আসছে ফাইভ-জি ‘ওয়্যারলেস’ প্রযুক্তি

Send
টেক ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:৫৪, জুলাই ০৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫৪, জুলাই ০৯, ২০১৮

ওয়াই-ফাই সংযুক্ত ডিভাইসবর্তমানে সর্বাধুনিক উন্নয়নের কথা বলা হয় নতুন প্রযুক্তিকে ভিত্তি করে। এসব উন্নয়ন সমাজ থেকে সব ধরনের অশুভ শক্তি দূর করবে বলেও আশা করা হয়। এগুলো বিবেচনায় নিয়ে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কের আওতায় ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে ওয়াই-ফাই অ্যালায়েন্স।

এই অ্যালায়েন্সের উদ্দেশ্য হলো, যেকোনও স্থানের সবাইকে এবং সবকিছুকে ওয়াই-ফাইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করা। কারণ, দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াই-ফাই অ্যালায়েন্স। তাই সবাইকে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করার বিকল্প নেই।

শুরুতে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত বিষয়ে ওয়াই-ফাই অ্যালায়েন্সের উদ্বেগ না থাকলেও পরবর্তীতে তাদের বিপরীত অবস্থান দেখা গেছে। এ সময় তারা জানায়, বিশ্বে মানুষের চেয়ে ওয়াই-ফাই ডিভাইসের সংখ্যা বেশি। এখানেই মূল সমস্যা জড়িত, যা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

১৮৯৫ সালে এক্সরে আবিষ্কারের পর আরও নতুন অনেক প্রযুক্তির উদ্ভাবন ঘটেছে। কিন্তু কোনও প্রযুক্তিই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি এড়াতে পারেনি।

১৯৯৭ সালের আগে শিল্পোন্নত দেশগুলোতে যখন ওয়াই-ফাই সাপোর্টেড ডিভাইসের বাণিজ্যিক প্রচলন শুরু হয়, তখন ইএমএফ ওয়াই-ফাই হটস্পট সব জায়গায় ছিল। বর্তমানে সেল ও কর্ডলেস ফোন, টাওয়ার, সম্প্রচার অ্যান্টেনা, স্মার্ট মিটার ও কম্পিউটার ওয়াই-ফাই দিয়ে সবাই আবৃত। বয়স্ক থেকে শুরু করে কোমলমতী শিশুরাও সব সময় এসবের মধ্যেই থাকে। তারপরও এসব নিয়ে তেমন কোনও উদ্বেগ দেখা যায় না।

যুক্তরাষ্ট্র স্বাস্থ্য বিভাগের শাখা হিসেবে দ্য ন্যাশনাল টক্সিকোলজি প্রোগ্রাম (এনটিপি) রেডিওফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশনের ওপর বিশ্বের সবচেয়ে বড় গবেষণাটি পরিচালনা করেছে। ওই গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের টেলিকমিউনিকেশন শিল্পে ব্যবহৃত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশনের কারণে ব্রেইন এবং হার্ট ক্যান্সার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে।

এনটিপির ওই গবেষণায় মোবাইল ও ওয়্যারলেস ফোন ব্যবহার এবং এর ফলে মানুষের ব্রেইন ক্যান্সারের ঝুঁকির যে সম্পর্ক রয়েছে তা তুলে ধরা হয়। এছাড়া এতে মানুষের সার্বিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে বেশিরভাগ মানুষই ভাবছে না।

বিভিন্ন গবেষণা ও পরীক্ষ-নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখা গেছে, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডস (ইএমএফ) এর চেয়ে ফাইভ-জি ওয়্যারলেস প্রযুক্তি নিরাপদ। ইএমএফ মানুষ ও পরিবেশের জন্য বেশি ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত। সেই তুলনায় ফাইভ-জি অনেকটাই নিরাপদ বলে মনে করা হচ্ছে।

ফাইভ-জি ওয়্যারলেস প্রযুক্তি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন এটি প্রচুর পরিমাণ ডাটা সরবরাহ করতে পারে। অল্প দূরত্বে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করবে এই ওয়্যারলেস প্রযুক্তি। তবে সলিড ম্যাটেরিয়াল বা কঠিন পদার্থের ক্ষেত্রে এর কাজের গতি কমবে।

ফাইভ-জি ওয়্যারলেস প্রযুক্তি চালু হলে অনেক অ্যান্টেনা স্থাপনের প্রয়োজন হবে। শহরাঞ্চলে প্রতি ১০-১২টি বাড়ি পর পর এই ধরনের অ্যান্টেনা স্থাপন করতে হবে। এর মাধ্যমে এটা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে।

ডাটা পরিবহনে সক্ষম এমন সব ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত করা যাবে ওয়্যারলেস ফাইভ-জি প্রযুক্তি। সব ধরনের স্মার্ট ডিভাইস, যানবাহন এমনকি একটি শহরকেও এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে। ফলে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আসবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

সূত্র: গ্লোবাল রিসার্চ

/এইচএএইচ/

লাইভ

টপ