিজ্ঞতা আছে, এই হ্যান্ডসেটগুলো যেগুলো চুরি, ডাকাতি হচ্ছে সেগুলো সীমান্ত পেরিয়ে দিয়ে পার্শবর্তী দেশে চলে যাচ্ছে। আইএমই রেজিস্ট্রেশন যদি আমরা সম্পন্ন করতে পারি তাহলে সেট দেশে থাকলে চোর ওই হ্যান্ডসেট ব্যবহার করতে পারবে না। লক করে দেওয়া যাবে, অথবা অন্তত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানতে পারবে যে এই হ্যান্ডসেটটি কে ব্যবহার করছে।

আমাদের সফটওয়্যার পর্যায়ের কাজ শেষ। এখন কাজ করছি ডাটাবেজ সার্ভার নিয়ে। সফটওয়্যারে আমরা যেসব আইএমইআই  ধারণ করব সেসব সংরক্ষণ করার জন্য অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি সার্ভার সিস্টেম থাকা দরকার। আমরা কাজ করছি, আশা করছি এই বছরের মধ্যে আইএমইআই  ডাটাবেজ আমরা নিয়ে আসতে পারব।

বাংলা ট্রিবিউন: দেশে প্রতি বছর কি পরিমাণ মোবাইলফোন আমদানি হয়?

মো.রুহুল আলম আল মাহবুব: বর্তমানে বছরে আমরা তিন কোটি মোবাইল সেট আমদানি করি, যার ৮০ শতাংশই স্মার্টফোন। আশা করছি, আগামী বছর নাগাদ শুধু স্মার্টফোনই আমদানি হবে ৮৫-৯০ শতাংশ।

বাংলা ট্রিবিউন: বিএমপিআইএর আগামী দিনের পরিকল্পনা কি?

মো.রুহুল আলম আল মাহবুব: আমি আগেই বলেছি আইএমই সার্ভারটি হচ্ছে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ। এরপর আমরা আলোচনা করেছি বিটিআরসির সঙ্গে ও টেলিকম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইআইএম ইমপ্লিমেন্টেশন নিয়ে। এটা করতে পারলে আমাদের নিরাপত্তার দিকটি নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি ই-বর্জ্য, যা নিয়ে আমরা এখনও কাজ শুরু করতে পারিনি, আমাদের দেশে যে অসংখ্য মোবাইল ও ইলেক্ট্রনিকস জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে তা ড্রেনে বা অন্য কোথাও চলে যাচ্ছে। রিসাইক্লিং -এর ব্যবস্থা এখনও হয়ে ওঠেনি। তবে আমরা বিদেশি কিছু কোম্পানির সঙ্গে কথা বলছি। আশাকরি এই বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরু নাগাদ আমরা একটি নীতিমালা সুপারিশ করতে পারব।

/এইচএএইচ/ 

 

লাইভ

টপ