নিজস্ব ‘ন্যাশনাল পেমেন্ট স্কিম’ দিয়েই হবে লেনদেন

হিটলার এ. হালিম২১:৩০, এপ্রিল ২০, ২০১৭

মাস্টার কার্ড-ভিসাভিসা ও মাস্টার কার্ডের মতো বাংলাদেশের নিজস্ব ন্যাশনাল পেমেন্ট স্কিম চালু হতে যাচ্ছে। এই স্কিম চালু হলে অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে ভিসা, মাস্টারকার্ড বা এ ধরনের ‘ট্রাডিশনাল পেমেন্ট প্রসেসিং’ এবং কার্ড কোম্পানিগুলোর শরণাপন্ন হতে হবে না দেশের ব্যাংকগুলোকে। অনলাইন লেনদেনে জাতীয় এই পেমেন্ট স্কিম ব্যবহারের কাজে খরচ হওয়া দেশের টাকা দেশেই থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে  এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এরই মধ্যে ন্যাশনাল পেমেন্ট স্কিমবিষয়ক একটি নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এই নীতিমালার আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি ‘বেজ প্ল্যাটফর্ম’ তৈরি করা হবে। তাহলে স্বতন্ত্র এই কার্ড যেকোনও পস (পিওএস) ও এটিএম মেশিনে ব্যবহার করে টাকা উত্তোলনসহ সব ধরনের লেনদেন করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের নিজস্ব কোনও ন্যাশনাল পেমেন্ট স্কিম নেই। অনলাইন লেনদেনের জন্য ভিসা বা মাস্টার কার্ড প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করতে হয়। এক্ষেত্রে  সেবা পাওয়ার  জন্য ভিসা, মাস্টার কার্ডকে টাকা দিতে হয়। পেমেন্ট স্কিম থাকলে তখন আর এসব কার্ড কোম্পানির কাছে যেতে হবে না। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের রুপে, সৌদি আরবের সামা, ব্রাজিলের এলো (ইএলও) নামে ন্যাশনাল পেমেন্ট স্কিম রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এবার বাংলাদেশও পেতে যাচ্ছে এই স্কিম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক এসএম রেজাউল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য স্পেসিফিকেশন প্রয়োজন হয়। সে জন্য চিপভিত্তিক স্পেসিফিকেশন করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘‘এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য অনেকগুলো কাজ করতে হবে। ব্যাংকগুলোকে ‘অ্যাকোমোডেট’ করতে হবে। বিশাল এক কর্মযজ্ঞ এটা। কাজটি করা সম্ভব হলে আমরা আমাদের চ্যানেল ব্যবহার করেই লেনদেন সম্পন্ন করতে পারব।’       

এসএম রেজাউল করিম আরও জানান, ‘এই মাধ্যম (ন্যাশনাল পেমেন্ট স্কিম) ব্যবহার করে দেশের বাইরে কোনও লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে না। সেক্ষেত্রে ভিসা বা মাস্টার কার্ডের সাহায্য নিয়েই করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এই কাজটা তো আমরা নিজেরা (বাংলাদেশ ব্যাংক) করতে পারব না। তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক কোনও প্রতিষ্ঠানকে দিয়েই করাতে হবে। দেশীয় বা বিদেশি কোনও প্রতিষ্ঠান, যাদের এই ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের তাদেরই আহ্বান জানানো হবে ন্যাশনাল পেমেন্ট স্কিম তৈরির জন্য। আমাদের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেবেন।’  

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে কথা বললে তারা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেছেন, যেকোনও দেশের ন্যাশনাল পেমেন্ট স্কিম সেই দেশের ভারমূর্তিকে উজ্জল করে। এটি তৈরি করা সম্ভব হলে বিদেশি কোম্পানি-নির্ভর এই সেবার ব্যবহার কমবে। দেশীয় প্রযুক্তি বা মাধ্যম ব্যবহার করে তখন আরও নিশ্চিন্তে লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে।    

প্রসঙ্গত, ভিসা বা মাস্টার কার্ড হলো এক ধরনের অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা সম্পন্ন এটিএম কার্ড, যা প্রায় সব ধরনের এটিএম মেশিনে সাপোর্ট করে। ফলে যেকোনও ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার সুবিধা দেয়। এমনকি বিদেশেও এমন সুবিধা দিয়ে থাকে। ন্যাশনাল পেমেন্ট স্কিমও এসব সুবিধা দেবে তবে তা দেশের ভেতরেই, বাইরে নয়।

জানা গেছে, এই উদ্যোগ চালু হলে এর জন্য নতুন করে ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। সেই কার্ডে ভিসা বা মাস্টার কার্ডের মতো মতো কোনও লোগো থাকতে পারে। সেই লোগো চিহ্নিত এটিএম মেশিন তথা বুথ থেকে কার্ড দিয়ে টাকা তোলা বা পণ্য ক্রয়ের সময় পিওএস মেশিনে সোয়াপ করা যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগের নাম ‘বাংলা পে’ হলে ভালো হয়। দেশের নাম, বাংলা ভাষা সবকিছুই এর মধ্যে পাওয়া যায়। ফলে এটি সবার পক্ষে মনে রাখাও কঠিন হবে না। 

বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বসিয়েছে। এই সুইচ এক ব্যাংকের তথ্য (কোনও এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অন্য কোনও ব্যাংকে) অন্য ব্যাংকে পাঠায়। এ পদ্ধতিতে যেতে হয় ভিসা বা মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে। ন্যাশনাল পেমেন্ট স্কিম চালু হলে আর এসব মাধ্যম ব্যবহার করে যেতে হবে না।

জানা গেছে, ভিসা বা মাস্টার কার্ড মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করলে বছরে একটা মোটা অংকের টাকা সেবাচার্জ হিসেবে দিতে হয়। ন্যাশনাল পেমেন্ট স্কিম চালু হলে এই চার্জ ওসব কোম্পানিকে আর দিতে হবে না।

/এমএনএইচ/  

 

লাইভ

টপ