কী আছে রবির ৪.৫ জি’তে

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ২৩:৫৫, মার্চ ১৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:২১, মার্চ ১৫, ২০১৮

রবিদেশে চালু হয়েছে চতুর্থ প্রজন্মের নেটওয়ার্ক তথা ফোরজি। গ্রামীণফোন, রবি, এয়ারটেল ও বাংলালিংক ফোরজি সেবা চালু করেছে। তবে রবি বলছে—তাদেরটি ৪.৫জি।

কেন ৪.৫জি ? অতিরিক্ত কী আছে রবির সেবায়? এমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এছাড়া রবির একীভূত অপারেটর এয়ারটেলও ফোরজি সেবা পরিবর্তে ‘ফোরজি প্লাস’ সেবা দিতে শুরু করেছে। এ নিয়েও প্রশ্ন, একই নেটওয়ার্কে দুটি প্রযুক্তিতে সেবা দেওয়া যায় কীভাবে? 

এসব প্রশ্নের জবাবে রবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের ফোরজি নেটওয়ার্ক অ্যাডভান্স বা অগ্রসর প্রযুক্তির। এটা ফোরজি অ্যাডভান্স বা এলটিই (লং টার্ম ইভোলিউশন), যা ৪.৫জি নামেও প্রচলিত। এদিকে অন্য মোবাইলফোন অপারেটররা বলছে, এটা রবির একটি বিপণন কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়। এর আগে থ্রিজি চালুর সময় অপারেটরটি ঘোষণা দিয়েছিল তাদেরটি ৩.৫জি। এটাও ছিল তাদের বিপণন কৌশল।

তবে রবির এমন প্রচারণায়ও সহনশীল ভূমিকায় আছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

যোগাযোগ করলে রবির জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়—তাদের ৪.৫জি কোনও মার্কেটিং ‘গিমিক’ নয়। তারা সুপিরিয়র ফোরজি প্রযুক্তি অফার করছেন, যা ফোরজি অ্যাডভান্স নামে পরিচিত। ফলে ৪.৫জি বলায় তাদের কোনও ভুল নেই। এটা বিপণন কৌশলও নয়। ৪.৫জিতে ভয়েস এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে ফোরজির চেয়ে বেশি ভালো সেবা পাওয়া যাবে। ওটিটি (ওভার দ্য টপ) তথা বিভিন্ন কমিউনিকেশন অ্যাপের মাধ্যমে কথা বলায় শব্দের মান ভালো হবে। ভিডিও কলের ছবি হবে ঝকঝকে। এছাড়া প্রযুক্তিগত অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে। 

কর্তৃপক্ষ আরও  জানিয়েছে,রবি এরই মধ্যে ‘টেক নিউট্রালিটি’ অর্জন করেছে। এছাড়া রবি ও এয়ারেটেলের মার্জারের সময় ৩.৫জি নেটওয়ার্কের উন্নয়নে বিপুল অংকের অর্থ বিনিয়োগ করেছে অপারেটরটি। অপারেটরটির ৯০ ভাগেরও বেশি সাইট (বিটিএস টাওয়ার) ৩.৫জিতে রূপান্তর করা হয়েছে এরই মধ্যে। ফলে ফোরজিতে রবির থাকবে সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্ক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘এটা হলো প্রযুক্তির উৎকর্ষ। অপারেটরটি অগ্রসর প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ফলে তাদের ৪.৫জি লিখতে বা বলতে কোনও সমস্যা দেখি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যতই অপারেটরটি ৪.৫জি বলুক না কেন, এটা আসলে ফোরজি-ই।’ তিনি সফটওয়্যার আপগ্রেডেশনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘একটা সফটওয়্যার তৈরির পরে হয়তো বাজারে ছাড়া হলো ৪.১ ভার্সন লিখে। কিছুদিন পরে হয়তো সফটওয়্যারটিতে বাগ ফিক্স করা হলো। তখন তা হবে ৪.২ ভার্সন। এভাবে একের পর এক উন্নয়ন করা হলেও কিন্তু তা ওই ফোর-ই। রবি যে ৪.৫জি লিখছে সেটা আসলে এ ধরনের কৌশল থেকেই।’ তিনি বলেন, ‘অপারেটরটি ৪.৫জি বললেও ৫জি বলতে পারছে না।’ মন্ত্রী প্রযুক্তির খুঁটিনাটি জেনে এবং আইনগত বিষয়গুলো বোঝার কারণে রবির ৪.৫জি বলায় কোনও সমস্যা দেখছেন না বলে জানান। 

জানতে চাইলে বিটিআরসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ৪.৫জি লেখায় বা বলায় রবির কোনও ভুল নেই। তারা (রবি) সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এই উন্নত প্রযুক্তি এরইমধ্যে সারাবিশ্বে ৪.৫জি নামে পরিচিত।

এ বিষয়ে মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটব কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। বিষয়টি (৪.৫জি) গতি এবং পুরোপুরি প্রতিযোগিতার বিষয় উল্লেখ করলেও কেউই নিজেকে উদ্ধৃত করে কথা বলতে রাজি হননি।

গ্রামীণফোনের এক কর্মকর্তা নিজের নাম ও পদবি প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'আমরা রবির ফোরজি সেবা চালুর আগে একটু টেনশনে ছিলাম। কেমন কী হয় তা নিয়েই চিন্তা ছিল। কারণ আমরা ফোরজি চালু করেছি। আর ওরা চালু করেছে ৪.৫জি চালু করে। এটা ওদের মার্কেটিং কৌশল হতে পারে। আর ৪.৫ জিতে অতিরিক্ত কী আছে।' তার ভাষ্য, রবি যদি সারাদেশে একযোগে শুধু ফোরজি চালু করতো— তাহলে আমরাসহ অন্যরা ধরা খেয়ে যেতাম, কিন্তু তারা সেটা না করে ৪.৫জি চালুর ঘোষণা দেয়।

ফোরজি লাইসেন্সধারী অপারেটর বাংলালিংকের এক কর্মকর্তা নিজেকে উদ্ধৃত না করে বলেন, 'এটা রবির বিপণন কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। ওরা তো আগে ৩.৫জি দিয়েছে। বেশি কী দিয়েছে গ্রাহকদের। আমরাও অপারেটর, কিন্তু কোনও পার্থক্য তো দেখি না। আমরা ট্রান্সপারেন্ট থাকতে চাই।'

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, রবি বলছে তাদেরটা ৪.৫জি আর এয়ারটেল বলছে তাদেরটা ফোরজি প্লাস। কিন্তু তারা তো একই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। তিনি প্রশ্ন করেন, একই নেটওয়ার্কে তারা (রবি ও এয়ারটেল) দুই টেকনোলজি কীভাবে দেয়?

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ