সব নাটকীয়তার পর শনিবারেই হচ্ছে বেসিস নির্বাচন!

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ১৫:২৫, মার্চ ২৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:১৩, মার্চ ২৯, ২০১৮

বেসিসদেশের সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি সেবাপণ্য নির্মাতাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) ২০১৮-২০ মেয়াদের নির্বাচন নিয়ে নাটকীয়তা শেষ হয়েও যেন শেষ হচ্ছে না। নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে সংগঠনের ১১ সদস্যের আবেদনে স্থগিত হয় নির্বাচন। বর্তমান কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয় ছয় মাস। একেবারে শেষ দিকে এসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিটিও এই নির্বাচন স্থগিত করায় আশঙ্কা ছিল, এই নির্বাচন আর হচ্ছে না। তবে দুই মন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে আগের তফসিল অনুযায়ীই এই নির্বাচন হতে যাচ্ছে আগামী শনিবার (৩১ মার্চ)।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সংগঠনের হাতেগোনা কয়েকজন সদস্যের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল বেসিস নির্বাচন। বেসিসের বর্তমান কমিটির একজন পরিচালকের বিরুদ্ধে এই নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে। তবে ‘ভেস্তে যাওয়া’ সেই নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন বর্তমান বেসিস সভাপতি। তাতে বুধবার (২৮ মার্চ) জানা গেছে, ৩১ মার্চই অনুষ্ঠিত হবে বেসিস নির্বাচন।
জানা গেছে, বেসিসের নতুন কমিটি গঠনের জন্য আয়োজিত নির্বাচনে ৯টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছিলেন ৪০ জন। তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৯ জন সরে দাঁড়ান নির্বাচন থেকে। নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থায় আরেক প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ফারুকও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন বুধবার। সব মিলিয়ে ১২শ থেকে ১৩শ সদস্য প্রতিষ্ঠানের বেসিসের নির্বাহী কমিটির নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা ৩০ জন। এই নির্বাচনে সহযোগী ও সাধারণ সদস্য মিলিয়ে ভোটারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাতশ।
জানা যায়, বেসিসের আগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল গত বছরের জুলাই মাসের দিকে। কিন্তু বিভিন্ন ‘কূটচালে’ সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই মেয়াদে তিন থেকে চার বার বেসিস নির্বাচন পেছানো হয়েছে সুকৌশলে।
বেসিসের বর্তমান সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির বলছেন, বেসিসের সিনিয়র নেতা মাহবুব জামান, নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এস এম কামাল ও শোয়েব আহমেদ মাসুদকে সঙ্গে নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করিয়ে এনেছেন। সংগঠনের অস্তিত্বের প্রশ্নেই তারা ৩১ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি এনেছেন।
আলমাস কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেসিস সদস্যদের অক্লান্ত ভালোবাসার বন্ধনের কাছে কুচক্রীমহলের চক্রান্ত জয়ী হতে পারেনি। জয়ী হয়েছে প্রাণের সংগঠনের অস্তিত্ব রক্ষার্থে বেসিস সদস্যদের একযোগে জেগে ওঠা।’ নির্বাচন নিয়ে সব সংশয়কে জয় করে সবাইকে নির্বাচন উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বেসিস নির্বাচন নিয়ে এরই মধ্যে তিনটি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে— টিম হরাইজন, উইন্ড অব চেঞ্জ ও টিম বিজয়। প্যানেল ঘোষণার পাশাপাশি ইশতেহারও প্রকাশ হয়েছে। কেবল নির্বাচনটাই ছিল অনিশ্চয়তার মুখে।
পলিসি নিয়ে কাজ করতে চান ফাহিম মাশরুর
বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। প্রতিশ্রুতি, উদ্যোগ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের কথা জানতে চাইলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “বেসিসকে নিয়ে আমার কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। পলিসি লেভেলে কাজ করাকে আমি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবো। ‘বিটুবি’, ‘বিটুজি’র মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়া বেসিসকে তিনি আইটি সার্ভিস দিয়ে ‘এন্ড কনজ্যুমার’ তথা ভোক্তা পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই।” এবারের নির্বাচনে নিজের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ফাহিম মাশরুর ইন্টারনেটের দাম ও নেট নিউট্রালিটি (নিরপেক্ষতা) নিয়েও কাজ করতে চান।
বেসিস নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা সম্পর্কে ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘এটা খুব বাজে একটি দৃষ্টান্ত। গত কয়েক বছর যারা ইসি কমিটিতে ছিলেন, তাদেরই এর দায়-দায়িত্ব নিতে হবে। নামসর্বস্ব, প্যাডসর্বস্ব কিছু কোম্পানি বেসিসের সদস্য হওয়ার পর থেকেই এসব ঝামেলার শুরু। সদস্য পদ দেওয়ার আগে কোম্পানি কী কী কাজ করেছে, তার সাফল্যের হার কত, অফিসের অবস্থান কী, কর্মীর সংখ্যা কত— এ বিষয়গুলো দেখতে হবে। তা না হলে আগামীতে আরও ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হবে।’
গ্রোথ ইকো সিস্টেম তৈরিতে কাজ করবে ‘টিম হরাইজন’
গ্রোথ ইকো সিস্টেম নিয়ে কাজ করতে চায় বেসিসের বর্তমান সভাপতির নেতৃত্বাধীন ৮ সদস্যের প্যানেল টিম হরাইজন। এই প্যানেল বেসিস সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অ্যাকসেস টু ফিন্যান্স, স্থান সংকুলান, বিজনেস প্রসেস ডেভেলপমেন্ট, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, দক্ষ জনশক্তি, মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিংয়ে সহযোগিতা দিতে চায়।
বেসিসকে নতুন উচ্চতায় নিতে চায় ‘উইন্ড অব চেঞ্জ প্যানেল’
বেসিস নির্বাচনে ৮ প্রার্থীর আরেক প্যানেল উইন্ড অব চেঞ্জের নেতৃত্বে রয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা ও জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহা। বাংলাদেশ উইমেন ইন আইটির (বিডাব্লিউআইটি) সভাপতিও তিনি। লুনা শামসুদ্দোহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেসিসকে নতুন উচ্চতায় নিতে হলে নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন। এজন্য দরকার অভিজ্ঞ ও উদ্যমী কর্মী। এসব বিষয় মাথায় রেখেই এই খাতের সফল ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে আমাদের প্যানেল সাজানো হয়েছে।’
উন্নয়নের ধারায় ঐক্যবদ্ধ স্লোগান ‘টিম বিজয়ে’র
টিম বিজয় প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফ্লোরা টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, এই প্যানেল জয়ী হলে বেসিস সদস্যদের জন্য ফান্ডিংয়ের (তহবিল) ব্যবস্থা করা হবে। সদস্যরা যেন বিনাসুদে বা স্বল্প সুদে ব্যবসার জন্য ঋণ পান, তার ব্যবস্থা করতেও পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান তিনি।

/টিআর/

লাইভ

টপ