behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

দেশীয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ডে নেই কেন সরকারি অ্যাপস?

হিটলার এ. হালিম১০:১৩, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭

মোবাইল ফোন (ছবি: সংগৃহীত)বিজ্ঞাপনে ও বিপণন কেন্দ্রগুলোতে দিন দিনই বাড়ছে দেশীয় ব্র্যান্ডের মোবাইলফোনের সংখ্যা। কিন্তু বাজার ঘুরে এমন একটি ফোন সেটও মিলবে না যেটিতে পাওয়া যাবে বিল্ট ইন কোনও সরকারি অ্যাপস। অথচ সরকারের তৈরি ৫০০ অ্যাপ রয়েছে বিভিন্ন অ্যাপ স্টোরে। তাহলে সরকারিভাবে বানানো মোবাইল অ্যাপগুলো কিভাবে কাজে লাগবে ব্যবহারকারীদের? এসবের তথ্য তারা জানবে কীভাবে?

এমন আরও অনেক প্রশ্নই হতে পারে, তবে মোবাইলফোন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ব্যাপারে সরকারের তাগিদ না থাকা ও নীতিমালার অভাবের কারণেই মোবাইলফোনে সরকারি অ্যাপস ব্যবহার করা হচ্ছে না। সরকার যদি কোনও নীতিমালা করে দিত তাহলে, মোবাইলফোনগুলোতে দেশে তৈরি অ্যাপস তথা সরকারি অ্যাপগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হতো।

দেশে যেসব স্মার্টফোন পাওয়া যায় তাতে বিল্টইন (আগে থেকে ইনস্টল করা) থাকে অনেক অ্যাপ। এছাড়া মোবাইলফোন ব্যবহারকারীর প্রয়োজন হলে বা তিনি ইচ্ছে করলে অনলাইনে থাকা বিভিন্ন অ্যাপস্টোর থেকে মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করে ব্যবহার করেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের তৈরি অসংখ্য কেজো অ্যাপস রয়েছে যেগুলো অনেক উপকারী। কিন্তু প্রচার না থাকা এবং জানা না থাকায় স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা তা ব্যবহার করতে পারেন না। যদি দেশীয় মোবাইলফোন ব্র্যান্ডগুলোতে আগে থেকে প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপস ইন্সটল করা থাকে তাহলে তা সবার উপকারে আসবে।

এছাড়া যেসব আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন বাংলাদেশে বিক্রি হচ্ছে সেসবেও সরকারি অ্যাপস থাকতে পারে যদি সরকার কোনও নীতিমালা তৈরি করে দেয়। নীতিমালায় যদি বলা থাকে, এ দেশে স্মার্টফোন বিক্রি করতে গেলে সরকারের অন্তত ৫টা বা ১০ অ্যাপ বিল্টইন করে বিক্রি করতে হবে। এতে করে অ্যাপের বহু ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সরকারি অ্যাপস (ছবি: সংগৃহীত)

প্রসঙ্গত, সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক কিছুদিন আগে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে ৫০০টি অ্যাপস তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে ১০০ অ্যাপ ভালো করছে আর অবশিষ্ট ৪০০ অ্যাপস পর্যবেক্ষণে রয়েছে। পলক আরও জানিয়েছিলেন, অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ এ অ্যাপগুলো আইসিটি বিভাগের ন্যাশনাল ফাইভ হান্ড্রেড অ্যাপস ডট কম ও গুগল প্লে স্টোরে রয়েছে। এসব জায়গা থেকে ডাউনলোড করে অ্যাপস ব্যবহার করা যেতে পারে।

আইসিটি বিভাগের তৈরি অ্যাপগুলোর মধ্যে রয়েছে বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার তথ্য ও সেবা পাওয়াসংক্রান্ত ৩০ এবং ২০০টি সৃজনশীল ধারণার অ্যাপস। আছে এনবিআর-এর ই-টিআইএন, ভ্যাট ও ভ্যাটবিহীন পণ্য যাচাই, বাংলাদেশ বিমান ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সময়সূচি, বিনিয়োগ বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন স্ট্যাটাস পরীক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র, স্মার্টকার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র), সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধ, ট্যাক্স ক্যালকুলেটর, প্রাইজবন্ড মেলানোর ৫০০ অ্যাপস।

মোবাইলফোন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একাধিক পক্ষ থেকে আইসিটি বিভাগের তৈরি এসব অ্যাপস থেকে যেগুলো বেশি প্রয়োজনীয়, মানুষের দৈনন্দিন কাজে লাগে এমন সব অ্যাপস দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের মোবাইলে বিল্টইন থাকলে তা স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদেরই উপকারে আসবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিম্ফনি মোবাইলফোনের জ্যেষ্ঠ পরিচালক রেজওয়ানুল হক বলেন, এটা করা সম্ভব তবে এর জন্য নীতিমালা থাকতে হবে। একটা সুষ্ঠু নীতিমালা থাকলে দেশীয় ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনে সরকারি অ্যাপস ব্যবহার করা সম্ভব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নীতিমালা থাকলেই মোবাইফোন আমদানিকারকদের পক্ষে কেবল বোঝা সম্ভব হবে কোন কোন অ্যাপস স্মার্টফোন তৈরির সময় ইন্সটল করে দিতে হবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ মোবাইলফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ)-এর সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব (মানিক) বলেন, সরকার নীতিমালা তৈরি করে দিলে শুধু দেশীয় মোবাইলই নয় আন্তজার্তিক মোবাইল ব্র্যান্ডগুলোও এদেশে স্মার্টফোন পাঠানোর আগে বাংলাদেশের সরকারি অ্যাপস বিল্টইন করেই পাঠাবে। এতে করে অ্যাপসগুলোর ইমেজ, ব্যবহারযোগ্যতা বাড়বে। ক্ষেত্র বিশেষে বৈশ্বিক বাজারও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। বাংলাদেশে স্যামসাং মোবাইলের অন্যতম পরিবশেক ফেয়ার ডিস্ট্রিবিউশনের এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলা ট্রিবিউনকে আরও বলেন, এ ধরনের নীতিমালা থাকলে একদিন দেখা যাবে স্যামসাংয়ের স্মার্টফোনেও সরকারি অ্যাপস বিল্টইন রয়েছে।

বিএমপিআইএ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ৮০ লাখ স্মার্টফোন আমদানি করা হয়। ২০১৫ সালে যার পরিমাণ ছিল ৬০ লাখ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বিপুল সংখ্যক স্মার্টফোনে সরকারি অ্যাপস বিল্টইন থাকার ব্যবস্থা করা গেলে দেশের অ্যাপস ডেভেলপাররা আরও উৎসাহী হবে। সরকারের মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট ও গেমিং শিল্প প্রকল্প একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।

/এইচএএইচ/টিএন/আপ-এফএস/

আরও পড়ুন-



নির্বাচন কমিশনের প্রথম সফর বাঘাইছড়িতে

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ