সবার আগে থ্রিজি চালু করেও ফোরজিতে পিছিয়ে টেলিটক

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ১৪:৪১, মার্চ ০৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩১, মার্চ ০৯, ২০১৮

টেলিটকগ্রামীণফোন, রবি, এয়ারটেল ও বাংলালিংক থ্রিজি সেবা চালুর প্রায় এক বছর আগে রাষ্ট্রীয় মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক ‘থ্রিজি’ সেবা চালু করলেও ফোরজি চালুর ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে অপারেটরটি। ‘শিগগিরই,’ ‘যেকোনও সময়,’ ‘অচিরেই,’ ‘আমরাও আসছি, দেশব্যাপী একযোগে’ টাইপ কথা বললেও অপারেটরটি কবে নাগাদ ফোরজি সেবা চালু করতে পারবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফোরজি চালু করতে সময় লাগতে পারে অপারেটরটির।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৪ অক্টোবর টেলিটক থ্রিজি সেবা চালু করে। অন্য অপারেটরগুলো চালু করে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। নিজেকে গুছিয়ে নিতে প্রায় এক বছর সময় পায় টেলিটক।
জানতে চাইলে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী গোলাম কুদ্দুস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কাজ করছি। আমরা শিগগিরই ফোরজি নিয়ে চলে আসব। তবে কবে তা এখনও কনফার্ম নয়।’ দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি বলে তিনি জানান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঢাকার পাশাপাশি বিভাগীয় শহরগুলোতে চালুর মাধ্যমে আমরা ফোরজি যুগে প্রবেশ করব।’
এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্লাবে ফোরজির লাইসেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেছিলেন, ‘আমরা শিগগিরই চলে আসবো। কেন একইসঙ্গে (অন্য অপারেটরগুলোর সঙ্গে) ফোরজি চালু করা সম্ভব হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠান তো, অনেক ধরনের নিয়ম-কানুনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এ কারণে সময় লাগেছে। তবে বেশি দিন লাগবে না।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ফোরজি চালুর জন্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ গুছিয়ে উঠতে পারেনি অপারেটরটি। এ খাতে আর্থিক বিষয়টি জড়িত ছিল, যা বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে বলে জানা গেছে। তবে টেলিটক কর্তৃপক্ষ শুনিয়েছেন আশার কথা। আর্থিক সমস্যা কাটতে শুরু করেছে টেলিটকের।
ফোরজি চালুর জন্য নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য দুটি প্রকল্প একনেকে দুবার অনুমোদন করা হয়। অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় ৬৭৫ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরে অর্থ ছাড় না করায় সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বিষয়টি নিয়ে সেসময় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। গত ডিসেম্বরে সচিবালয়ে ফোরজি চালুর বিষয়টি অবগতকরণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘অর্থমন্ত্রী এ প্রকল্পে এখনও অর্থ ছাড় করেননি। দ্রুত অর্থ ছাড় করার কোনও আশাও আমি দেখছি না।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে কিছু পরিমাণ অর্থ টেলিটকের অনুকূলে ছাড় করা হয়েছে। মূলত অর্থ প্রাপ্তির পর থেকেই টেলিটকের কাজে গতি এসেছে। ওই সূত্র আরও জানায়, ফোরজির প্রকল্প (বিভিন্ন সাইট তথা কোথায় কোথায় ফোরজি চালু করা হবে, বিজনেস কেস, জনবসতি ইত্যাদির প্রথম স্লট) এখনও অনুমোদন পায়নি বোর্ডের। যাচাই বাছাই চলছে। অনুমোদন পেলে দ্রুতই বাজারে আসার আশা টেলিটক কর্তৃপক্ষের।
টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারির ৩১ তারিখ পর্যন্ত টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার। কিছুদিন আগে টেলিটক শুধু নারীদের জন্য অপরাজিতা নামে ২০ লাখ সিম বাজারে ছাড়ে। সেই সিমের ৮০ শতাংশ (৬০ শতাংশ হিসেবেও বাজারে প্রচলিত রয়েছে) বিক্রি শেষ হতে না হতেই প্যাকেজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, একসঙ্গে টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অপারেটরটির নেটওয়ার্কে বিশাল চাপে পড়ে। গ্রাহক সেবার মানও খারাপ হতে থাকে। মূলত নেটওয়ার্কে চাপ কমাতেই সিম বিক্রি বন্ধ করা হয়। বলা হয়ে থাকে, টেলিটক গ্রাহক বাড়াতেই এই কৌশলে মাঠে নামে। ফোরজি চালুর আগে এভাবেই বিশাল সংখ্যক গ্রাহক তৈরি করে অপারেটরটি।
যদিও বিষয়টিকে এভাবে দেখতে নারাজ টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বলেন, ‘নারীরা আমাদের বিনামূল্যের ২০ লাখ সিমের প্রায় ৬০ ভাগ সংগ্রহ করেছেন। এটা আমাদের জন্য একটি বড় সাফল্য। আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারীর ক্ষমতায়ন করতে চেয়েছি। বিনামূল্যে সিম বাজারে ছেড়ে গ্রাহক বাড়ানো আমাদের কোনও উদ্দেশ্য ছিল না।’
টেলিটক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে অপারেটরটির গ্রাহকরা যত সিম ব্যবহার করছেন তার ৯০ ভাগ এবং বাজারে অবিক্রীত প্রায় সব সিমই ফোরজি। এত বড় আয়োজন নিয়ে প্রস্তুতি সারার পরও নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, অবকাঠামো তৈরি এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে না পারার ব্যর্থতায় টেলিটক পিছিয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তাদের ধারণা, পিছিয়ে পড়ে স্বল্প গ্রাহক নিয়ে অন্য অপারেটরগুলোর সঙ্গে টেলিটক ফোরজি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ব্যর্থ হবে।
আরও পড়ুন-
রুবিক্স কিউব মেলানোয় নতুন রেকর্ড!
এপ্রিলেই মহাকাশে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

/টিএন/চেক-এমওএফ/

লাইভ

টপ