অভিযোগ ৩১৩টি, ফেসবুক জবাব দিয়েছে ১৬৭টি

Send
ওমর ফারুক২১:৫৫, মার্চ ১৬, ২০১৭

ফেসবুক লোগোদীর্ঘদিন নীরব থাকলেও অবশেষে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন বিষয়ের জবাব দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুক। এমনকি কিছু কিছু বিষয়ের সমাধানও পাওয়া যাচ্ছে ফেসবুক থেকে।
জানা গেছে, গত তিন বছরে সরকারের পক্ষ থেকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হয়েছিল ৩১৩টি। সাড়া মিলেছে ১৬৭টির। ফেসবুকের এই জবাব দেওয়ার হার ২৬ শতাংশ থেকে বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯ শতাংশে। ভবিষ্যতে এ হার আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে দু’তিন বছর আগে আমাদের যোগাযোগ তেমন একটা ছিল না। কিন্তু বিভিন্ন চেষ্টার কারণে এখন সাড়া পাচ্ছি। এ বিষয়ে যে পরিসংখ্যান দিতে পারি সেটা হল- ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের (ফেসবুক) কাছে আমরা অনুরোধ পাঠিয়েছিলাম ৬৪টি। তখন তারা সাড়া দিয়েছিল মাত্র ১৭টি অভিযোগের।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৫-১৬তে তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ বৃদ্ধি করলে সুফল পেতে শুরু করি। যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা বিটিআরসির মাধ্যমে অনুরোধ পাঠিয়েছিলাম ২০৩টি, এগুলোর মধ্যে ব্যবস্থা গৃহীত হয় ১১৪টি। যা ৫৬.১৬ শতাংশ। তারপর আমরা ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত আমরা অনুরোধ পাঠিয়েছি ৪৬টি এবং সাড়া মিলেছে ৩৬টি। শতাংশের হিসেবে এটা ৭৯ শতাংশ।’

বৃহস্পতিবার বিকালে নিজ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এতে স্পষ্টই বোঝা যায় ২০১৪ সাল থেকে আমরা যতটা অভিযোগ বা অনুরোধ পাঠাচ্ছি, সে বিষয়ে ক্রমাগত ফেসবুকের সাড়া দেওয়ার হার বাড়ছে এবং ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি।’

ফেসবুকের কাছে অভিযোগ ও জবাবের পরিসংখ্যানকোন ধরনের অভিযোগ বেশি, এমন প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা, অবমাননার দিকগুলো বেশি। তারপর রয়েছে ধর্মীয় উসকানি ও জঙ্গিবাদ। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে বেশির ভাগ অভিযোগ আসে অনলাইনে জঙ্গিবাদের বিস্তারের বিষয়ে।’

ফেসবুক সাড়া না দিলে বাংলাদেশে তা বন্ধ করে দেবেন কি, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘না আমরা ফেসবুক বন্ধ করবো না। কারণ সব বিষয়েই কিন্তু দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সুযোগ আছে। আলোচনার মাধ্যমে যে সমস্যার সমাধান হয় সেটা ইতিপূর্বে যে পরিসংখ্যান দিলাম তার মাধ্যমেই পরিষ্কার বুঝতে পারবেন। একসময় যেটি ছিল ২৬ শতাংশ, সেটির ৫৬ শতাংশে ওঠা এবং ৫৬ থেকে ৭৯ শতাংশে উন্নীত হওয়ার ঘটনা এই আলোচনারই ফসল।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ৩০ মার্চ সিঙ্গাপুরে ফেসবুকের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের সিকিউরিটি অ্যান্ড পাবলিক পলিসি বিভাগের প্রধানের সঙ্গে তাদের (প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন দল) বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে ফেসবুকের কাছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে এমন এবং তদন্ত চলছে এমন মামলার ক্ষেত্রে সমাধান বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিজস্ব কিছু পলিসি আছে। আমরা অনুরোধ করবো সেই পলিসিগুলোতে তারা আলাদাভাবে কিছু ক্লজ (শর্ত) অন্তর্ভুক্ত করবেন। এই ক্লজ হবে দেশভিত্তিক। অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্য আলাদা ক্লজ, ভারতের জন্য একটি, ইউকের জন্য একটি, ইউএসএ’র জন্য একটি- এভাবে প্রত্যেকটি দেশের জন্য আলাদা ক্লজ অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করব। তাদের কাছে আমরা দেশভিত্তিক ডেস্কও চাইবো। এজন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমরা যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী।’

প্রসঙ্গত, ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে কী কী প্রস্তাব তুলে ধরা হবে সেগুলোর বিষয়ে বৃহস্পতিবার নিজ মন্ত্রণালয়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেন তারানা হালিম। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/ওএফ/এমও/

লাইভ

টপ