‘প্রস্তাবিত বাজেট মোবাইল সেট উৎপাদনের চেয়ে আমদানিবান্ধব’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৪৪, জুন ০৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৮, জুন ০৯, ২০১৮

 



সংবাদ সম্মেলনপ্রস্তাবিত বাজেটের সঙ্গে জারিকৃত মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের কয়েকটি শর্ত দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট সংযোজন ও উৎপাদন শিল্পের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করছে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিএ)। দেশের মোবাইল ফোন সংযোজনের চেয়ে আমদানিতে অনেক বেশি ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির নেতাদের। শনিবার (৯ জুন) বিকালে কাওরান বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন সংগঠনটির নেতারা।



বিএমপিএ’র সভাপতি ও ফেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান রুহুল আলম আল মাহবুব বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনের শর্ত (ক) অনুযায়ী শুধুমাত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতামুক্ত থাকবে, সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান নয়। অথচ গত অর্থবছরের বাজেটের সময় জারি করা প্রজ্ঞাপনে সংযোজন এবং উৎপাদনকারী উভয় প্রতিষ্ঠানকেই ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা হয়েছিল।’
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও বিপত্তির মধ্যে পড়তে হবে বলে মনে করেন রুহুল আলম আল মাহবুব। তিনি বলেন, ‘উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে চার্জার, ব্যাটারি, প্রিন্টেট সার্কিট বোর্ড (পিসিবি) উৎপাদনের সক্ষমতা থাকতে হবে এবং এসব উৎপাদনের যন্ত্রপাতি কারখানায় থাকতে হবে। এর মানে এ ৪টি বিষয় না থাকলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য হবে না। অথচ বিশ্বের কোনও মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ব্যাটারি-চার্জার তৈরি করে না।’
প্রস্তাবিত বাজেটের সঙ্গে জারিকৃত মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন সংশোধনের দাবি জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রানসন বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘গত বছরের প্রজ্ঞাপন সুবিধার কারণে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দ্রুততম সময়ে সংযোজন কারখানা স্থাপন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্যামসাং, সিম্ফনি, আইটেল, ওয়াল্টন ও উই। এই কারখানাগুলোতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং কয়েক হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে, যা অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। কোম্পানিগুলো বিশাল বিনিয়োগ করে কারখানা স্থাপন করেছে, সেখানে মাত্র ১ বছরের মধ্যে অতিরিক্ত ১৫% ভ্যাট আরোপ করার কারণে পূর্ণাঙ্গ মোবাইল আমদানির খরচের চেয়ে স্থানীয়ভাবে সংযোজিত মোবাইলের খরচ বেশি পড়বে। আমদানিতে ভ্যাট, ট্র্যাক্সসহ ৩১ দশমিক ১ শতাংশ খরচ হবে, অন্যদিকে দেশে সংযোজন করলে খরচ হবে ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ। এর ফলে কোনোভাবেই এই সংযোজন শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এডিসন গ্রুপ চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ, ইউনিয়ন গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রকিবুল কবির, বিএমপিআইএ সধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

 

/সিএ/এইচআই/

লাইভ

টপ